ভণ্ড মোদী মন্ত্রীদের সরান, বলল কংগ্রেস

বিলেতে গিয়ে অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর মনোভাবের কথা জানিয়েই নিস্তার পেলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! বরং ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে যখন তাঁকে ঘিরে অনাবাসী ভারতীয়রা উচ্ছ্বাসে ভাসছেন, তখনই কংগ্রেস মন্তব্য করল, প্রধানমন্ত্রী ভণ্ড। তিনি বলছেন, অসহিষ্ণুতা বরদাস্ত করা হবে না, এর থেকে বড় ভণ্ডামি আর কী হতে পারে!’ কংগ্রেস সূত্রের খবর, সরাসরি রাহুল গাঁধীর নির্দেশেই আজ এ ভাবে আক্রমণ শানানো হয়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:২১
Share:

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মোদী। ছবি: রয়টার্স।

বিলেতে গিয়ে অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর মনোভাবের কথা জানিয়েই নিস্তার পেলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! বরং ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে যখন তাঁকে ঘিরে অনাবাসী ভারতীয়রা উচ্ছ্বাসে ভাসছেন, তখনই কংগ্রেস মন্তব্য করল, প্রধানমন্ত্রী ভণ্ড। তিনি বলছেন, অসহিষ্ণুতা বরদাস্ত করা হবে না, এর থেকে বড় ভণ্ডামি আর কী হতে পারে!’ কংগ্রেস সূত্রের খবর, সরাসরি রাহুল গাঁধীর নির্দেশেই আজ এ ভাবে আক্রমণ শানানো হয়।

Advertisement

কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যদি প্রকৃত অর্থেই কথাগুলি বলে থাকেন তবে তার প্রমাণ দিন। অসহিষ্ণু ও বিভাজনকারী মন্তব্যের জন্য মন্ত্রিসভা থেকে ভি কে সিংহ, মহেশ শর্মা এবং সঞ্জীব বালিয়ানকে বরখাস্ত করুন। ব্যবস্থা নিন আরএসএস এবং বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধেও ।

দাদরি কাণ্ড থেকে শুরু করে দেশ জুড়ে একের পর এক অসহিষ্ণুতার ঘটনা যখন সামনে এসেছে, বহু প্রতিবাদেও মুখ খোলেননি মোদী। কিন্তু গত কাল বিলেতে অসহিষ্ণুতা নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ার ঝাঁঝালো প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তখন একপ্রকার বাধ্য হয়েই মোদী দাবি করেন, এমন ঘটনা তিনি বরদাস্ত করেন না।

Advertisement

কংগ্রেস সূত্রের খবর, রাহুল মনে করেন, ব্রিটেনে গিয়ে শুধু বুদ্ধ-গাঁধীর দোহাই দিয়েই পার পেতে পারেন না মোদী। ফলে তাঁর নির্দেশেই রাজ্যসভায় কংগ্রেসের উপ-দলনেতা আনন্দ শর্মা আজ সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘‘এটা হল ‘টিপিক্যাল’ মোদীর ভণ্ড চরিত্রের দৃষ্টান্ত। দেশের বাইরে গিয়ে তাঁর বুদ্ধ-গাঁধীর কথা মনে পড়েছে। বিজেপি এবং আরএসএসের যে নেতারা লাগাতার কুমন্তব্য করে চলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূর, মোদী এ সবের নিন্দাটুকুও করেননি! কেন? কে ওঁর হাত বেঁধে রেখেছিল?’’

সন্দেহ নেই, সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনেও এই প্রসঙ্গ তুলবে কংগ্রেস। সেই সঙ্গে মন্ত্রিসভা থেকে ওই তিন মন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে চাপ তৈরি করতে চাইবে। এবং সেই আশঙ্কা থেকেই সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আজ কটাক্ষের সুরেই বলেন, ‘‘অসহিষ্ণুতা বা অন্য যে কোনও প্রসঙ্গ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে কোনও বাধা নেই। তবে তার জন্য বিরোধীদেরও সহিষ্ণু হওয়া দরকার।’’

Advertisement

আর্থিক প্রসঙ্গেও আজ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বিদেশে সফরে থাকলে দেশে তাঁর সমালোচনা না করাই দস্তুর। সেই সঙ্গে এটাও দস্তুর ছিল যে, প্রধানমন্ত্রীও বিদেশ সফরের সময় ঘরোয়া রাজনীতির বিরোধীদের সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। কিন্তু সেই রীতি মোদী নিজেই ভেঙে দিয়েছেন। কংগ্রেসও এখন বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রীকে কোনও প্রসঙ্গেই ছাড় দিতে রাজি নয়।

আনন্দ শর্মা এ দিন বলেন, ‘‘আর্থিক বিষয়েও বিদেশে গিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে নাকি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই ছিল না। আসলে উল্টো কথা বলছেন মোদী। আগেই বরং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের একটা বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদা ছিল। এখন কেন্দ্রে যে সরকার চলছে তারই কোনও সুনির্দিষ্ট নীতি নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বৈরাচারী। ফলে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা সঙ্কটে পড়েছে। তা ছাড়া, ব্রিটেনের সড়কে কাল প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে বিদেশেও তাঁর প্রতি আস্থা কমছে মানুষের।

মোদীর ব্রিটেন সফরের আগে গত মঙ্গলবার ১৫টি ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নির দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত কাল সে কথাও ব্রিটেনে দাঁড়িয়ে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে আনন্দ শর্মার বক্তব্য, এটাও মোদীর বলা উচিত ছিল যে, অতীতে তিনি ও তাঁর দলের নেতৃত্বই এই সংস্কারের কাজে বাধা দিয়েছিলেন। কংগ্রেস নেতৃত্ব এ-ও জানিয়ে দেন, সার্বিক ভাবে বিদেশি লগ্নির দরজা খোলার প্রশ্নে কংগ্রেসের আপত্তি নেই। কারণ, কংগ্রেসই এর প্রবক্তা। কিন্তু সংবাদ চ্যানেলে বিদেশি বিনিয়োগের মাত্রা বাড়ানো নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। সংসদে এ কথা তুলবে তারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement