ছবি : সংগৃহীত।
চুলে তেল দেওয়া নিয়েই নানা জনের নানা মত। কেউ বলেন, তেল দিলে চুল ভাল থাকে। কেউ বলেন, তেল দিয়ে বাড়তি কোনও লাভ হয় না। সেই বিতর্কের মধ্যেই চুলে ঘি মাখা নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
এক সমাজমাধ্যম প্রভাবী তথা প্রসাধনী ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা আর্শিয়া মুরজানি জানিয়েছেন, তিনি নিজে চুলে ঘি মাখেন, আর তা করে উপকৃতও হয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে চুলে ঘি মাখার একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে আর্শিয়া লিখেছেন, ‘‘যদি এখনও চুলে ঘি মাখা না শুরু করে থাকেন, তবে অনেক কিছুই হারাচ্ছেন।’’
আর্শিয়ার অনুগামীর তালিকায় রয়েছেন বলিউডের তারকা অভিনেতাদের স্ত্রী এবং আত্মীয়েরাও। ওই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরে তাই প্রশ্ন উঠেছে, চুলে কি আদৌ ঘি মাখা যায়? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মুম্বই নিবাসী ত্বকের চিকিৎসক রেশমি শেট্টি।
রেশমি বলছেন, ‘‘তেল বা ঘি, দু’টিতেই রয়েছে প্রোটিন। আর প্রোটিন জরুরি বাইরের ধুলো, ধোঁয়া, রোদ ও নানা ধরনের ক্ষতির হাত থেকে চুলকে বাঁচানোর জন্য। প্রোটিন সব সময়েই চুলকে ঘিরে একটি সুরক্ষা-স্তর তৈরি করে, যা চুল ভাল রাখার জন্য জরুরি।’’
তবে কি চুলে তেলের বদলে ঘি মাখা উচিত?
১। রেশমি জানাচ্ছেন, ঘি চুলকে ময়েশ্চারাইজ় করার পাশাপাশি চুলে ভিটামিন এ, ই এবং অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের জোগান দেয়। যা চুলে বাড়তি ঔজ্জ্বল্য আনে।
২। তবে এই একই কাজ করে নারকেল তেলও। আর এটি ঘিয়ের থেকে ওজনে হালকা হওয়ায় চুল সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।
৩। তবে ঘি এবং নারকেল তেল, দু’য়েরই কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে, যা মাথায় রাখা জরুরি।
৪। চুলে খুশকির সমস্যা থাকলে নারকেল তেল না মাখাই ভাল। কারণ, নারকেলে থাকা লওরিক অ্যাসিড কিছু ছত্রাকের বাড়বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। যা খুশকির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
৫। অন্য দিকে, যাঁদের চুল পাতলা তাঁদের খুব বেশি ঘি ব্যবহার করতে বারণ করছেন ত্বকের চিকিৎসক। তাঁর মতে, এতে চুল ভারী লাগতে পারে। চুলের গোড়ায় ঘি জমে রন্ধ্রের মুখ বন্ধ করতে পারে।