ছবি : সংগৃহীত।
টারমারিক সোপ অর্থাৎ হলুদের নির্যাস মেশানো সাবান। রূপচর্চার দুনিয়ায় ইদানীং এই ধরনের হাতে তৈরি এবং ভেষজ গুণ সম্পন্ন পণ্য জনপ্রিয় হচ্ছে। যাঁরা ত্বকের পরিচর্যা থেকে রাসায়নিক সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দিতে চান, তাঁরা অনেকেই ফেসওয়াশ বা ক্লিনজ়িং তরলের বদলে বেছে নিচ্ছেন ওই ধরনের সাবান। প্রশ্ন হল, সেই সাবান কি আদতেই কাজ করে, না কি স্রেফ বাজার ধরার জন্য মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে?
আদৌ কি কোনও কাজ হয়?
হলুদের মূল উপাদান কারকিউমিন সাবানে ব্যবহার করলে ত্বকের সংস্পর্শে থাকে অত্যন্ত কম সময়ের জন্য। সেক্ষেত্রে হলুদের নির্যাস দিয়ে তৈরি সাবান ব্যবহার করলে কারকিউমিনের সব রকম উপকার পাওয়া সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও কিছু সুবিধা মিলতে পারে।
১। হলুদের ব্যাক্টেরিয়া নাশক ক্ষমতা এ ক্ষেত্রে কাজে দিতে পারে। যাঁদের মুখে ব্রণের সমস্যা হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া ত্বক থেকে দূর করতে সাহায্য করতে পারে হলুদ মেশানো সাবান।
২। হলুদ মেশানো সাবান ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধিতেও কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে কালচে ছোপ বা হাইপারপিগমেন্টেশন হালকা করতে এটি কার্যকরী।
৩। ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ থেকেও ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা হয়। যেমন রোদ লেগে লালচে ভাব হতে পারে। র্যাশও দেখা দিতে পারে। হলুদ মেশানো সাবান নিয়মিত ব্যবহার করলে সেই সমস্যা কমতে পারে।
কারা ব্যবহার করবেন?
১। যাদের মুখে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেশি বা শরীরে র্যাশ বা ফুস্কুড়ি প্রায়ই বেরোয় তাঁরা হলুদ-সাবান ব্যবহার করতে পারেন।
২। তৈলাক্ত ত্বকেও হলুদ-সাবান উপকারী। কারণ, হলুদ প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট হিসেবে কাজ করে বলে জানা যায় এবং ত্বকের বাড়তি তেল নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। রোদে পোড়া দাগ বা মেছেতার দাগ থাকলে হলুদ মেশানো সাবান সেই দাগ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে।
কারা ব্যবহার করবেন না?
১। যাঁদের ত্বক শুষ্ক তাঁদের হলুদের সাবান ব্যবহার না করাই ভাল। কারণ তাতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। যদি ব্যবহার করেনও, তবে সঙ্গে সঙ্গেই মুখে ময়েশ্চারাইজার মাখা জরুরি।
২। যাদের হলুদে অ্যালার্জি আছে, তাদের হলুদ এড়িয়ে চলাই ভাল। বোঝার জন্য ব্যবহারের আগে হাতের ত্বকে সাবান লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে দেখুন। কোনও চুলকানি বা লালচে ভাব বা অস্বস্তি না হলে ব্যবহার করতে পারেন।
৩। হলুদের সাবানে কৃত্রিম রং বা কড়া সুগন্ধি বা রাসায়নিক মেশানো হলে তা সংবেদনশীল ত্বকে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এমন সাবান বেছে নিন যাতে প্যারাবেন, সালফেট বা কড়া কেমিক্যাল নেই। হাতে তৈরি কোল্ড-প্রসেস করা সাবান এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী।