মুখমণ্ডলের ব্রাশ! কেন তা ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে? ছবি: সংগৃহীত।
দাঁত মাজার জন্য ব্রাশের কথা সকলেই জানেন, কিন্তু মুখেরও ব্রাশ হয়, তা জানেন কি? সম্প্রতি রূপচর্চার জগতে এমন ব্রাশ নিয়ে হইচই। জিনিসটি আর কিছুই নয়, নরম দাঁড়ার ব্রাশ, যেটি তৈরি হয়েছে মুখের মাসাজ এবং মৃত কোষ ঝরিয়ে দেওয়ার জন্য। সঙ্গে প্রাপ্তি আরাম।
প্রসাধনীর জগতে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মুখের ব্রাশটি। তার কারণ হল, ব্যবহার করা সহজ, ঝক্কিহীন, সময়ও লাগে না তেমন। জিনিসটি যে খুব দামি, এমনও নয়। বরং নিয়ম করে চুল আঁচড়ানোর মতো মুখের ব্রাশটি মিনিট ২-৩ ব্যবহার করলে ত্বকের ফোলা ভাব কমে, ক্রমশ জেল্লা ফেরে নিষ্প্রাণ ত্বকে। কোনও ক্রিম বা প্রসাধনীর ব্যবহার না থাকায়, মোটামুটি সব ধরনের ত্বকের জন্যই তা উপযোগী।
মুখের ক্লিনজ়িং ব্রাশকে বরং কিছুটা তুলনা করা যেতে পারে গুয়া শা-র সঙ্গে। এই পন্থায় পাথরের সাহায্যে মুখের মাসাজ করা হয়, যা মুখ টানটান দেখায়, মেদের আধিক্য কমে, মুখ হয়ে ওঠে ধারালো। তবে গুয়া শা-র ক্ষেত্রে সিরাম বা ক্রিম মেখে তার পর পাথরের ব্যবহার হয়।
ফেসিয়াল ব্রাশের কাজ কী
মৃত কোষ ঝরিয়ে ত্বক প্রাণবন্ত করে তোলে, জেল্লা ফিরে আসে।
ব্রাশের ব্যবহারে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
লিম্ফোটিক ড্রেনেজ়ে সাহায্য করে, ফোলাভাব কিছুটা কমায়।
তবে ত্বকের রোগের চিকিৎসকদের কথায়, এটিতে জাদুকাঠি ভাবার কারণ নেই। ব্রাশ করলেই ত্বক দু’দিনে ঝলমলিয়ে উঠবে, এমনও নয়। তবে নিয়ম করে তা ব্যবহারে, ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে, তার ফলে কিছুটা হলেও ত্বকে জেল্লা ফিরবে। তা ছাড়া, ফেশিয়াল ব্রাশ ব্যবহার করলেই মুখ-চোখ তীক্ষ্ম হয়ে উঠবে এমন ভাবনা ভুল, কারণ এটি নির্ভর করে ব্যক্তিবিশেষ চোয়াল-মুখের গড়নের উপর। তবে ব্রাশের ব্যবহারে মুখের ফোলাভাব কিঞ্চিৎ কমে অবশ্যই।
ব্যবহারের পন্থা
· মুখের জন্য তৈরি নরম দাঁড়ার ছোট ব্রাশ বেছে নিন। ব্যবহার করতে হবে শুকনো অবস্থায়। তার আগে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। তবে মুখে যেন জল, ক্রিম, কিছুই না থাকে।
· ব্রাশ করারও পন্থা আছে, গলার নীচের অংশ থেকে থুতনি পর্যন্ত ব্রাশ করতে হয় (নীচ থেকে উপরে), থুতনি থেকে ব্রাশ করতে হবে গালে। তার পর কপালে। খেয়াল রাখা দরকার ব্রাশ যেন উপরের দিক থেকে নীচে টানা না হয়।
· চোখের চারপাশ বাদ দিয়ে ব্রাশ করুন, ব্রণ, ফুস্কুড়ির জায়গা বাদ দিতে হবে।
· সপ্তাহে তিন দিন ২-৩ মিনিট ব্রাশ করলেই যথেষ্ট।
· ব্রাশ করার পরে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে নিন।
সতর্কতাও জরুরি
যে কোনও জিনিসের ভাল-মন্দ নির্ভর করে ব্যক্তিবিশেষের প্রয়োজন এবং ব্যবহারবিধির উপর। খুব জোরে ব্রাশ করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। ব্রাশ করতে হবে আলতো করে, ধীরে। ত্বকের ধরন অতিরিক্ত রুক্ষ হলে, সংক্রমণ থাকলে, ব্রণ হলে তার উপর ব্রাশ দিয়ে ঘষাঘষি চলবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।