লিগ্যাল সেলের নির্দেশ শুনে পলাতক পূর্ত বিভাগের বাস্তুকার

জেলা আইন আয়োগের (ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সেল) আদেশ অমান্য করায় পূর্ত বিভাগের বাস্তুকার, সহকারী বাস্তুকারকে দু’দিনের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন বিভাগের সচিব শাহ সৈয়দ আহাদুর রহমান। করিমগঞ্জ জেলার আইন আয়োগ সচিবের আদেশ শুনে আদালত চত্বর থেকে গা ঢাকা দিলেন দুই অভিযুক্ত। করিমগঞ্জ জেলার লঙ্গাই-চান্দখানি পূর্ত সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:০৫
Share:

জেলা আইন আয়োগের (ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সেল) আদেশ অমান্য করায় পূর্ত বিভাগের বাস্তুকার, সহকারী বাস্তুকারকে দু’দিনের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন বিভাগের সচিব শাহ সৈয়দ আহাদুর রহমান। করিমগঞ্জ জেলার আইন আয়োগ সচিবের আদেশ শুনে আদালত চত্বর থেকে গা ঢাকা দিলেন দুই অভিযুক্ত। করিমগঞ্জ জেলার লঙ্গাই-চান্দখানি পূর্ত সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় জনতা এ নিয়ে প্রতিবাদও করেছিলেন। এলাকাবাসীর তরফে মহাশ্বেতা চক্রবর্তী, ভূষণ গুপ্ত, বিধান দাস, আব্দুল জলিল, আব্দুল রউফ, সেলিম আহমেদ, রাজুতোষ দেব-সহ প্রায় ৯০ জন করিমগঞ্জের জেলা আইন আয়োগের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। আয়োগের সচিব শাহ সৈয়দ আহাদুর রহমান লঙ্গাই-চান্দখানি পূর্ত সড়কের কাজ পরিদর্শন করেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি পূর্ত বিভাগের বাস্তুকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ। এর পরই সহকারী বাস্তুকার ও বাস্তুকারকে যাবতীয় তথ্য নিয়ে আয়োগে হাজির হতে বলা হয়।

Advertisement

বাস্তুকার ফইজ আহমেদ এবং সহকারী বাস্তুকার মৃণ্ময় নাথ আজ আয়োগে আসেন। সচিব তাঁদের কাছে জানতে চান, কাজ বন্ধ রাখার জন্য জেলা আইন আয়োগের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন তা করা হল। বাস্তুকার জানান, কাজ বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের তরফ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা নির্দিষ্ট ঠিকাদারের কাছে পাঠানো হয়নি। আয়োগের আদেশ অমান্য করায় দুই সরকারি আধিকারিককে দু’দিনের জন্য হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ ঘোষণার পর প্রায় আধঘন্টা সরকারি দুই আধিকারিক আদালত চত্বরে থাকলেও, পরবর্তীতে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।

জেলা আইন আয়োগের আদেশ ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে চর্চা ছড়ায়। কারণ বরাক উপত্যকায় জেলা আইন আয়োগের এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নজির কার্যত নেই। আইনজীবীদের একাংশের মতে, বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে সচিব কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেন না। অন্য আইনজীবীরা বলেন, কাজ বন্ধ রাখার জন্য আয়োগ নির্দেশ দিয়েছিল। তা অমান্য করা ঠিক হয়নি। আয়োগের তরফে এই পদক্ষেপ আইনসিদ্ধ।

Advertisement

আদালত চত্বর থেকে দুই সরকারি আধিকারিকের গা ঢাকা দেওয়ার বিষয়ে কয়েক জন আইনজীবী জানান, বাস্তুকার ফইজ আহমেদ এবং সহকারী বাস্তুকার মৃণ্ময় নাথ আত্মগোপন করে ঠিক করেননি। এতে তাঁদের বিরুদ্ধে আয়োগের কার্যালয় থেকে পালিয়ে যাওয়ার ধারাও জুড়ে যেতে পারে। দুই সরকারি আধিকারিককে হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার জন্য করিমগঞ্জ সদর থানার পুলিশ এসেছিল। কিন্তু তাঁরা সরকারি আধিকারিকদের খুঁজে পাননি। বিষয়টি সচিবকে জানিয়ে পুলিশ চলে যায়। সাংবাদিকরা দুই বাস্তুকারের প্রতিক্রিয়া জানতে পূর্ত বিভাগে হাজির হলেও তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। আয়োগের আদেশের পর তাঁরা বিভাগের অন্যান্য কর্মী এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে চলে যান বলে পূর্ত বিভাগের তরফ থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়। তবে আয়োগের কার্যালয় থেকে দুই বাস্তুকারের আত্মগোপনের বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা জানা যায়নি। করিমগঞ্জ জেলা আইন আয়োগের কার্যালয়, জেলা দায়রা বিচারকের আদালতেই রয়েছে। এ দিন লঙ্গাই-চান্দখানি সড়কের ঠিকাদার আব্দুল লতিফের পরিবারের লোক ছাড়াও অন্যান্য ঠিকাদাররা সেখানে ভিড় জমান। করিমগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। টাকা না দিলে পূর্ত বিভাগের কাজের ঠিকা মেলে না বলে ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ। কাজের দরপত্র আহ্বান করার আগেই ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ শুরু করানোর নজির রয়েছে। অভিযোগ, জনপ্রতিনি‌ধিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকলে কোনও ঠিকাদার কাজের বরাত পান না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement