ছবি: সংগৃহীত।
দিন দুয়েকের ছু’টি, সকলে ছুটছেন দার্জিলিঙে। শৈল শহরে এখন সারা বছরই উপচে পড়া ভিড়। কাঞ্চনজঙ্ঘা, চা, আর টয়ট্রেনের এই শহরের রূপ গত কয়েক বছরে অনেকটাই বদলেছে। একের পর এক হোটেল, শপিং মল মাথা তোলার ফলে শৈলশহর হয়ে উঠেছে বেশ ঘিঞ্জি। সেই কারণেই শহরের প্রাণকেন্দ্রে আর নির্জনতার নেই। অনেকে দার্জিলিঙের ম্যাল রোড, বিকিকিনির ভিড় দেখে ধর্মতলার সঙ্গে তুলনাও টেনে ফেলছেন।
ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে দার্জিলিং ঘুরতে চান? এমন কোনও জায়গা যা দার্জিলিং থেকে খুব দূর নয়, গাড়ি করে শৈলশহর ঘোরা যাবে, অথচ ঘন পাইন বন, কাঞ্চনজঙ্ঘা, খানিক নির্জনতা দোসর হবে। তা হলে বেছে নিন তিন ঠিকানা।
ছবি: সংগৃহীত।
লেবং: দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ৬-৭ কিলোমিটার দূর লেবং যেন প্রকৃত অর্থেই শান্তির ঠিকানা। বড় বড় হোটেল এখনও সবুজ উপত্যকার সৌন্দর্য নষ্ট করেনি। গড়ে উঠেছে একাধিক সুন্দর হোম স্টে। লেবং থেকে মেঘ-কুয়াশার খেলা, পাহাড়, প্রকৃতি এখন অনেক সুন্দর ভাবে উপভোগ করা যায়। একেবারে নিজের মতো সময় কাটানোর জন্য এই জায়গা যেন আদর্শ। লেবং থেকে খুব সহজেই ঘুরে নিতে পারেন দার্জিলিং শহরের দর্শনীয় স্থান বাতাসিয়া লুপ, ঘুম মনাস্ট্রি, হ্যাপি ভ্যালি চা-বাগান-সহ অন্যান্য জায়গা। দিনভর শহর ঘুরে বিকালেই ফিরে আসতে পারেন লেবং। আবার দার্জিলিং শহর এড়াতে চাইলেও লেবংয়ে থাকা চলে। লেবংয়ের পাহাড়ি পথে হাঁটলে ঘন সবুজ চা-বাগিচা, মেঘের দল আহ্বান জানাবে। স্বাগত জানাবে পাখিরা।
ছবি: সংগৃহীত।
তাবাকোশি: মিরিকের কাছে গোপালধারা চা-বাগান থেকে কিছুটা দূরেই তাবাকোশি যেমন সবুজের গালিচা পাতা কোনও উপত্যকা। দার্জিলিং থেকে দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটারের মতো। সামনেই রয়েছে রংভাং নামে ছোট গ্রাম। শান্ত নিরালা পরিবেশ যাঁরা পছন্দ করেন এই জায়গা যেন তাঁদেরই জন্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ৩৮০০ ফুট। তাই বসন্ত বা গরমকালে আবহাওয়া এখানে থাকে ফুরফুরে। হাঁটাপথেই ঘুরে দেখা যায় চা-বাগিচা। সামনে দিয়ে বয়ে গিয়েছে রংভাঙ নদী। এখানে গেলে পাহাড়ের সৌন্দর্যের সঙ্গে চোখে পড়বে পাইন আর বার্চের সমাহার। জোড়পোখরি, লেপচাজগৎ, পশুপতি মার্কেটও ঘুরে নিতে পারেন। এখান থেকে দার্জিলিংও দিনভর ঘুরে নিতে পারেন।
ছবি: সংগৃহীত।
ঋষিহাট: দার্জিলিঙ শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ঋষিহাটও ছোট্ট একটি গ্রাম, যেখানে রয়েছে চা-বাগান। ছোট ছোট কাঠের ঘরবাড়িতে গ্রামের লোকজনের বাস। রয়েছে হাতেগোনা হোমস্টে। হিমালয়ের অপরূপ শোভা, চা-বাগানের শ্যামলিমা, আর পাহাড়ি সৌন্দর্য এখানে উপভোগ্য। চাইলে এখান থেকে ঘুরে আসতেই পারেন দার্জিলিং শহর।