Sona Pappu

‘ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কিনতেন, সিন্ডিকেটের অন্যতম মাথা সোনা পাপ্পুই’! ১০ দিনের জন্য হেফাজতে চাইল ইডি

দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাতে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়। কী ভাবে এত দিন জমি সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন পাপ্পুরা, আদালতে সেটাই ব্যাখ্যা করেছেন ইডির আইনজীবী।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ১৬:০৭
Share:

আদালতে সোনা পাপ্পুকে হাজির করায় ইডি। ছবি: পিটিআই।

কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে আদালতে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ভয় দেখিয়ে কম দামে অন্যের জমি, সম্পত্তি হস্তগত করতেন সোনা পাপ্পু। শুধু তিনি একা নন, এখানে তিন জনের চক্রের কথাও আদালতে উল্লেখ করেছে ইডি। তাদের দাবি, বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতার পুলিশকর্তা (ডিসি) শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের হয়ে কাজ করতেন পাপ্পু। জমি সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলাতেন তিনি। ইডির তরফে পাপ্পুকে ১০ দিনের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। যদিও আদালতে জামিনের আবেদন করেছেন কসবার ধৃত ব্যবসায়ী।

Advertisement

দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাতে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়। কী ভাবে এত দিন জমি সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন পাপ্পুরা, আদালতে সেটাই ব্যাখ্যা করেছেন ইডির আইনজীবী। তাঁর দাবি, তোলাবাজি, হুমকি, জমি দখল, বেআইনি অস্ত্র রাখা-সহ একগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে পাপ্পুর বিরুদ্ধে। আর সেই অভিযোগগুলিতে মূল অভিযুক্ত হিসাবে পাপ্পুর নাম আদালতে উল্লেখ করেছে ইডি।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে একটি রিভলভার উদ্ধার করেছিল তারা। কামদারের সংস্থার নামে ওই রিভলভার কেনা হয়েছিল। ওই রিভলভার কেনার পরেই রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার কাঁকুলিয়াতে অশান্তির ঘটনা ঘটে। যদিও পাপ্পুর আইনজীবীর দাবি, আর্ম ডিলারের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে যা যা নিয়ম মানতে হয় সে সব করেই আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে এই অশান্তির ঘটনায় নাম জড়িয়ে যায় পাপ্পুর। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই গন্ডগোলের নেপথ্যে ছিলেন বিশ্বজিৎ। তাঁর সঙ্গীরাই গন্ডগোল, ভাঙচুর চালিয়েছিল।

Advertisement

আদালতে ই়ডির দাবি, ওই চক্র খুব কম দামে সম্পত্তি কিনত। ওই সব জমিতে নির্মাণকাজ করতে ‘ক্রিমিনাল মাস্‌ল’ ব্যবহার হত। পাপ্পু বাজারমূল্যের থেকে কম দামে পরিবারের নামে সম্পত্তি কিনতেন। এমন জমিও আছে, ২০২৪ সালে যার বাজারমূল্য ৭.৭ কোটি, সেটা কেনা হয়েছিল এক কোটিতে। ২০২২ সালে ১৮ কাটার একটি জমি কিনেছিলেন পাপ্পু, যার বাজারমূল্য ৫ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা। কিন্তু কিনেছিলেন ১ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকায়। পাপ্পুর আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, যদি কম দামে জমি কেনা হয়, তবে তার মালিকেরা অভিযোগ করতেন না? ইডির দাবি, মূলত বয়স্ক লোকেদের থেকে জমি নিতেন তাঁরা। এ ভাবে জমি নেওয়ার জন্য ভুগত হত বয়স্কদের। ইডি আদালতে আরও জানায়, বিভিন্ন নির্মাণ এবং রিয়েল এস্টেট সংস্থার মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতেন পাপ্পু। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নামে এমন ৩০টি সংস্থার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।

পাপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছে ইডি। তাদের দাবি, তিন বার সমন পাঠানো হয়েছে তাঁকে। কিন্তু এক বারও আসেননি। সোমবার আচমকা হাজিরা দেন তিনি। ইডি আরও জানিয়েছে, ব‍্যাঙ্ক অ‍্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে— কামদার এবং পাপ্পুদের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার মধ্যে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ইডির দাবি, কামদার বা তাঁর সংস্থা যে যে কাজের পরিকল্পনা করত, তা বাস্তবায়িত করতেন পাপ্পুই।

ইডির দাবি মানতে নারাজ পাপ্পু। আদালতে তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, ব্যবসা করা কোনও অন্যায় নয়। তবে সেই ব্যবসায় উপার্জিত টাকার সঙ্গে দুর্নীতির সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। ইডি যে সব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করছে, সেখান থেকে তাঁর মক্কেল কোনও টাকা উপার্জন করেনি। সাধারণ মানুষের চোখে তাঁর মক্কেলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এই সব বলা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement