জানেন কি, স্নানঘরের প্রসাধনী নিঃশব্দেই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।
দিনভর ঘোরাঘুরির আগে এবং পরে স্নান জরুরি। স্নান যেমন তরতাজা করে তোলে, তেমনই স্নানশেষে লোশন, ডিয়োডোর্যান্ট, কোলনের ব্যবহার সুগন্ধে ভরিয়ে তোলে। মনও ফুরফুরে লাগে।
কিন্তু জানেন কি, স্নানঘরের প্রসাধনী নিঃশব্দেই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে? যা মেখে নিজেকে তরতাজা লাগে, বিপদ হতে পারে তা থেকেই। মিশিগান নিবাসী ইউরোলজিস্ট তারেক পাচা জানাচ্ছেন, কোন কোন পণ্য থেকে সমস্যা হতে পারে। বদলে প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া জিনিস ব্যবহারের পরামর্শও দিচ্ছেন নেটপ্রভাবী এই চিকিৎসক।
স্নানশেষে লোশন: স্নান করার পরে ভিজে গায়েই লোশন মাখার নিয়ম। লোশন ত্বকে থাকা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সুগন্ধী লোশন, কিছুটা পারফিউমের কাজ করে। তা ছাড়া, এগুলি চটচটে হয় না বলে অনেকেই মাখেন। তবে চিকিৎসক বলছেন, যত সুগন্ধ ততই বিপদ। লোশনে অনেক সময় প্যারাবেন, অ্যালকোহলের মতো উপাদান যোগ করা হয়, যা একেবারেই ত্বক-বান্ধব নয়। বিশেষত প্যারাবেন ইস্ট্রোজেনের ভূমিকা পালন করে থাইরয়েড-সহ কিছু কিছু হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে দিতে পারে। প্রায়শই যদি প্যারাবেন যুক্ত প্রসাধনী কেউ ব্যবহার করেন, তার কুপ্রভাব স্বাস্থ্যের উপর পড়তে বাধ্য। বদলে ত্বক-বান্ধব, নিরাপদ উপায়ও রয়েছে। স্নানশেষে গায়ে মেখে নিন নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা কোকো বাটার। প্রতিটি উপাদানই প্রাকৃতিক। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে কার্যকর।
ডিয়োডোর্যান্ট: স্নানের পর অনেকেই বাহুমূলে ডিয়োডোর্যান্ট ব্যবহার করেন। ডিয়োডোর্যান্ট ঘাম কমাতে সাহায্য করে, দুর্গন্ধ আটকায়। তবে চিকিৎসক সতর্ক করছেন, অনেক সময় ডিয়োডোর্যান্টে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার হয়, যেটি ত্বক এবং শরীরের জন্য ভাল নয়। তা ছাড়া ডিয়োডোর্যান্টে সুন্দর গন্ধ আনতে নানা রকম রাসায়নিকের ব্যবহার হয়, যা থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। বিশেষত যাঁদের চামড়া একটু পাতলা তাঁদের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ, স্নানের পর ভিজে গায়েই আধখানা পাতিলেবু হালকা করে বাহুমূলে ঘষে নেওয়ার। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যাক্টেরিয়া মারতে সাহায্য করবে ত্বকের ক্ষতি ছাড়াই। বাহুমূলের কালচে দাগও দূর হবে।
পারফিউম, কোলন: বডি মিস্ট, পারফিউম, কোলন— এক এক জন এক রকম প্রসাধনী ব্যবহার করেন। প্রতিটি জিনিসই শরীরে সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয়। তবে বিপদ সেখানেই। এই ধরনের প্রসাধনীতে মিশে থাকতে পারে ক্ষতিকর জৈব যৌগ বা কার্বনযুক্ত রাসায়নিক, যা মাথা ব্যথা, শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। স্নানঘর থেকে বেরোনোর আগেই অনেকে এগুলি ব্যবহার করেন। স্নানঘরের স্যাঁতসেঁতে বদ্ধ পরিবেশে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। বদলে সাধারণ সাবানই যথেষ্ট। এতেই কিন্তু ত্বক পরিষ্কার থাকে।