স্যুট বিকোল ৪ কোটিতে

একেই বলে নাম-মাহাত্ম্য! এই নামের ঝড়েই লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া পতাকা উড়েছে, এই নামের টানেই জনতার ঢল নেমেছে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে। সেই নামের নকশা করা স্যুট নিলামে উঠলে তার মূল্য যে আকাশছোঁয়া হবে, এমনটাই তো প্রত্যাশিত। হলও তাই। সুরাতে তিন দিনের নিলামের শেষে নরেন্দ্র মোদীর নামাঙ্কিত স্যুটের দাম উঠল ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। কিনলেন গুজরাতের হিরে ব্যবসায়ী লালজিভাই পটেল ও তাঁর ছেলে হিতেশ।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:২০
Share:

মোদীর স্যুটের ক্রেতা লালজিভাই পটেল। সুরাতে। ছবি: পিটিআই।

একেই বলে নাম-মাহাত্ম্য!

Advertisement

এই নামের ঝড়েই লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া পতাকা উড়েছে, এই নামের টানেই জনতার ঢল নেমেছে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে। সেই নামের নকশা করা স্যুট নিলামে উঠলে তার মূল্য যে আকাশছোঁয়া হবে, এমনটাই তো প্রত্যাশিত। হলও তাই। সুরাতে তিন দিনের নিলামের শেষে নরেন্দ্র মোদীর নামাঙ্কিত স্যুটের দাম উঠল ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। কিনলেন গুজরাতের হিরে ব্যবসায়ী লালজিভাই পটেল ও তাঁর ছেলে হিতেশ।

অদ্ভুত সমাপতন!

Advertisement

বুধবার নিলাম শুরুর দিনে এক হিরে ব্যবসায়ী দাবি করেছিলেন, স্যুটটি তিনিই প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন। এ দিন আবার সেটি কিনলেন আর এক হিরে ব্যবসায়ী। সমালোচকরা বিষয়টিকে সমাপতন হিসেবে দেখতে নারাজ। এর মধ্যে অন্য গন্ধ পাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদেরই কারও কারও প্রশ্ন, তা হলে কংগ্রেস যে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল, সেটা কি সত্যি? উপহারের বিনিময়ে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কি কিছু দিচ্ছেন মোদী? দিলে তা কী?

এ সব বিতর্কে কান দিতে নারাজ লালজিভাই। তাঁর যুক্তি, মোদী-ঘোষিত গঙ্গা সাফাই অভিযানে অংশ নিতেই স্যুটটি কিনেছেন তাঁরা। বিরোধীরা অবশ্য তা মানতে চাননি। তাঁদের ব্যাখ্যা, গরিবের ত্রাতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার পর ওবামার ভারত সফরের সময় দশলাখি স্যুট পরে নিন্দা কুড়িয়েছিলেন মোদী। যার ছাপ পড়ে দিল্লি ভোটের ফলেও। সেই কালিমা মুছতেই নিলামের পরিকল্পনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গঙ্গা-সাফাই অভিযান আসলে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলের’ কৌশল। কিন্তু তা করতে গিয়ে নয়া বিতর্কে জড়ান প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন ওঠে, দেশের সংবিধানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপহার নেওয়ার ক্ষেত্রে যে আচরণবিধি রয়েছে, তা কি মেনেছেন তিনি?

Advertisement

কিন্তু তাঁর নাম-মাহাত্ম্য যে সব বিতর্কের উপরে, তা স্পষ্ট হয় এ দিন। নিলাম শুরু হতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। লাফিয়ে লাফিয়ে দর বাড়তে থাকে। শেষ কয়েক ঘণ্টায় দাম ৪ কোটি পার করে যায়। উন্মাদনা এমন জায়গায় পৌঁছয় যে এক সময় স্যুটটির ৫ কোটি টাকা পর্যন্তও দর ওঠে। কিন্তু নিলামের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সেই দর গ্রহণ করা হয়নি। ।

সুরাত শহরের কংগ্রেস সভাপতি নৈশাদ দেশাই এই উন্মাদনার পরও মোদী-মাহাত্ম্য মানতে নারাজ। তাঁর বয়ানে, “দেশে সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু বিজেপি সরকারের গরিব রোগীদের দেখার সময় নেই। গঙ্গা-সাফাই অভিযানের নামে শুধু বাহুল্য দেখাতে ব্যস্ত তারা।”

একই রকম ক্ষোভের সুর অসমের কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের কণ্ঠেও। স্যুটের সঙ্গে অসম থেকে উপহার পাওয়া একাধিক সরাই ও ফুলাম গামোসা নিলামে তোলায় চটেছেন তিনি। তাঁর বয়ানে, “এর আগে অন্য কোনও প্রধানমন্ত্রী এমন করেছেন কি না জানা নেই। তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে অসম থেকে পাওয়া উপহার নিলামে ওঠানোর বিপক্ষে।” আসু-র যুক্তি, সরাই ও গামোসা অসমিয়াদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। সেগুলি বিক্রি করে মোদী অসমবাসীকে অপমান করেছেন। এর পাশেই মোদীপন্থীরা আবার রাজেশ মাহেশ্বরী নামে এক নার্সারি শিক্ষকের কথা তুলে ধরছেন। স্যুটটি কিনতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার দর দেন তিনি। পরে বলেন, “মধ্যবিত্তের পক্ষে এটা কেনা অসম্ভব।” তাই ২৫০ জনের থেকে ৫০০০০ টাকা চাঁদা তুলে ১ কোটি ২৫ লাখের তহবিল বানান রাজেশ। লক্ষ্য ছিল স্যুটটিকে নানা অনুষ্ঠানে ব্যবহার করে শিশুশিক্ষার জন্য অর্থ জোগাড় করা।

শুক্রবারের পর সে স্যুট ছাপোষা শিক্ষকের নাগালের বাইরে। মোদী-মাহাত্ম্যে ভর করে সে পৌঁছে গিয়েছে হিরে-ব্যবসায়ীর ঘরে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement