জঙ্গিদের নিশানায় কি ছিল জামশেদপুরও— স্বাধীনতা দিবসের পর দিন বেলডিহ কালীবাড়ির কাছে আর্বজনার স্তূপে বিস্ফোরণের তদন্ত করতে গিয়ে এমনই আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে জেলার পুলিশকর্তাদের একাংশের মনে। তবে সরাসরি মুখ খুলছেন না কেউ-ই। ইস্পাতনগরীর রাস্তাঘাটে দাবিহীন কোনও সামগ্রী দেখলে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য প্রচার চলছে।
ওই জল্পনার মধ্যেই আজ বিস্ফোরণস্থল ঘুরে দেখেছেন এনআইএ তদন্তকারীরা। তাঁরা মনে করছেন, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখান থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে এনআইএ।
১৬ অগস্ট রাতে কালীবাড়ি এলাকায় আবর্জনা ফেলার জায়গায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়। গত কাল পুলিশের বম্ব স্কোয়াড বিভাগের বিশেষজ্ঞরা বিস্ফোরণস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি বাক্সের মধ্যে কয়েকটি ব্যাটারি দেখতে পান। সেগুলি দ্রুত ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার পর তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরকটি যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।
এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ-প্রশাসন। খবর যায় এনআইএ-র কাছে। বিস্ফোরণস্থলের লাগোয়া জেলার ডেপুটি কমিশনার অমিতাভ কৌশল ও এসএসপি অনুপ টি ম্যাথিউয়ের বাসভবন। কাছাকাছি রয়েছে নামী একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলও। পুলিশকর্তাদের একাংশের বক্তব্য, সকাল বা সন্ধেয় বিস্ফোরণ হলে প্রাণহানিও হতে পারত।
জেলার এসএসপি অবশ্য বলছেন, ‘‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বিস্ফোরকটির নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। শহরবাসীর কাছে আবেদন, দাবিহীন কোনও ব্যাগ বা অন্য সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখলে তাঁরা যেন দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।’’ তবে কী জঙ্গিহানার আশঙ্কা পুলিশ উড়িয়ে দিচ্ছে না? জামশেদপুরের সিটি এসপি চন্দন ঝা’র জবাব— ‘‘সে সব এখনই কিছু বলা যাবে না। ঝাড়খণ্ড পুলিশের বম্ব স্কোয়াডের পাশাপাশি অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য এনআইএ-র তদন্তকারীরা সব খতিয়ে দেখছেন।’’