চুলের বাহারি অলঙ্কার চমক আনছে কনের সাজে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বিয়ে মানেই সাজের বাহার। ওই একটা দিন সব মেয়েই চান, যেন তাঁর সাজ হোক একেবারে চোখ ধাঁধানো। পোশাক থেকে রূপটান, চুলের বাঁধন থেকে থেকে অলঙ্কার— সবটাই হতে হবে নজরকাড়া। পোশাক বাছাইয়ের পর যে বিষয়টি নিয়ে হবু কনেরা সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, তা হল গয়নাগাটি। হালফ্যাশনে গয়নাগাটি কেবল হাতে, গলায় কিংবা কানে নয়, চুলের সাজেরও প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।
চুলের সাজে ফুলেল বাঁধন নয়, গয়নার আড়ম্বরই পছন্দ করছেন এখনকার কনেরা। কেউ কেউ আবার গয়নার পাশাপাশি ফুলকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। হার, বালা, ঝুমকো তো ছিলই এখন গয়নার তালিকায় জুড়েছে চুলের গয়নাও। বিয়ের ফ্যাশনে নতুন সংযোজন ‘হেয়ার জুয়েলারি’।
বাঙালি বিয়েতে এখন উপচারের সংখ্যা বেড়েছে। বিয়ের দিনে গায়েহলুদ দিয়ে নয়, এখন বাঙালি বিয়ের অনুষ্ঠানসূচি শুরু হচ্ছে আইবুড়োভাত দিয়ে, তার পর সঙ্গীত আর মেহন্দি, বিয়ের দিন সকালে গায়েহলুদ, রাতে বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান আর সবশেষে বৌভাত। বিয়ের প্রতিটি সাজে চুলের বাঁধনে কী ভাবে আনবেন চলতি হাওয়ার ছোঁয়া?
আইবুড়োভাতের সাজে খোঁপাবাহার
বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয় আইবুড়োভাত দিয়ে। আগে বাড়িতেই পরিবারের লোকজনকে নিয়ে এই আচার পালন করা হলেও এখন বিয়ের আগে বড় অনুষ্ঠান করেই উদ্যাপন করা হয় আইবুড়োভাত। তাই সেই সাজেও খামতি রাখলে চলবে না। এই অনুষ্ঠানে চুলে খোঁপার বাঁধন রাখলে মন্দ লাগবে না। আর খোঁপার সাজে চমক আনতে ব্যবহার করতে পারেন নকল ফুলের গাজরা কিংবা ক্রিস্টালের গয়না। আরও বেশি নজর কাড়তে চাইলে বেছে নিতে পারেন খোঁপার ধাতব অলঙ্কার, সাজে সাবেকিয়ানা আনতে এই ধরনের গয়নার জবাব নেই।
সঙ্গীত-মেহন্দির দিনে কুন্দনে অলক-বন্ধন
এখন বাঙালি বিয়েতেও সঙ্গীত-মেহন্দির অনুষ্ঠানের জাঁকজমক দেখার মতো। গান-বাজনা, নাচানাচির সঙ্গে কনের সাজেও থাকে দারুণ চমক। লেহঙ্গা থেকে শররা, স্কার্ট থেকে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন গাউন— মেহন্দি-সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে নজর কাড়তে এখন এই ধরনের পোশাকই বেছে নিচ্ছেন হবু কনেরা। অনুষ্ঠানে নাচানাচি হবেই, তাই চুলের বাঁধন ঠিকঠাক না হলে কিন্তু মুশকিলে পড়বেন। খোলা চুল রাখতে চাইলেও চুলের সামনের দিকটা পাফ করে নিয়ে পিছনে করুন হালকা কার্ল। আর সাজে চমক আনতে ব্যবহার করতে পারেন কুন্দনের গয়না। আলগা বিনুনি হোক বা এলোকেশী— কুন্দনের গয়নার সাজেই হয়ে উঠুন অনন্যা।
গায়েহলুদের সাজে 'মুক্তো'-বেণীর সন্ধান
বিয়ের দিনের সকালের সাধারণত হলুদ বা লালপেড়ে সাদা শাড়ি পরার চল রয়েছে বাঙালি কনেদের মধ্যে। তবে এখন ছক ভাঙতে অনেকে লেহঙ্গাও পরছেন। চুলের সাজেও একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করলেই নয়। গায়েহলুদে খোঁপা বাঁধতে চাইলে বেছে নিতে পারেন মুক্তোখচিত বাহারি খোঁপার অলঙ্কার। আর যদি মন চায় বিনুনি করতে তা হলে বিনুনির বাঁধনের মাঝে বেঁধে নিতে পারেন একটি এক হাত লম্বা ব্রোচ। ছক ভাঙতে সাজ নিয়ে একটু পরীক্ষা তো করাই যায়।
বিয়ের সাজে খোঁপায় জড়াক জড়োয়া
লেহঙ্গার চল বাড়লেও এখনও বিয়ের দিনের সাজের জন্য বাঙালি কনেদের প্রথম বেনারসী শাড়ি। শাড়ির সঙ্গে খোঁপাটা কিন্তু মাস্ট। ফুল দিয়ে খোঁপার সাজ এখন ফ্যাশনে ‘ইন’ নয়, বরং খোঁপাকে নজরকাড়া করতে বেছে নিতে পারেন বাহারি অলঙ্কার। হ্যালফ্যাশনে ‘বান অ্যাক্সেসরিজ’ অর্থাৎ খোঁপার অলঙ্কারের চাহিদা দারুণ। বাঙালি কনেরা যদিও ফুলেল সাজেই সেজে ওঠেন, তবু একটু কায়দা করতে চাইলে খোঁপার অলঙ্কার কিন্তু সাজে চমক আনতে পারে। কুন্দন কিংবা জড়োয়া, মুক্তো কিংবা রকমারি পাথর— খোঁপার অলঙ্কারে বিকল্প পাবেন অনেক।
বৌভাতের দিনে খোলা চুলেই কামাল
বাঙালি কনেরা অনেকেই এখন বৌভাতের অনুষ্ঠানে পরার জন্য লেহঙ্গাকেই রাখেন পছন্দের তালিকার প্রথমে। তবে অনেকে সাবেকিয়ানা ধরে রাখার জন্য কাঞ্জিভরম বা বেনারসীতেই সাজতে পছন্দ করেন। বৌভাতের সাজে খোলা চুলেই কায়দা করতে পারেন। চুল সাজাতে বেছে নিতে পারেন ক্রিস্টাল কিংবা রকমারি পাথরের ব্রোচ। তবে অনেকেই খোলা চুলে স্বচ্ছন্দ নন, সে ক্ষেত্রে মুক্তোর গাজরা আর কুন্দনের হেয়ার পিন দিয়েও সাজিয়ে তুলতে পারেন খোঁপার বাঁধন।