IPL 2026

কাজে এল না রাহুলের ৯২ রানের ইনিংস, মিলারের ঝড়, নাটকীয় ম‍্যাচে দিল্লিকে ১ রানে হারিয়ে প্রথম জয় শুভমনের গুজরাতের

প্রথম দু’ম্যাচে হারের পর তৃতীয় ম্যাচে জয় পেল গুজরাত টাইটান্স। কাজে এল না দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে লোকেশ রাহুলের লড়াই। ঘরের মাঠে হেরে গেলেন অক্ষর পটেলেরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩৯
Share:

গুজরাত টাইটান্সের ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: পিটিআই।

আইপিএলে তৃতীয় ম্যাচেও জয় পেল গুজরাত টাইটান্স। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ১ রানে হারলেন শুভমন গিলেরা। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২১০ রান করে গুজরাত। জবাবে দিল্লির ইনিংস শেষ হল ৮ উইকেটে ২০৯ রানে। লোকেশ রাহুলের ৯২ রানের লড়াকু ইনিংস কাজে এল না। ব্যর্থ ডেভিড মিলারের আগ্রাসী ৪৩ রানের ইনিংসও। নাটকীয় ম্যাচের ফলাফল এল শেষ বলে। ওই বলে জয়ের জন্য ২ রান দরকার ছিল দিল্লির। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বাউন্সারে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি মিলার। মরিয়া হয়ে ১ রান নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি এবং কুলদীপ যাদব। কিন্তু কুলদীপ রান আউট হয়ে গেলেন। ম্যাচও হেরে গেল দিল্লি।

Advertisement

দিল্লি অবশ্য ম্যাচ বাঁচাতেও পারত। ২০ তম ওভারের পঞ্চম বলে ১ রান নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু কুলদীপকে শেষ বল খেলতে দিতে চাননি মিলার। তাই রান নেননি তিনি। ওই বলে রান নিলে ম্যাচ সুপার ওভারে যেতে পারত। তাতে জয়ের সুযোগ থাকত দিল্লির সামনেও। ভাল ব্যাট করেও মিলার এই সিদ্ধান্তের জন্য সমালোচিত হতে পারেন।

জয়ের জন্য ২১১ রান তাড়া করতে নেমে ঘরের মাঠে একটু ধীরে শুরু করেন দিল্লির ব্যাটারেরা। পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর আগ্রাসী ব্যাটিং করলেন পাথুন নিশঙ্ক, লোকেশ রাহুলেরা। নিশঙ্ক করেন ২৪ বলে ৪১। ৬টি চার এবং ১টি ছক্কা মারেন। তিনি আউট হওয়ার পর দিল্লি কিছুটা চাপে পড়ে যায়। পর পর দু’বলে রশিদ আউট করে দেন নীতীশ রানা (৫) এবং সমীর রিজ়ভিকে (০)। ফলে ১ উইকেটে ১০১ থেকে দিল্লি হঠাৎ ৩ উইকেটে ১০১ হয়ে যায়।

Advertisement

চাপের মুখে পরিস্থিতি সামাল দেন অভিজ্ঞ রাহুল। তাঁর সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন ডেভিড মিলার। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার খেলতে পারলেন না। রান নিতে গিয়ে চোট পান তিনি। ১২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন। এর পর থেকে দিল্লির ওভার প্রতি রান তোলার লক্ষ্য ক্রমশ বাড়তে থাকে। অক্ষর (২) দলকে ভরসা দিতে পারলেন না। তাঁকেও আউট করেন রশিদ। গুরুত্বপূর্ণ সময় রান আউট হয়ে গেলেন ট্রিস্টান স্টাবসও (৭)। ২২ গজের এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান রাহুল। স্টাবস আউট হওয়ার পর কিছুটা বাধ্য হয়ে আবার নামতে হয় মিলারকে। কিন্তু লাভ হল না। রাহুলকে আউট করে দিলেন সিরাজ। ৫২ বলে ৯২ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। ১১টি চার এবং ৪টি ছয়ের সাহায্যে নিজের ইনিংস সাজালেন। শেষ দিকে মরিয়া চেষ্টা করলেন মিলার। কিন্তু দলকে জেতাতে পারলেন না। ইনিংসের শেষ দু’টি বলে রান নিতে পারলেন না প্রোটিয়া ব্যাটার। ২০ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকলেন। মারলেন ৩টি চার ৩টি ছয়।

গুজরাতের সফলতম বোলার রশিদ। তিনি ১৭ রানে ৩ উইকেট নিলেন। ৫২ রানে ২ উইকেট প্রসিদ্ধের। ৩২ রান দিয়ে উইকেট পেলেন না কাগিসো রাবাডা। ৫২ রানে ১ উইকেট সিরাজের। দিল্লির ইনিংসের ১৯তম ওভারে জঘন্য বল করলেন সিরাজ। ২৩ রান দিলেন ওই ওভারে। অশোক শর্মা ৪৫ রান দিয়ে উইকেট পেলেন না। ১ ওভার বল করে ১১ রান দেন ওয়াশিংটন।

Advertisement

এর আগে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ কাজে লাগান শুভমনেরা। গুজরাতের ইনিংসকে ছন্দ দেন জস বাটলার। ২২ গজের এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেন অধিনায়ক শুভমন। বেশ কিছু দিন বাদে বাটলারকে চেনা মেজাজে দেখা গেল। সাই সুদর্শনকে (১২) আউট করে গুজরাতকে শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছিলেন মুকেশ কুমার। তিন নম্বরে নেমে রাশ ধরে নেন বাটলার। ২৭ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক। মারেন ৩টি চার এবং ৫টি ছয়। তাঁকে বোল্ড করেন কুলদীপ যাদব।

বাটলার আউট হওয়ার পর গুজরাতের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যায় শুভমন-ওয়াশিংটন সুন্দর জুটি। বাড়তি ঝুঁকি না নিয়ে ব্যাট করেন তাঁরা। শুভমনের ইনিংসে ছিল দায়িত্বের ছাপ। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৪৫ বলে ৭০ রানের ইনিংস। ৪টি চারের পাশাপাশি ৫টি ছক্কা মারেন গুজরাত অধিনায়ক। ওয়াশিংটন করেন ৩২ বলে ৫৫। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৬টি চার এবং ২টি ছয়। আইপিএলে এটাই প্রথম অর্ধশতরান তাঁর। শেষ পর্যন্ত ২২ গজে ছিলেন গ্লেন ফিলিপস (১৪) এবং রাহুল তেওটিয়া (১)।

দিল্লির বোলারদের মধ্যে কুলদীপ ৪২ রানে ১ উইকেট নেন। ২৪ রানে ১ উইকেট লুঙ্গি এনগিডির। টি নটরাজন ৩৪ রান দিয়েও উইকেট পাননি। ৫৫ রান দিয়ে ২ উইকেট মুকেশের। ৩২ রান দিলেও উইকেট পাননি দিল্লির অধিনায়ক অক্ষরও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement