—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে রান্নার গ্যাস নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ চরমে উঠেছে কোচবিহারে। গত দেড় মাসে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন কোচবিহারের এক বাসিন্দা। তিনি সমাজমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সরব হন। অভিযোগ, জেলা জুড়ে এমন সমস্যায় জেরবার বহু গ্রাহক। এই পরিস্থিতিতে গ্যাস সিলিন্ডার কালোবাজারির একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
কোচবিহার শহরের বাসিন্দা দীপঙ্কর বলেন, ‘‘স্ত্রীর নামে থাকা উজ্জ্বলা প্রকল্পে ২২ জানুয়ারি সিলিন্ডার বুক করেছিলাম। তার পরে বুধবার ফোন করে বুকিং করার বহু চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। অথচ কালোবাজারে বেশি টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে বলে শুনছি।’’ শহর লাগোয়া গুড়িয়াহাটির বাসিন্দা শঙ্কর রায় বলেন, “মোবাইলে বুক করা যাচ্ছে না। দোকানে গেলেও বুকিং নেওয়া হচ্ছে না। অন্তত পাঁচ দিন ধরে বুকিংয়ের চেষ্টা করছি। চরম সমস্যায় পড়েছি।” তাঁর অভিযোগ, কালোবাজারে অন্তত পাঁচশো টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। তা-ও কবে সেটা কবে মিলবে স্পষ্ট বলছে না।
জেলার দিনহাটাতেও রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকদের একাংশ। দিনহাটার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থার পক্ষে জয়ন্ত রায় বলেন, ‘‘আমরা সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলছি। যারা অতিরিক্ত দামে রান্নার গ্যাস কিনছেন তাদের আরও সচেতন হতে হবে। এক শ্রেণির গ্রাহক যাদের বাড়িতে লোক সংখ্যা হাতে গোনা কয়েক জন, তাদের বাড়িতে কয়েকটি কানেকশন রয়েছে। সেই সব গ্রাহকেরা কখনও কখনও বাইরের ভ্যানচালকদের দিয়ে এসব বিক্রি করছে। এর সঙ্গে ডিস্ট্রিবিউটরদের কোনও সম্পর্ক নেই।’’
কোচবিহার জেলা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, চাহিদার তুলনায় জোগান কম। তার পরে বরাত ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে। অথচ বুকিংয়ের হিড়িক বেড়েছে। কোচবিহারে একটি সংস্থার প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ গ্রাহকের জন্য ফি মাসে গড়ে ৩ লক্ষ সিলিন্ডারের চাহিদা ছিল। কড়াকড়ি শুরু হতেই ওই বরাদ্দ ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের কোচবিহার জেলা সম্পাদক সুচিত্র দাস বলেন, “স্বাভাবিকের তুলনায় চাহিদা বেড়েছে। জোগান কমেছে। আগের দু’মাসের নিরিখে ২০ শতাংশ কম সিলিন্ডার দিচ্ছে একটি সংস্থা। ফলে সমস্যা তৈরি হয়েছে।’’ দিনহাটার ওকড়াবাড়ি এলাকার এক গ্রাহক জানিয়েছেন, বাড়িতে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার শেষ হয়ে গিয়েছে। বুকিং হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সাড়ে সাড়ে নয়শো টাকার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকার কিছু বেশি দিয়ে কিনতে হল।” উদ্বেগে হোটেল, রেস্তরাঁর মালিকেরাও। কোচবিহার জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুরজ ঘোষ বলেন, “বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। অনেক হোটেল, রেস্তরাঁয় সমস্যা হচ্ছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে