ভাড়াটে শিক্ষকের মুখ চেয়েই বসে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা

হাইলাকান্দি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ভাড়াটে শিক্ষকদের উপরেই নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। এবং এই অভিযোগকে সামনে রেখে আন্দোলনে নেমেছে ছাত্র সংগঠন পিএসওয়াইএফ।

Advertisement

অমিত দাস

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০১৬ ০৩:৪৩
Share:

হাইলাকান্দি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ভাড়াটে শিক্ষকদের উপরেই নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। এবং এই অভিযোগকে সামনে রেখে আন্দোলনে নেমেছে ছাত্র সংগঠন পিএসওয়াইএফ। তাঁদের বক্তব্য, জেলার অধিকাংশ প্রাথমিক স্কুলে হয় স্থায়ী শিক্ষক নেই, তা না হলে যাঁরা আছেন তারা নিয়মিত স্কুল করেন না। পরিবর্তে সামান্য মাসোহারা দিয়ে ভাড়াটে শিক্ষক নিয়োগ করে নিজেদের কাজ চালাচ্ছেন ওই সব শিক্ষক। অভিযোগ, এটাই এখন জেলাজুড়ে স্বাভাবিক ঘটনা।

Advertisement

সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে ছাত্র সংগঠনের তরফে জেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। খোদ জেলাশাসকের হস্তক্ষেপ দাবিও করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি যে তমিরি সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে।

হাইলাকান্দি জেলা পিএসওয়াইএফের সভাপতি ইকবাল বাহার বড়ভুইয়ার বক্তব্য, হাইলাকান্দির শিক্ষা বিভাগের অবস্থা একেবারেই বেহাল। তিনি বলেন জেলার কাটলিছড়া ব্লকের অসম-মিজোরাম সীমাবর্তী অসংখ্য বিদ্যালয় পরিতাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মিজোরাম সীমায় সর্বশিক্ষা অভিযান কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষক আসেন না। মাসিক মাত্র দু’হাজার টাকার বিনিময়ে ‘ভাড়াটে শিক্ষক’ দিয়ে স্থায়ী শিক্ষকরা বিদ্যালয় চালাচ্ছেন হচ্ছে বলে স্থানীয় মানুষেরও অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মীদের একাংশ হাইলাকান্দির বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভাড়াটে শিক্ষক রাখার প্রথা চালু করে রীতিমতো ব্যবসা চালাছেন বলেও পিএসওয়াইএফ নেতৃত্বের অভিযোগ।

Advertisement

কাটলিছরায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মিড ডে-মিল পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে বড়ভুইয়ার অভিযোগ। হাইলাকান্দির বলদাবলদি গ্রামের ৯৭৮ নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানোয়ারা বেগম চৌধুরী নামের এক মহিলা বিদ্যালয় চালাচ্ছেন। তিনি জানান, তাঁকে ভাড়াটে হিসেবে রাখা হয়েছে। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজিরা খাতুন লস্কর স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। গ্রামের মানুষ জানান, অধিকাংশ দিনই ভাড়াটে শিক্ষক বিদ্যালয় চালান। কখনও কখনও, বিশেষ করে মাসের প্রথম দিকে দু-একদিন স্থায়ী শিক্ষকরা আসেন। বলদাবলদি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই ছবি। সেখানে আফরোজা বেগম নামের এক ভাড়াটে শিক্ষক বিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন্ত চন্দ্র দাস জানান, ‘‘বিদ্যালয়ে প্রায় দেড়শো জন ছাত্রের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে একজন ভাড়াটে শিক্ষক রেখেছেন।’’ বলদাবলদি জুনিয়র বেসিক বিদ্যালয়-সহ অনেক বিদ্যালয়েই ভাড়াটে শিক্ষক দিয়ে শিক্ষাদান চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকার বহু বিদ্যালয়ের কোনও অস্তিত্বই কার্যত নেই। এমন কী এই শিক্ষাব্লকের পাঁচপীর মোকাম প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তির বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা কোথায়, কী করছেন তা জানেন না এলাকার মানুষ।

কাটলিছড়া শিক্ষাব্লকের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতে শোধরাতে জেলাশাসক ও জেলার শিক্ষা আধিকারিরিকের কাছে বারবার আর্জি জানিয়েছে পিএসওয়াইএফ। অন্য দিকে, ছাত্র সংস্থাটির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাটলিছড়া শিক্ষাব্লকের প্রাথমিক শিক্ষাধিকারিক শৈলেন রায়। তাঁর বক্তব্য,নানা বিদ্যালয়ের শিক্ষক এন আর সি-র কাজে যুক্ত থাকায় অস্থায়ী শিক্ষক রেখে বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন চালাতে হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement