বাজারে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে সে সব সামগ্রীই সুলভ দামে বাংলাদেশে রফতানি করা হচ্ছে। তার প্রতিবাদে আজ করিমগঞ্জের কালীবাড়ি ফেরিঘাটে রফতানি প্রক্রিয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ করল ‘প্রতিবাদ’ সামাজিক সংস্থা।
করিমগঞ্জে সুতারকান্দি স্থল বন্দর এবং কালীবাড়ি রোডের ফেরি কাস্টমস দিয়ে বাংলাদেশে রফতানি চলে। আজ ওই সংস্থার আন্দোলনে সামনে আসে অনেক তথ্য। বাংলাদেশে যে সব কাঁচামাল রফতানি করা হয়, সেগুলির দাম ঠিক করেন ব্যবসায়ীরাই। সরকারের কোনও ভূমিকা থাকে না। এ কথা আন্দোলনকারীদের জানান করিমগঞ্জের কালীবাড়ি ঘাট ফেরি বন্দরের কাস্টমস সুপার এ কে চক্রবর্তী।
এ দিন সকালে কালীবাড়ি কাস্টমস ঘাট দিয়ে শুকনো মাছ বাংলাদেশে রফতানি করা হচ্ছিল। তখনই সংস্থার তরফে আন্দোলন শুরু করা হয়। সংগঠনের সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, দাড়িপাল্লায় কেন মাছের বস্তাগুলো ওজন করা হচ্ছে না? এ বিষয়ে কাস্টমস অফিসের কর্মী কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। আন্দোলনকারীরা ফেরি কাস্টমস সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা জানতে পারেন, এ দিন যে শুকনো মাছ রফতানি করা হচ্ছে তার দাম প্রতি কিলোগ্রাম ৪০ টাকা। করিমগঞ্জ বা অসমের বাজারে শুকনো মাছের দাম কিলোপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শুল্ক বিভাগের আধিকারিককে ঘেরাও করে প্রতিবাদ দেখান।
তাঁরা জানতে চান, কী করে ৩০০-৪০০ টাকার মাছ বাংলাদেশে ৪০ টাকায় রফতানি করা হয়? এতে ভারত বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে। রফতানিকারককেও কম আয়কর এবং বিক্রয়কর দিতে হচ্ছে। বিক্ষোভের জেরে প্রায় ৭ ঘণ্টা ফেরি কাস্টমস দিয়ে রফতানি বন্ধ রাখা হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, আগামী কাল এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শুল্ক বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হবে। তাঁদের অভিযোগ, শুকনো মাছের গুঁড়ো পাঠানোর জন্য ওই দাম ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু আদতে গোটা শুকনো মাছই ওই দামে বাংলাদেশে রফতানি করা হচ্ছে।
শুল্ক বিভাগের আধিকারিক এ কে চক্রবর্তী জানান, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।