শিবরাজের রাজ্যে ভাষণ-বিপাকে অমিত, ঘরশত্রু খুঁজছে বিজেপি

ঘরশত্রু বিভীষণ কে? এখন তাঁকেই খুঁজে বেড়াচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বন্ধ ঘরে দলের কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন দলের সভাপতি অমিত শাহ। সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিষেধ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০১৫ ২০:৪১
Share:

ঘরশত্রু বিভীষণ কে?

Advertisement

এখন তাঁকেই খুঁজে বেড়াচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

বন্ধ ঘরে দলের কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন দলের সভাপতি অমিত শাহ। সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিষেধ। তার মধ্যেই কে সংবাদ মাধ্যমকে জানালেন, অমিত শাহ না কি বলেছেন আগামী ২৫ বছরেও ‘অচ্ছে দিন’, অর্থাৎ সুদিন আসবে না? আজ সংবাদমাধ্যমে তা ফলাও করে ছাপার পর বিরোধীরা হল্লা শুরু করেছে। লোকসভার আগে থেকে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এলেই যে ‘অচ্ছে দিন’ আসার কথা বলেছিলেন, সেটি এক ধাক্কায় আরও কুড়ি বছর পিছিয়ে দেওয়া হল? কিন্তু দলের নেতারা খুঁজছেন সেই ব্যক্তিকে, যিনি বন্ধ ঘরের খবর ‘বিকৃত’ করে বাইরে পাচার করেছেন। তা-ও আবার মধ্যপ্রদেশে। ব্যপম আক্রান্ত শিবরাজ সিংহ চৌহানের রাজ্যে।

Advertisement

অমিত শাহের বক্তব্য যে সত্যিই বিকৃত করা হয়েছে, তা বোঝানোর জন্য আজ সভাপতির নির্দেশে পীযূষ গয়ালের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বিজেপি-র সদর দফতরে এনে সাংবাদিক সম্মেলন করানো হয়। বন্ধ ঘরে দেওয়া অমিত শাহের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপিংও দেখানো হয়। যেটুকু অংশ দেখানো হয়েছে তাতে অবশ্য স্পষ্ট, অমিত শাহ এমন কথা বলেননি। বরং বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে দারিদ্র্য, বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি দূর হতে পারে, রোজগার দেওয়া যেতে পারে। সীমান্ত সুরক্ষিত করা যেতে পারে। কিন্তু ১৯৫০ থেকে ’৬৬ সাল পর্যন্ত যে ভাবে কংগ্রেস লাগাতার পঞ্চায়েত থেকে সংসদ— সব নির্বাচন জিতে এসেছে, ভারতকে ফের বিশ্বগুরু করার জন্য বিজেপি-কেও আরও পঁচিশ বছর ধরে সব নির্বাচন জিততে হবে।

গোটা বক্তৃতার যেটুকু অংশ দেখানো হয়েছে, তার আগে-পিছে কিছু ছিল কি না, তা অবশ্য জানাতে চাইছেন না বিজেপি নেতারা। বরং গোটা দায় প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের উপর চাপিয়ে তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শও দিচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে খুঁজে বেড়াচ্ছেন দলের সেই নেতা-কর্মীকে, যিনি অমিত শাহের গোপন বক্তব্যকে প্রকাশ্যে এনেছেন। দলের অনেকে এর পিছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধও পাচ্ছেন। কারণ, রাজ্যটি মধ্যপ্রদেশ। যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এখন ব্যপম কাণ্ডে নিশানায়। বিরোধীরা তো বটেই, খোদ নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক মধুর নয়। তার উপর সিবিআই তদন্ত শুরু হওয়ার পর গোটা রাশটি এখন রাজ্য থেকে কেন্দ্রের হাতে চলে গেল বলেই মনে করছে শিবরাজ শিবির। ফলে ব্যপম কাণ্ডের পর অমিত শাহ যখন মধ্যপ্রদেশে গেলেন, তখনই এমন একটি কাণ্ড ঘটল, যার জন্য বিজেপি সভাপতিই এখন সমালোচনার মুখে পড়লেন! ফলে গোটা কাণ্ডের নেপথ্যে কে, এখন সেই তদন্তেই নেমেছেন দলীয় নেতৃত্ব।

তবে দলের অনেক নেতার মতে, অমিত শাহ এমন কথা বলতেই পারেন। সাম্প্রতিক অতীতে প্রকাশ্য সমাবেশে এমন অনেক ভুলই করেছেন তিনি। যেমন কলকাতায় গিয়ে সরাসরি ২০১৯ সালের জন্য প্রস্তুতির কথা বললেন। তিনি কি বেমালুম ভুলে গেলেন, ২০১৬ সালেও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন আছে? গত সপ্তাহেই দিল্লিতে সদর দফতরে দাবি করে বসলেন, নরেন্দ্র মোদীই প্রথম ওবিসি প্রধানমন্ত্রী। অথচ সেটি সত্য নয়। এর আগে ক্ষমতায় এলে বিদেশের কালো টাকা উদ্ধার করে প্রতি অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে শুধরে বলেছিলেন, সেটি তো ‘জুমলা’। ফলে এখন তিনি ২৫ বছরে ‘অচ্ছে দিন’ আনার কথা বলে থাকবেন, এর মধ্যে অস্বাভাবিকতা কোথায়?

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement