শিল্পমহলকে শান্ত করতে উদ্যোগী কেন্দ্র

শুধু ‘ভোকাল টনিক’ নয়, অন্তত কিছু সংস্কারের কাজ যে এখনই করে দেখাতে হবে তা টের পাচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিহার ভোটে ধাক্কার পরদিনই শিল্পমহল ও শেয়ার বাজারের স্নায়ু শান্ত করতে দশ দফা কর্মসূচি তৈরি করল অরুণ জেটলির অর্থ মন্ত্রক।

Advertisement

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:৪৩
Share:

শুধু ‘ভোকাল টনিক’ নয়, অন্তত কিছু সংস্কারের কাজ যে এখনই করে দেখাতে হবে তা টের পাচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিহার ভোটে ধাক্কার পরদিনই শিল্পমহল ও শেয়ার বাজারের স্নায়ু শান্ত করতে দশ দফা কর্মসূচি তৈরি করল অরুণ জেটলির অর্থ মন্ত্রক।

Advertisement

নরেন্দ্র মোদী সরকার বুঝেেছ, সংসদে বিরোধীরা এ বার আরও এককাট্টা হবেন। সংস্কারের কর্মসূচিতে বাধা আসবে। তাই শিল্প ও লগ্নির রাস্তা সহজ করতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, এর মধ্যে রয়েছে আয়করের সরলীকরণ, কর্পোরেট কর কমানোর রূপরেখা, সুদ নীতি কমিটি গঠনের মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি অরুণ জেটলি, বেঙ্কাইয়া নায়ডুরা সংসদে বিরোধীদের সঙ্গে একমত হওয়ার চেষ্টা চালাবেন বলে ঠিক হয়েছে।

বিহার ভোটে ধাক্কার পর সোমবার শেয়ার বাজারে ধস নামবে, এমন আশঙ্কা ছিলই। সকালে সেই আশঙ্কা সত্যি হওয়ায় ‘গেল, গেল’ রব ওঠে অর্থ মন্ত্রকে। একের পর এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলতে থাকেন, আর্থিক সংস্কারের কর্মসূচি থেকে মোদী সরকার সরছে না। কিন্তু শুধু ‘ভোকাল টনিকে’ যে কাজ হবে না, অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা তা বুঝতে পারছিলেন। গত কাল শিল্পমহল যে ভাবে কড়া ভাষায় সব ছেড়ে মোদী সরকারকে সংস্কারে মন দিতে বলেছিল, তার পরেও দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। এখনই শিল্পমহলকে আশ্বস্ত করতে কী কী করা সম্ভব, তার একটি তালিকা তৈরি করে কাজে নেমে পড়েন অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা। শ্রম মন্ত্রক ও বাণিজ্য মন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গেও কথা বলে প্রাথমিক ভাবে দশ দফা কর্মসূচির তালিকা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি লগ্নির ছাড়পত্র দেওয়া, আইডিবিআই-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Advertisement

অরুণ জেটলির যুক্তি, ‘‘বিহার ভোটের ফলে সংস্কারে বাধা আসবে না। কারণ সংস্কারের অনেকটাই প্রশাসনিক স্তরে সিদ্ধান্ত নিয়ে করা হচ্ছে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতির সংস্কার, লাল ফিতের ফাঁস দূর করা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যত দ্রুত সম্ভব পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র ও বিদেশি লগ্নির অনুমতি দেওয়ার কাজগুলি প্রশাসনিক স্তরেই হচ্ছে।’’ অর্থমন্ত্রী জানান, কাঠামোগত সংস্কারের কাজও দ্রুত গতিতে চলবে। তবে সেখানে কিছু ক্ষেত্রে সংসদের সিলমোহরের প্রয়োজন পড়বে। আজই মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২৬ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলবে। এই অধিবেশনে জিএসটি, আবাসন নিয়ন্ত্রণ বিল, দেউলিয়া বিল পাশ করানোর চেষ্টা হবে। সংসদে বিরোধীদের হট্টগোলের আশঙ্কায় আজই সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নায়ডু বলে রেখেছেন, ‘‘বিহারের ভোট সংসদে অচলাবস্থা তৈরির জনাদেশ নয়।’’ এ কথা বললেও সংসদ চালানো যে সহজ হবে না, তা ভালই বুঝতে পারছেন মোদী-জেটলি। আর সেই কারণেই সংসদের বাইরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েই সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করছে অর্থ মন্ত্রক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement