Green Hydrogen Stove

জল দিয়ে জ্বলবে আগুন, চটপট রান্নাও হবে, এলপিজির বিকল্প ‘হাইড্রোজেন স্টোভ’ আসছে বাজারে, দাম কত?

আগুন জ্বলবে জলেই। বোতলে করে জল ভরে স্টোভে দিলেই আগুন জ্বলবে। তাতেই রান্না হবে ঝটপট। ধোঁয়া হবে না, আবার কার্বন ডাই অক্সাইডও বেরোবে না। এলপিজি নিয়ে সঙ্কটের কালে পরিবেশবান্ধব ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ স্টোভ আসছে দেশের বাজারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫৯
Share:

জল দিয়ে জ্বলবে হাইড্রোজেন স্টোভ! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রান্নার গ্যাসের সঙ্কটকালে এলপিজির বিকল্প কী হতে পারে, তা নিয়েই ভাবনাচিন্তা চলছে। কেউ ব্যবহার করছেন ইনডাকশন, তো কেউ কিনছেন ইনফ্রারেড। এ বার এর থেকেও উপযোগী নতুন এক জিনিস আসতে চলেছে দেশের বাজারে। এক ধরনের স্টোভ, যা জ্বলবে জল দিয়েই। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। স্টোভে জল ঢাললেই তা জ্বলবে এবং তাতে খুব তাড়াতাড়ি রান্নাও হবে। স্টোভ জ্বলার পরে ধোঁয়া হবে না, কার্বন ডাই অক্সাইডও বেরোবে না। এর নাম ‘গ্রিন হাইড্রোজেন স্টোভ’।

Advertisement

যুদ্ধের আবহে এলপিজি সঙ্কট অতি তীব্র। তাই এর বদলে যা কিছু আসছে বা আসতে চলেছে, তা নিয়েই খবর হচ্ছে। গ্রিন হাইড্রোজেন স্টোভের ধারণা একেবারে নতুন। আগে এমন জিনিস দেশের বাজারে আসেনি। তাই এই ধরনের স্টোভ নিয়ে আলোচনা চলছে। সেটি কী, কেমন ভাবে কাজ করবে, দামই বা কত, তা নিয়ে কৌতূহলও দেখা দিয়েছে।

ধারণা পুরনো, মোড়কটি নতুন

Advertisement

গ্রিন হাইড্রোজেনের ধারণা কিন্তু আজকের নয়। এলপিজি নিয়ে সঙ্কট শুরু হওয়ার বহু আগে থেকেই জীবাশ্ম জ্বালানির ‘উপযুক্ত’ বিকল্প হিসেবে সবুজ হাইড্রোজেন নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছিল। দূষণের মাত্রা যে হারে বাড়ছে, তাতে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে এরই নাম উঠে আসে সবচেয়ে আগে। কেন্দ্রীয় সরকার ‘ন্যাশনাল হাইড্রোজেন মিশন’-এর কথা বলেছিল আগেই। লক্ষ্য ছিল, জ্বালানি হাইড্রোজেন তৈরি করার জন্য যে প্রযুক্তি প্রয়োজন, দেশেই তার উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা। তবে তখন পাইপলাইন দিয়ে গ্রিন হাইড্রোজেন পাঠানোর বৃহত্তর ভাবনা ছিল, তবে আপাতত ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে হাইড্রোজেন স্টোভ হিসেবে তার প্রয়োগ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

হাইড্রোজেন খুব ভাল শিল্প-জ্বালানি। এর উৎসের উপর নির্ভর করে রং। যেমন, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে যে হাইড্রোজেন তৈরি হয় সেটি ধূসর হাইড্রোজেন। প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি হয় নীল বা ব্লু হাইড্রোজেন। আর, পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি (সৌর বা বায়ু) ব্যবহার করে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে হাইড্রোজেন তৈরি হয় সেটি গ্রিন হাইড্রোজেন। এটি তৈরি করা হয় জলের হাইড্রোলাইসিস ঘটিয়ে। যেহেতু প্রাকৃতিক উৎস থেকে এই জ্বালানি তৈরি হয়, তাই এতে পরিবেশ দূষিত হওয়ার কোনও আশঙ্কাই নেই। কারণ এ ক্ষেত্রে কার্বন ডাই অক্সাইড বা কার্বন মনোক্সাইডের মতো গ্যাস তৈরিই হয় না।

Advertisement

স্টোভটি কাজ করবে কী ভাবে?

১০০ শতাংশ গ্রিন হাইড্রোজেন ব্যবহার করে স্টোভটি জ্বালানো হবে। এতে ২টি বার্নার থাকবে। স্টোভটি তৈরি হবে স্টেনলেস স্টিল দিয়ে। জানা গিয়েছে, এই স্টোভে থাকবে প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন (পিইএম) ইলেকট্রোলাইজ়ার যা জল থেকে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি করবে। বিশুদ্ধ পানীয় জল থেকে হাইড্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় স্টোভের ভিতরেই গ্রিন হাইড্রোজেন তৈরি হবে এবং সেটি দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলবে। স্টোভে এমন প্রযুক্তি থাকবে, যা হাইড্রোজেনের উৎপাদনও নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে স্টোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলবে না। এমন ভাবে তা জ্বলবে, যাতে রান্না দ্রুত হবে এবং বিপদ ঘটার সম্ভাবনাও থাকবে না। বিদ্যুতের খরচ বাঁচাতে সোলার প্যানেলের সঙ্গে সংযুক্ত করেও এটি জ্বালানোর ব্যবস্থা থাকবে।

দাম কত?

প্রাথমিক ভাবে এটি ব্যয়সাপেক্ষ। গ্রিন হাইড্রোজেন স্টোভের দাম পড়বে দেড় লক্ষ টাকার মতো। অবশ্য এক বার ইনস্টল করার পরে গ্যাসের খরচ, বিদ্যুতের খরচেও সাশ্রয় হবে। সিলিন্ডারের প্রয়োজন হবে না। তবে পরবর্তীতে ভর্তুকির মাধ্যমে এর দাম ১৫ থেকে ২০ হাজারে নামিয়ে আনার চেষ্টা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement