Vijay Deverakonda and Rashmika Mandanna Wedding Jewllery

১০ মাস ধরে তৈরি হয়েছে বিজয় ও রশ্মিকার বিয়ের অলঙ্কার, দম্পতির সোনার গয়নায় কালচে আভা কেন

গয়না সংস্থা প্রায় দশ মাস ধরে রশ্মিকা-বিজয়ের বিয়ের গয়না নিয়ে কাজ করেছে। দক্ষিণী তারকাজুটির প্রেমের অভিজ্ঞান হয়ে থাকল তাঁদের সাজ ও গয়না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫০
Share:

বিজয় ও রশ্মিকার বিয়ের অলঙ্কারই মুখ্যচরিত্রে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

বর-কনেকে ছাপিয়ে আলোচনার শীর্ষে এখন বিয়ের গয়না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উদয়পুরের রিসর্ট থেকে বিজয় দেবরকোন্ডা এবং রশ্মিকা মন্দানার বিয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। দক্ষিণী তারকাদ্বয়ের প্রেমের সাক্ষী হয়ে থাকল তাঁদের সাজ ও গয়না। বর যেন সার্বভৌম সম্রাট, কনে যেন জাগ্রত দেবীমূর্তি। অন্তত এমন ভাবনা থেকেই যুগলকে সাজানো হয়েছিল। রশ্মিকা-বিজয়ের বিয়ের জন্য যাঁরা গয়না বানিয়েছেন, সেই গহনা সংস্থার প্রতিনিধিরাই সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সে কথা জানান।

Advertisement

তেলুগু এবং কোডাভা রীতি মেনে দু’বার বিয়ে হয়েছে রশ্মিকা-মন্দানার। তেলুগু মতে বিয়ের ছবিগুলিই এখন সাড়া ফেলেছে চারদিকে। আধুনিক সাজসজ্জার পরিবর্তে কয়েক দশক আগের ‘প্রাইমাল’ রীতি মেনে আসর সাজানো হয়েছিল। একই ভাবে বর-কনেও তাঁদের সাজে পরম্পরাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

বিজয়-রশ্মিকার রাজকীয় সাজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

নির্দিষ্ট ওই গয়না সংস্থা প্রায় দশ মাস ধরে রশ্মিকা-বিজয়ের বিয়ের গয়না নিয়ে কাজ করেছে। পরিকল্পনা, নকশা, কারিগরি— যুগলের নিজস্ব পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে গয়না বানাতে প্রায় এক বছরের কাছাকাছি সময় লেগেছে। একেবারে কাস্টমাইজ়ড সংগ্রহ। আর তাই তাঁদের গয়নায় বাজারচলতি চাকচিক্য নয়, বরং দক্ষিণ ভারতের মন্দির স্থাপত্য, প্রাচীন ভাস্কর্য আর ঐতিহ্যের গভীর ছাপ স্পষ্ট হয়েছে। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কথায়, ‘‘শিল্পী হিসেবে বিজয়-রশ্মিকার গুণমুগ্ধ আমরা। কিন্তু বিয়ের গয়না বানানোর জন্য ঘনিষ্ঠ ভাবে জানতে হত তাঁদের। আর সেই অভিজ্ঞতাটা ছিল অপূর্ব।’’

Advertisement

রশ্মিকার বিয়ের সাজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

বিয়েতে রশ্মিকা মোট ১১টি রাজকীয় গয়না পরেছিলেন। তাঁকে জীবন্ত দেবী রূপে কল্পনা করেই এই গয়নাগুলি বানানো হয়েছে। চোকার এবং ভারী স্বর্ণহার (যাকে বলে ‘হারম’) পরানো হয়েছিল তাঁর গলায়, সূক্ষ্ম নকশার কানের দুল, দুল থেকে চুল পর্যন্ত কানটানা (‘চম্পাসরালু’), মাথার চুলের অলঙ্কার (‘জাডা বিল্‌লা’), হাতফুল, কপালে বাঁধা বাসিকম, মাথাপট্টি, নাকের দুল, হাতভরা বালা, বাজুবন্ধ, কোমরবন্ধ, ঘুঙুর— প্রতিটি আভরণে ছিল রাভা কাজের সূক্ষ্মতা ও পুরনো দিনের গাম্ভীর্য। ঝলমলে হিরের বদলে এখানে প্রাধান্য পেয়েছে মাটির গন্ধমাখা সোনার উজ্জ্বলতা। তাঁর সাজে তাই ছিল ঐশ্বর্য, কিন্তু সঙ্গে এক ধরনের গম্ভীর মর্যাদা।

বিজয়ের বিয়ের সাজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

অন্য দিকে বিজয়ের গয়না তৈরি হয়েছে এক রাজসিক ভাবনা থেকে। যেন এক সার্বভৌম রাজার প্রতিচ্ছবি। বিয়ের সাজ, বিয়ের অলঙ্কার মানেই আজকাল কেবল কনের সাজের কথা বলা হয়, কনের অলঙ্কারকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানেই আলাদা হলেন বিজয়। রাজকীয় গয়নায় সেজে উঠে কনের লাইমলাইট কেড়ে নিলেন। বিজয়ের ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর বিয়ের সাজে। সাদা ধুতির সঙ্গে একটি মাত্র লাল উত্তরীয় ছিল তাঁর পরনে। আর সমস্ত নজর কেড়েছে বাজুবন্ধ, কোমরবন্ধ, কানপাশা, খাড়ু, মোটা হার। বিজয়ের হাতের গয়নায় ছিল হাতি আর ফুলের মোটিফের নকশা। তাঁর কোমরবন্ধে স্পষ্ট ছিল বাঘের নকশা। একই সঙ্গে জ্ঞান, সুন্দর ও সাহসের প্রতীক হয়ে রয়ে গিয়েছে তাঁর সমস্ত অলঙ্কার। জালির সূক্ষ্ম নকশা ছিল বিজয়ের গয়নাগুলিতে। রশ্মিকার মতো তাঁর কপালেও বাঁধা রয়েছে বাসিকম। তাঁরও কানে সোনার দুল। তাঁরও আঙুলে আংটি। হাতে ও পায়ে আলতার মৃদু আভা ও দৃঢ় অলঙ্কারের যুগলবন্দিই বিজয়ের সাজের মুখ্যচরিত্রে রয়েছে। এখানেই বিজয়ের সাজ অনন্য।

দক্ষিণী তারকাদ্বয়ের প্রেমের সাক্ষী হয়ে থাকল তাঁদের সাজ ও গয়না। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

দু’জনের গয়নার পালিশেও অনন্যতা ছিল। ঝলমলে, চকচকে সোনার গয়না পরতে চাননি তাঁরা। পরেছেন ‘অ্যান্টিক’ পালিশের গয়না, অর্থাৎ হালকা কালচে ভাব রাখা হয়েছে পালিশ করার সময়ে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পরে আসা গয়না, সাজের ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য।

আজকের দিনে যখন বিয়ের সাজ অনেক সময়ে চলতি হাওয়ার পন্থী হয়ে পড়ে, সেখানে রশ্মিকা-বিজয়ের আয়োজন মনে করিয়ে দেয়, ফ্যাশনও হতে পারে ঐতিহ্যের ভাষা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement