সৌর প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ কলেজে

বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হাইলাকান্দি এস এস কলেজে শুরু হয়েছিল সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। কলেজের মাঠজুড়ে বসানো হয়েছিল সোলার প্যানেল। বলা হয়েছিল, বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে শহরের পুর এলাকায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ অগস্ট ২০১৫ ০২:৪৪
Share:

সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাঠামো। এস এস কলেজের মাঠে।— নিজস্ব চিত্র।

বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হাইলাকান্দি এস এস কলেজে শুরু হয়েছিল সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। কলেজের মাঠজুড়ে বসানো হয়েছিল সোলার প্যানেল। বলা হয়েছিল, বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে শহরের পুর এলাকায়।

Advertisement

কিন্তু প্রতিশ্রুতিমতো বিদ্যুৎ সেখানে মিলছে না বলে অভিযোগ। মাঠজুড়ে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাঠামো নিয়েও ক্ষোভ ছড়িয়েছে কলেজ পড়ুয়া, শহরবাসীর একাংশের মধ্যে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ২০১২ সালে এস এস কলেজে ওই প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। বিদ্যুতে সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কলেজের তৎকালীন কর্তারা। কিন্তু তা এখনও বাস্তবে বদলায়নি। উল্টে প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

কলেজ সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সরকারের অপ্রচলিত শক্তি মন্ত্রকের আর্থিক সাহায্যে ‘অসম এনার্জি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’র নজরদারিতে ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তার বরাত পেয়েছিল কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থা। ৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়। তা থেকে মিলত ১০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ। প্রকল্প খরচের ৯০ শতাংশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বাকি ১০ শতাংশ খরচ বহন করে এস এস কলেজ কর্তৃপক্ষ।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই ওই প্রকল্প চালু করা হয়। কিন্তু তাতে ১০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা থাকলেও, বাস্তবে এখন ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎও মিলছে না বলে অভিযোগ। প্রকল্পটি চালু হলে কলেজের প্রত্যেক মাসের বিদ্যুৎ বিলের টাকা বাঁচানোর কথা বলা হলেও, এখনও ওই টাকা দিতে হচ্ছে।

আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে এস এস কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ আব্দুল করিম বলেন, ‘‘সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাটি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ১০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎসাদন তো দূরের কথা, ২০ কিলোওয়াটও মিলছে না। কলেজ পরিচালন সমিতির সভায় ওই সংস্থাকে আইনি নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলাও করা হচ্ছে।’’

এস এস কলেজে ওই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার আধিকারিক সৌমেন পাল চৌধুরী অবশ্য এ সব কথা মানতে চাননি। তিনি বলেন, ‘‘ওই প্রকল্পের দু’টি ইউনিটের মধ্যে একটা কাজ করছে না। অন্যটি থেকে ৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে।’’ পাল্টা সৌমেনবাবুর দাবি উড়িয়েছেন অধ্যক্ষ। তাঁর বক্তব্য, ওই প্রকল্প থেকে এখন সর্বাধিক ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে।

এস এস কলেজে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি, বিজেপি-ও। কেএমএমএস-র কেন্দ্রীয় সম্পাদক জহিরউদ্দিন লস্কর এবং বিজেপির জেলা সম্পাদক সৈকত দত্ত চৌধুরী হাইলাকান্দি এস এস কলেজের ওই প্রকল্প নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কেন চুক্তিমতো বিদ্যুৎ সেখানে মিলছে না তা তদন্ত করে দেখতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement