চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে? ভরসা থাক ভেষজ তেলে।
চুল সাজাতে কেউ বেছে নিচ্ছেন রং, কেউ আবার ভরসা করছেন চুল সোজা বা কোঁকড়া করার যন্ত্রে। পাশাপাশি, চুল স্থায়ী ভাবে সোজা বা মসৃণ করার কৌশলেও আস্থা রাখছেন অনেকে। পুরনো দিনের মতো তেল মালিশ, বিনুনি করা— এসব বড় সেকেলে।
কিন্তু সত্যি তাই কি? বারংবার রং এবং কেশসজ্জায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহারে চুলের হাল দ্রুত বেহাল হয়ে পড়ে। চুল দেখায় নিষ্প্রাণ, রুক্ষ। এখানেই শেষ নয়, চুল ঝরার সমস্যাও শুরু হয়। কম-বেশি এমন পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত নতুন প্রজন্মের অনেকেই। চিকিৎসকেরা বা কেশসজ্জা শিল্পীরাও বার বার বলেন, চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। কিন্তু কী সেই যত্ন? আধুনিক নানা পন্থাই রয়েছে। তবে একবার আস্থা রেখে দেখতে পারেন পুরনো পন্থাতেও। যখন বাহারি প্রসাধনী আসেনি, প্রাকৃতিক উপায়েই চুলের যত্ন করা হত। চুলের যত্নে কেউ তেল মালিশে বিশ্বাস করেন, কেউ করেন না। তবে নাম করা কেশসজ্জা শিল্পীদের অনেকেই মনে করেন, চুলে তেল মালিশ করলে, মাথার ত্বকে রক্ত স়ঞ্চালন ভাল হয়। জবজবে করে তেল মেখে রাতভর রাখার দরকার নেই ঠিকই, কিন্তু কিছু কিছু তেলের উপকারিতা স্বীকৃত। ব্যবহারিক ফলের জন্যই তা জনপ্রিয় হয়েছে।
ভৃঙ্গরাজ তেল: গরমে ভৃঙ্গরাজ তেল শুধু আরামদায়ক নয়, মাথা ঠান্ডাও রাখে। ভৃঙ্গরাজ হল ভেষজ, তা থেকে তেল তৈরি করা হয়। চুলের গোড়া মজবুত করতে, চুলের বৃদ্ধিতে তেলটি সহায়ক। মানসিক চাপ, দূষণের কারণেও চুল ঝরে। ভৃঙ্গরাজ তেল নিয়ম করে মাখলে, চুলের স্বাস্থ্য ফিরবে। তেল মালিশে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়, ফলে চুলের ফলিকল মজবুত হয়। চুল ঝরা কমে।
আমলকি তেল: ভিটামিন ই, সি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর আমলকি। দীর্ঘ দিন ধরেই চুলের পরিচর্যায় আমলকির ব্যবহার হয়ে আসছে। খুশকি কমাতে, চুল কালো রাখতে, মসৃণ ভাব বজায় রাখতে আমলকি তেলের উপকারিতা যথেষ্ট। চুলের কেরাটিন প্রোটিন তৈরিতেও এই তেল সাহায্য করে। আমলকি কুচিয়ে নারকেল তেলে ফুটিয়ে বা তেলে ভেজে রোদে রেখে এই তেল তৈরি করা যায় বাড়িতেই।
ক্যাস্টর অয়েল: ক্যাস্টর অয়েল মেলে ক্যাস্টর গাছের বীজ থেকে। বাংলায় এর নাম রেড়ির তেল। ভিটামিন এবং খনিজে ভরপুর এই তেলের উপকারিতা কম নয়। এতে থাকে রাইসিনোলেইক অ্যাসিড নামে এক ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড, যা চুল গজাতে সাহায্য করে। ভ্রু, আঁখিপল্লব ঘন করতে ক্যাস্টর অয়েলের ব্যবহার হয়। এতে থাকা ভিটামিন ই ও ফ্যাটি অ্যাসিড মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায়, শুষ্কতা কমায়। ক্যাস্টর অয়েল খুবই ঘন, তাই নারকেল তেলের সঙ্গেও তা মিশিয়ে মাখতে পারেন।