চড়া দাগের মেকআপ নয়, মুখে খেলবে আভা, থাকবে আলগা চটক— নতুন প্রজন্ম এমন সাজগোজেই বিশ্বাসী।আর ঠিক সেই জন্য ত্বকের উপযোগী ফাউন্ডেশন বেছে নেওয়া জরুরি। সমস্যা হয় সেখানেই। দোকানে গিয়ে দেখলেন, কিনলেন। কিন্তু বাড়িতে এসে ব্যবহারের পর দেখা গেল ফাউন্ডেশনের রং যেন ঠিক মিলছে না।
কারও আবার ফাউন্ডশেন মাখার কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই মুখ কালো হয়ে যায়। কারও মুখ দেখলেই মনে হয় চড়া মেকআপ করা হয়েছে। এই সব কিছুর সমাধান হতে পারে ত্বকের প্রয়োজন, বর্ণ অনুযায়ী সঠিক শেড বেছে নিলে।সকলের ত্বকের রং সর্বত্র সমান নয়। কারও চোখের চারপাশ কালো থাকে, কারও আবার গালে বা নাকের পাশে কালচে ছোপ থাকে। সেই সব খুঁত নিখুঁত ভাবে ঢেকে দিতে দরকার উপযুক্ত ফাউন্ডেশন এবং সঠিক শেড। কী ভাবে বুঝবেন, কোনটি মুখের উপযোগী?
রূপটান শিল্পীরা বলছেন, ফাউন্ডেশন কিনতে গেলে দোকানের লোকজন শেডটি লাগিয়ে দেখান হাতের উপরে। কিন্তু হাতের রং আর মুখের রং সমান হয় না। তা ছাড়া, হাতের তালুর উপরিভাগ সাধারণত মুখের চেয়ে আলাদা রঙের হয়। ফলে ফাউন্ডেশনের শেড পরখ করতে সরাসরি বেছে নিন চোয়ালের অংশ। গলা বা বুকের অংশেও তা লাগিয়ে দেখা যায়, ত্বকের সঙ্গে কতটা মিলছে। ত্বকের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে শেডটির মিল, সেটি নিলে মেকআপ করার পরেও মনে হবে না চড়া কিছু লাগানো হয়েছে। তবে কখনও কখনও ত্বকের রঙের চেয়ে এক পরত উজ্জ্বল শেডও বেছে নেওয়া যায়।
ফাউন্ডেশন ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টা পরে মুখ কালো দেখায় কেন
মেকআপ করে বেরোনোর সময়ে সব ঠিক। কিন্তু গরমে কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই মুখ কালচে দেখায়। এর কারণ অক্সিডেশন। ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ত্বকের নিজস্ব তেল মিশতে শুরু করার পরে ধীরে ধীরে রং বদল হয়। এমন সমস্যার সমাধানে ভাল মানের মেকআপ প্রাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাইমার মুখের ছোটখাটো খুঁত ঢেকে মসৃণ প্রলেপ তৈরি করে। তার উপর ফাউন্ডেশন মাখলে, মুখ উজ্জ্বল দেখায়।
ভাল হয় ফাউন্ডেশনে মাখার পরে অন্তত ১০ মিনিট সেটি পুরোপুরি মুখে বসতে দিলে। সে ক্ষেত্রে মুখ চট করে কালো দেখায় না।
শিরায় নজর
হাতের শিরায় নজর দিন। শিরার রং নীলচে বা বেগনি হলে, রোজ় বা গোলাপি টোনের ফাউন্ডেশন ত্বকের রংয়ের সঙ্গে ভাল মিলবে। শিরার রং সবুজ হলে বেছে নিন হলুদ বা গোল্ডেন শেড।
ত্বক বুঝে ফাউন্ডেশন
কারও ত্বকে ব্রণ থাকে, কারও মুখ আবার রুক্ষ। কারও ত্বক মিশ্র প্রকৃতির। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন বাছাই জরুরি। মুখ তৈলাক্ত হলে, তেল বিহীন, ম্যাট ফাউন্ডেশন বেছে নিতে পারেন। আবার শুষ্ক ত্বকের জন্য সিরাম বা ময়েশ্চারাইজ়ার বেসড, ক্রিম ফাউন্ডেশন ভাল।
ত্বকের বর্ণে অসামঞ্জস্য
কারও মুখে কালো ছোপ থাকে, কারও আবার কালো গোল দাগ থাকে চোখের চারপাশে। প্রথমে সেই রং কনসিলার দিয়ে ঢাকা দরকার। প্রয়োজন প্রাইমারের পরত এবং সব শেষে ফাউন্ডেশন।