ডোনাল্ড ট্রাম্প (বাঁ দিকে) এবং নিকোলাস মাদুরো। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন নিউ ইওর্কের মেয়র জ়োহরান মামদানি। তাঁর মতে আমেরিকার এক তরফা আক্রমণ আসলে ‘‘যুদ্ধ ঘোষণা।’’
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টার ন্যাশনাল আমেরিকার হানার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। ভেনেজ়ুয়েলার উপরে আক্রমণ ও তেল সম্পদ-সহ ওই দেশকে নিয়ন্ত্রণ করার বার্তা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যে ঘোষিত নীতি তাকে ‘‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’’ বলেই দাবি অ্যামনেস্টির।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন ভেনেজ়ুয়েলার নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘নিকোলাস মাদুরোর সময়ে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও সুরক্ষার জন্য তাঁর (মাচাদো) আহ্বানকে সমর্থন জানাই।’’ বর্তমানে ভেনেজ়ুয়েলার পাশে ফ্রান্স পাশে থাকবে বলেও বার্তা দেন তিনি।
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টকে নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেশে নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার ম্যানহনটনের এক আদালতে মাদক পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে পেশ করা হবে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ় কানাল আমেরিকার নিন্দা জানিয়ে বলেন ‘‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছে কিউবা।’’
আমেরিকার হানার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে ব্রাজিল। প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিয়ো লুলা দ্য সিলভার এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘‘এই ধরনের পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা।’’ ‘‘চরম সীমা লঙ্ঘন’’ করা হয়েছে বলে দাবি ব্রাজিলের।
অনুপ্রবেশ আটকাতে ভেনেজ়ুয়েলা ও কলম্বিয়া সীমান্তে সোনা মোতায়েন করল কলম্বিয়া।
ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন হানা ও সেই দেশের প্রেসিডেন্টকে বন্দি করা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিভিন্ন দেশ। এই পরিস্থিতিতে সোমবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। আমেরিকার পদক্ষেপকে জাতি সংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস ‘‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টার্মার জানান, বৈধ সরকারের মাধ্য়মে ভেনেজ়ুয়েলায় শান্তি ও নিরাপত্তা আসুক। যেখানে নাগরিকদের ‘আশা’ স্পষ্ট ভাবে পরিলক্ষিত হবে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর স্টার্মার বলেছেন, ‘‘মাদুরো শাসনকালের সমাপ্তির জন্য আমাদের কোনও কান্না নেই।’’
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, মার্কিন সেনার হাতে বন্দি ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টের মুক্তি চেয়ে আমেরিকাকে বার্তা দিলেন ভেনেজ়ুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ়। তাঁর কথায় ‘‘নিকোলাস দেশের যোগ্য নেতা।’’ তিনি বলেন, ‘‘ নিকোলাসই দেশের একমাত্র রাষ্ট্রপতি।’’ জাতির প্রতি তাঁর বার্তা, শান্ত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বন্দি হওয়ার পরে তাঁর পদে শপথগ্রহণ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ। যদিও ভেনেজ়ুয়েলার তরফে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন হানাকে ‘উপযুক্ত সিদ্ধান্ত ও ন্যায্য’ বলে দাবি করেছেন আমেরিকার আইনসভার অধ্যক্ষ মাইক জনসন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে এই বিষয়ে তাঁর কথাও হয়েছে। ভেনেজ়ুয়েলায় হানা প্রসঙ্গে আইনসভার সদস্যদের (কংগ্রেস সদস্য) বিস্তারিত ব্যাখ্য়া দেওয়ার জন্য আগামী সপ্তাহেই বৈঠকের সময়সূচি ঠিক করে ফেলা হবে।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ভেনেজ়ুয়েলার জ্বালানিভান্ডার দখলের জন্য শীঘ্রই মার্কিন তেলের কোম্পানিগুলিকে অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন সংস্থাগুলি এই প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করবে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বৃহত্তম তৈলসংস্থাগুলি এখানে আসবে এবং কোটি কোটি ডলার ব্যয় করবে। তারা ভেঙে পড়া জ্বালানি ব্যবস্থার মেরামত করবে এবং দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।’’
ভেনেজ়ুয়েলা চালাবে আমেরিকা! জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা যতক্ষণ না নিরাপদ, সঠিক এবং ন্যায়সঙ্গত ভাবে ক্ষমতায় আসার সুযোগ পাচ্ছি, তত ক্ষণ পর্যন্ত ভেনেজ়ুয়েলা পরিচালনা করব। আমরা অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না। গত দীর্ঘ সময় ধরে এখানে যে পরিস্থিতি ছিল, এখনও সেই একই অবস্থা রয়েছে। তাই আমরাই দেশ চালাব।’’ ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, যাতে ভেনেজ়ুয়েলার পরবর্তী নেতা দেশবাসীর মঙ্গলের কথা মাথায় রাখেন, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। তবে ক্ষমতার এই হস্তান্তরে কত সময় লাগতে পারে, সে সম্পর্কে কোনও সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।
ফ্লরিডার মার-আ-লাগো থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরোকে বন্দি করতে ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। গোটা শহর ঢেকে যায় অন্ধকারে। ট্রাম্প বলেন, ‘‘গত কাল আমেরিকা যা অর্জন করেছে, বিশ্বের কোনও দেশ তা অর্জন করতে পারেনি। সত্যি বলতে, অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজ়ুয়েলার সমস্ত সামরিক ক্ষমতা শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল। কারণ, আমাদের সেনাবাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি রাতের অন্ধকারে মাদুরোকে সফল ভাবে ধরে ফেলেছিল। ভয়ঙ্কর অভিযান ছিল!’’
ভেনেজ়ুয়েলার বন্দি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর প্রথম ছবি প্রকাশ্যে আনলেন ট্রাম্প। চোখ কালো রঙের আবরণে ঢাকা, কানেও শব্দনিরোধক আবরণ। সে ভাবেই নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বন্দি মাদুরোকে।
মার্কিন জাহাজে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভেনেজ়ুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। ছবি পোস্ট করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সমাজমাধ্যম।
প্রথম বার মুখ খুললেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। যাঁকে হারিয়ে ২০২৪ সালের ভোটে জিতেছিলেন মাদুরো, সেই এদমুন্দো গোঞ্জ়ালেস উরুতিয়াকে অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট পদে বসানোর দাবি জানালেন তিনি। সমাজমাধ্যম এক্স-এ ওই বার্তা প্রকাশ করেছেন তিনি। মাচাদো আরও লিখেছেন, ‘‘মাদুরো মধ্যস্থতায় যেতে চাননি। তাই পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করেছে আমেরিকা। এ বার ভেনেজ়ুয়েলায় শান্তি ফিরবে। আমরা ভেনেজ়ুয়েলায় শান্তি ফেরাব। রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। নির্বাসিতেরা দেশে ফিরবেন।’’
ভেনেজ়ুয়েলায় মার্কিন হামলার নিন্দা করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল চিন। চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘এটি শুধু আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনই নয়, বরং একটি আধিপত্যবাদী কাজ’। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমেরিকার বলপ্রয়োগ এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ঘটনায় চিন গভীর ভাবে মর্মাহত। চিন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। আমেরিকার এই ধরনের আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনকারী।’’
আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পর বিচারের আওতায় আনা হবে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে।
আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার চাপানউতর চলছিল দীর্ঘ দিন ধরেই। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভেনেজ়ুয়েলা সীমান্তে কোনও তেল ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলা সরকারকে ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’ তকমাও দিয়েছিলেন তিনি। মাদুরোকে ‘অবৈধ শাসক’ বলে অভিহিত করে তাঁকে পদত্যাগ করতেও বলেছিলেন।
এই মুহূর্তে বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভান্ডার রয়েছে ভেনেজ়ুয়েলায়। প্রতি দিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয় সে দেশে। ভেনেজ়ুয়েলার দাবি, তাদের সেই খনিজ সম্পদ লুট করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তা ছাড়া, গত কয়েক বছরে চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে মাদুরোর সরকার। তার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে ওয়াশিংটন।
আমেরিকা বার বার দাবি করেছে, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করছে ভেনেজ়ুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হচ্ছে ভেনেজ়ুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। সে সব রুখতে কয়েক মাস আগে থেকেই ক্যারিবিয়ান সাগরে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ এবং পরমাণু-ডুবোজাহাজ নামিয়েছিল ট্রাম্পের সরকার। সর্ব ক্ষণ দেশটিকে একপ্রকার ঘিরে রেখেছিল মার্কিন ফৌজ।