খুশকির সমস্যায় নাজেহাল। শ্যাম্পু বাছাইয়ের সময় দেখে নিন জরুরি উপাদান আছে কি না? ছবি:সংগৃহীত।
চুলের সৌন্দর্য নষ্ট হয় খুশকি হলেই। পোশাকের উপরে ঝরে পড়ে সাদা গুঁড়োর মতো খুশকি। তার উপর যখন তখন মাথা চুলকানো— বিরক্তিকর ব্যপার হয়ে ওঠে। তৈলাক্ত চুলে যমন খুশকি হয়, তেমনই শুষ্ক কেশেও এই সমস্যা বিরল নয়। মূলত ম্যালাসেজ়িয়া নামক ছত্রাকের জন্যই খুশকি হয়। মাথার ত্বকে ছত্রাকের পরিমাণ অত্যন্ত বেড়ে গেলেই শুরু হয় সমস্যা।
খুশকিরও নানা রকম ধরন আছে। কারও মাথায় খুশকি থাকে বছরভর। কারও আবার বিশেষ বিশেষ ঋতুতে খুশকি হয়, যেমন শীতে বা বর্ষায়। কারও মাথার ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে খুশকির মতো সাদা গুঁড়ো ঝরতে থাকে।
অপরিচ্ছন্ন মাথার ত্বকই শুধু নয়, খুশকির নেপথ্যে থাকে পরিবেশের প্রভাবও। বর্ষার ভ্যাপসা গরমে ঘাম হয় বেশি। ঘামে ভেজা মাথার ত্বক রোগজীবাণু বৃদ্ধির জন্য আদর্শ হয়ে ওঠে। এই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাকও বাসা বাঁধে। ফলে মাথার ত্বকে দুর্গন্ধ হয়। খুশকিও দেখা দেয়।
খুশকির সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন সঠিক শ্যাম্পু। ৫ উপকরণ খুশকির সমস্যার সমাধান করতে পারে। এই উপাদানগুলি থাকলে সেই শ্যাম্পু কার্যকর হতে পারে। জেনে নিন, সেগুলি কী?
স্যালিসাইলিক অ্যাসিড: এটি হল বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড। এটি মাথার ত্বকে জমা মৃত কোষ ঝরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। তেলচিটে খুশকি মাথার ত্বকে সাদা পুরু হয়ে জমে থাকলে এই অ্যাসিড বিশেষ কার্যকর। কারণ, মাথার ত্বক পরিষ্কার করে ত্বকের রন্ধ্রমুখ উন্মুক্ত করতে সাহায্য করে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড।
পাইরোকটোন ওলামিন: ম্যালাসেজ়িয়া ছত্রাকের বৃদ্ধি রুখতে কাজ করে এই উপাদানটি। সরাসরি আঘাত হানে ছত্রাকের উপরে। বার কয়েক ব্যবহারে ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসলেই, সমস্যার সমাধান হয়।
জ়িঙ্ক পাইরিথিওন: খুশকি কমানোর জন্য জ়িঙ্ক পাইরিথিওনও ভাল। এতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। মাথার ত্বকের সংক্রমণ ঠেকাতে এবং খুশকির জন্য দায়ী ছত্রাক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
অ্যালো ভেরা এবং রোজ়মেরি: প্রাকৃতিক উপায়ে ভরসা করতে চাইলে বেছে নেওয়া যায় অ্যালো ভেরা এবং রোজ়মেরি। রোজ়মেরিতে রয়েছে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান। অ্যালো ভেরা খুশকির ফলে হওয়া চুলকানি, জ্বালা কমাতে সাহায্য করে।
প্যারাবেন, সালফেটের মতো উপাদান শ্যাম্পুতে থাকলে এড়িয়ে যাওয়া দরকার। শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে সপ্তাহে ২-৩ দিন। ধুতে হবে ঈষদুষ্ণ জলে।