Portable mini Fans

ফুরফুরে সাজে ঠিক যেন ‘হাওয়া হাওয়াই’! গরমে ফ্যাশনের নতুন অনুষঙ্গ এখন পোর্টেবল ফ্যান

গরমের দিনে এত দিন স্বস্তি আনতে ব্যবহৃত হয়েছে পাখা! তবে এ বার, ফ্যাশনের জগতেও নজর কাড়ছে ‘পোর্টেবল ফ্যান’। ঘামের কথা না ভেবেই পোশাক বাছাই করছেন ফ্যাশনিস্তারা, সঙ্গে ‘পোর্টেবল ফ্যান’ থাকতে আর চিন্তা কিসের?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০১
Share:

ফ্যানেই ফ্যাশন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বাড়িতে থাকলে সবচেয়ে নরম, পাতলা আর আরামের পোশাকটিই গরমের সম্বল। কিন্তু বাইরে বেরোলে ঠিক কেমন সাজলে আরামে থাকবেন, আবার কেতাদুরস্তও দেখাবে, এই প্রশ্ন অনেক মহিলারই মনে সারা ক্ষণ চলতে থাকে। যাঁরা নিয়মিত অফিস যান বা প্রায়ই বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বাইরে বেরোন, গ্রীষ্মকালে আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতি বারই তাঁদের এই চিন্তায় দিনের বেশ খানিকটা সময় নষ্ট হয়। অন্তত তাঁরা যদি নিজেদের স্টাইল নিয়ে সচেতন হন, তা হলে তো বটেই। তবে এখন ফ্যাশনিস্তাদের আর গরমের পোশাক নিয়ে ভাবতে হবে না। গরমের দিনে এত দিন স্বস্তি আনতে ব্যবহৃত হয়েছে পাখা! তবে এ বার, ফ্যাশনের জগতেও নজর কাড়ছে ‘পোর্টেবল ফ্যান’। ঘামের কথা না ভেবেই পোশাক বাছাই করছেন ফ্যাশনিস্তারা, সঙ্গে ‘পোর্টেবল ফ্যান’ থাকতে আর চিন্তা কিসের?

Advertisement

গরমের ফ্যাশনে এ বার ফ্যানের দাপট! ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ফ্যাশন উইকের প্রথম সারি হোক বা উইম্বলডনের স্ট্যান্ড, ইলেকট্রনিক ফ্যান থেকে মোড়ানো হাতপাখাকে ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ় হিসাবে ব্যবহার করছেন ফ্যাশনিস্তারা। শুধু বিদেশেই নয়, বিয়েবা়ড়ি থেকে আইপিএল-এর স্ট্যান্ড, অনেক মহিলার হাতেই ধরা পড়েছে এ ধরনের পাখা। লিপস্টিক, চিরুনি, পারফিউমের পাশাপাশি পাখাও এখন নিতে ভুলছেন না তরুণীরা। প্রয়োজনে তো বটেই তবে এখন পাখা হয়ে উঠেছে স্টাইল স্টেটমেন্টও।

আরামও চাই, সঙ্গে চাই ফ্যাশনও। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

অনলাইনে বিভিন্ন নকশার বৈদ্যুতিন পোর্টেবল ফ্যানে ছড়াছড়ি। বেগুনি, গোলাপি, হলুদ, সবুজ, যে রং চাইবেন সেটাই পেয়ে যাবেন। ইচ্ছে করলে পোশাকের রঙের সঙ্গে মানানসই কয়েকটি ফ্যানের বিকল্প কিনে রাখতেই পারেন। অননাইনে বৈদ্যুতিন পোর্টেবল ফ্যানের দাম ৩০০ টাকা থেকে শুরু। ১০ দাজার টাকার ফ্যানও আছে। ফ্যানের স্পিড, সেটিংস, মোডের সংখ্যা এবং ব্যাটারি কত দিন স্থায়ী হবে— এ সব বিষয় যাচাই করে তবেই কিনুন। এগুলির বেশির ভাগের সঙ্গেই একটি ইউএসবি চার্জিং কেব্‌ল থাকে। এক বার সম্পূর্ণ চার্জ করে নিলে প্রায় তিন ঘণ্টা (মডেলভেদে আরও বেশি) পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।

Advertisement

ইলেকট্রনিক স্টোর, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি কলকাতার চাঁদনিচক মার্কেট, এসপ্ল্যানেড, হাতিবাগানের মতো বাজারেও বিক্রি হচ্ছে এমন ফ্যান। দাম অনেকলাইনের থেকে অনেকটাই কম।

বছর কুড়ির রাইমা দাশগুপ্ত। কলেজে হোক বা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে শপিং, বিয়েবাড়ি হোক বা পার্টি— ঘড়ি, ব্যাগ, কানের দুল, চুলের গয়নার পাশাপাশি এখন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সঙ্গে পোর্টেবল ফ্যানটি নিতে ভোলে না। রাইমা বলেন, ‘‘আমার কাছে দু-তিনটি পোর্টেবল ফ্যান আছে, এ বার ভাবছি একটা গোলাপি রঙের ফ্যান কিনব। রংটা বেশ চোখে লাগার মতো।’’

Advertisement

স্কুল শিক্ষিকা পারমিতা সেন। বিকেলের দিকে ক্যাফের বাইরে বসে বান্ধবীর জন্য অপেক্ষা করছেন। পরনে শাড়ি সঙ্গে হাতাকাটা ব্লাউজ়। হাতে রয়েছে একটা পোর্টেবল ফ্যান। পারমিতার কথায়, ‘‘পোর্টেবল ফ্যানটি এখন সব সময় আমার সঙ্গে থাকে। এটি সঙ্গে থাকলে গরমে কী পরব সেই নিয়ে আর ভাবনা থাকে না।’’

(বাঁ দিকে) নাওমি ক্যাম্পবেল ও (ডান দিকে) ফ্র্যাঙ্কি ব্রিজ। ছবি: সংগৃহীত।

কেবল রাইমা, পারমিতাই নয়, ব্রিটেনের সঙ্গীত শিল্পী ফ্র্যাঙ্কি ব্রিজকেও দেখা গিয়েছে উইম্বলডনের স্ট্যান্ডে পোর্টেবল ফ্যান নিয়ে বসে থাকতে। সাদা জাম্পশুট, চোখে কালো রোদদশমা আর হাতে হালকা গোলাপি রঙের ফ্যান— ভিড়ের মাঝেও ফ্র্যাঙ্কির সাজ ছিল বেশ নজরকাড়া। লুই ভিতোঁর ফ্যাশন শোয়ে প্রথম সারিতে এমনই একটি ফ্যান হাতে বসতে দেখা গিয়েছে বিট্রেনের সুপার মডেল নাওমি ক্যাম্পবেলকেও।

কায়দা হোক হাতপাখা নিয়েও। ছবি: সংগৃহীত।

‘কুল’ ফ্যাশনে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক পোর্টেবল ফ্যানেরই দাপট বাড়েনি, এখন মিলেনিয়াল আর জেন জ়ি-র আলমারিতে উঁকি মারছে হাতপাখাও। গুচি, ডিওরের মতো বিলাসবহুল সংস্থাগুলির পাশাপাশি, এইচএনএম, ম্যাঙ্গোর মতো সংস্থাগুলিও এখন নতুন নতুন প্রিন্টের হাতপাখা বাজারে আনছে। এমন হাতপাখার চাহিদাও বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। এই ধরনের হাতপাখা এখন শুধু জাপানি মহিলাদের সাজের অনুষঙ্গ হিসাবেই সীমিত নেই, বিশ্ব জুড়েই মহিলাদের রোজের ফ্যাশনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement