কেশবপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র।—নিজস্ব চিত্র।
চার মাস আগে ঘটা করে উদ্বোধন করা হয়েছিল ডোমজুড়ের দক্ষিণ ঝাঁপড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশবপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। কিন্তু তার পরেও এখনও চালু হল না। না হয়েছে কর্মী নিয়োগ, না শুরু হয়েছে পরিষেবা প্রদান। ফলে, পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বহু গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলা এবং শিশু। কবে থেকে সেটি চালু হবে, সে ব্যাপারেও নির্দীষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য দফতর।
কিন্তু কেন চালু হল না দোতলা ওই নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র?
ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, বছর তিনেক আগে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তৈরির সময়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল ওই পঞ্চায়েতের খাটোরা পশ্চিমপাড়ায় যে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি রয়েছে, সেটি কেশবপুরে সরিয়ে আনা হবে। ওই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপরে খাটোরা সর্দারপাড়া, মান্নাপাড়া, পশ্চিমপাড়া, নোনাপাড়া, কেশবপুর, রং পাড়া-কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সেটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলে দূরত্বের কারণে তাঁদের যাতায়াতে সমস্যা হবে বলে আপত্তি তোলেন খাটোরার বাসিন্দাদের অনেকেই। তাঁরা আন্দোলনে নামেন। নানা মহলে দরবারও করেন। এ সবের জেরেই কেশবপুরের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু করা যায়নি।
তবে, ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বর্ণালি ঘোষ বলেন, ‘‘স্থানীয় সমস্যা তো ছিলই, তা ছাড়া সেই সময়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকও ছিলেন না। ফলে, সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়নি। শীঘ্রই আমরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রটি চালু করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। প্রয়োজনে নতুন কর্মী নিয়োগের জন্যও স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে কথা বলব।’’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণবকুমার মজুমদারও। স্বাস্থ্য দফতরের কেউ কেউ জানান, খাটোরার কেন্দ্রটিতে যে কর্মীরা আছেন, তাঁদের দিয়েই আপাতত তিন দিন করে দু’টি কেন্দ্র চালু রাখার চিন্তাভাবনা চলছে।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্য দফতরের বরাদ্দ করা প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকায় কেশবপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তৈরি করে ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতি। ঝাঁ চকচকে দোতলা ভবনটিতে ছ’টি ঘর, শৌচালয়, জলের ব্যবস্থাও রয়েছে। ওই কেন্দ্র থেকে গভর্বতী এবং প্রসূতি মহিলাদের নানা পরামর্শ, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের কথা ছিল। এ ছাড়া যক্ষ্মার ওষুধ প্রদান, শিশুদের টিকাকরণ করারও কথা। কিন্তু কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় অনেককেই আগের মতো খাটোরা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই যেতে হচ্ছে।
কেশবপুরের বাসিন্দা মৌমিতা রায় এবং অসীমা রং বলেন, ‘‘আমাদের ওই পুরনো উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে নানা অসুবিধা হয়। অনেকটা হাঁটতে হয়। তাই কেশবপুরের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত চালু হলে উপকৃত হব।’’
অন্য দিকে খাটোরার নমিতা দাস, পাপিয়া ঘোষরা চান, দু’টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রই চালু থাকুক। তাঁরা বলেন, ‘‘এখানকার কেন্দ্রটি বন্ধ হলে আমরা আবার সমস্যায় পড়ব। দু’টি কেন্দ্রই চালু থাকলে সব গ্রামবাসীই উপকৃত হবেন। ভিড়ও কম হবে।’’