একটা সময় উল বোনা ছিল মহিলাদের অন্যতম অবসরযাপন। তৈরি করতেন সোয়েটার, টুপি, মাফলার, দস্তানা, মোজা আরও কত কী! এমনকি বাড়ির ছোটদের পুতুলের গরম পোশাকও। সময় বদলেছে, উল বোনার রীতি এখন ফিকে কিন্তু রঙিন উলের কদর ফুরিয়ে যায়নি। উলের ব্যবহার এখন আর পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনও শুধু উল, কখনও বা ফেলে দেওয়া জিনিসের সঙ্গে উল দিয়ে তৈরি করে ফেলা যায় আকর্ষক সামগ্রী। তার জন্য উল বুনতে না জানলেও চলবে।
- ফুলদানি, পেনস্ট্যান্ড: কাচের জার বা বোতল ভাল করে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। কাচের পরিবর্তে মোটা প্লাস্টিকের জার বা বোতলও চলবে। তার গায়ে আঠা দিয়ে রঙিন উল জড়িয়ে নিন। গ্লু-গান ব্যবহার করলে এই ধরনের কাজ করতে সুবিধে হয়। এই কাজের জন্য এক বা একাধিক রঙের উল ব্যবহার করা যায়। একটু অন্য রকম করতে চাইলে সরাসরি উল বোতলের গায়ে না পেঁচিয়ে, আগে তিনটি রঙের উল নিয়ে লম্বা বিনুনি করে নিন। তার পরে গ্লু দিয়ে আটকে দিন। বোতল বা জার উল দিয়ে মোড়া হয়ে গেলে তার গায়ে কাগজ বা শোলার ফুল লাগানো যায়। চাইলে উলের রঙিন ফুল বা উলের ছোট-ছোট বল ডিজ়াইন করে আটকে দেওয়া যায়।
- উলের ফুল বা বল: ছোট-বড় নানা আকারের উলের ফুল ও বল তৈরি করা সহজ। এই ধরনের ফুল ও বল দিয়ে যেমন সাজানো যায়, তেমন তৈরি করে ফেলা যায় চাবির রিং, কানের দুল। প্রয়োজনে ওড়নার নীচে আটকানো যায়। উলের ফুল তৈরির জন্য একটু শক্ত পিসবোর্ড কেটে ফুলের মতো করে নিতে হবে। তার পরে সেই ফুলকাটা বোর্ড একরঙা বা একাধিক রঙের উল দিয়ে জড়িয়ে নিলেই হল। বোর্ড না থাকলে তর্জনী ও মধ্যমার আঙুলে রঙিন উল জড়িয়ে নিন। তার পরে জড়ানো উল আঙুল থেকে বার করে বাংলার চারের মতো করে বেঁধে নিতে হবে। চারের দুটো জোড়া মাথা কেটে নিয়ে ছেঁটে ছেঁটে গোল করে উলের বল তৈরি করতে হবে। অনেকটা কদম ফুলের মতো আকার নেবে। এমন একগুচ্ছ তৈরি করে একসঙ্গে গোছা করে বেঁধে ফুলদানিতে বসিয়ে দিন।
- দেওয়ালসজ্জায়: দুটো চপস্টিক বা কাঠি নিয়ে ক্রস করে রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে নিতে হবে। এর মাঝখানে উল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ফাঁকা জায়গা ভরাট করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একাধিক রঙের উল ব্যবহার করলে দেখতে ভাল লাগবে। আকার নেবে ঘুড়ির মতো। দুটো কাঠির জায়গায় তিন-চারটি বা তার বেশি কাঠি ব্যবহার করে তারা বা ষড়ভুজের আকার দেওয়া যায়। এ ভাবে ওয়াল হ্যাঙ্গিং তৈরি করা যায়। হ্যাঙ্গিংয়ের নীচে লাগানো যায় উলের বল বা মানানসই ঘণ্টা। শুধু দেওয়ালে নয়, এমন জিনিস তৈরি করে ঝুলিয়ে দেওয়া যায় বাগানের গাছেও। ছোট-ছোট উলের তারা তৈরি করে একটা সুতোয় গেঁথে দেওয়ালে, দরজা বা পর্দার পাশে ঝুলিয়ে দিলে নজর কাড়বে।
- রঙের বদলে উল: রং দিয়ে নয়, উল দিয়ে তৈরি হবে মনের মতো ছবি। একটু শক্ত পিসবোর্ড গোল, চৌকো পছন্দমতো আকারে কেটে নিতে হবে। তার উপরে রং করে বা একরঙা কাগজ আটকে নিতে হবে। এর পরে পেনসিল দিয়ে এঁকে নিন ফুল, পাতা, পাখি ইত্যাদি নকশা। সেই ছবি অনুযায়ী আঠা লাগিয়ে তার উপরে বসাতে হবে নানা রঙের উল। সরাসরি উল না বসিয়ে ব্রাশ গিয়ে উল ঘষে তুলোর মতো করে নিয়ে সুন্দর ফ্রেম তৈরি করে ফেলা যায়। আবার কাপড় ফ্রেমে আটকে পাঞ্চ নিডলের মাধ্যমে উল দিয়ে নজরকাড়া নকশা করা যায়।
- উলের মিনি বাস্কেট: কাগজের কাপ ও উল দিয়ে তৈরি করে ফেলা যায় উলের মিনি বাস্কেট। ঠিক যে ভাবে ঝুড়ি বোনা হয়, এই পদ্ধতিও তাই। বাঁশের কাঠামোর বদলে কাগজের কাপের নীচের অংশ অক্ষত রেখে কাঁচি দিয়ে সরু করে কেটে কাঠামো তৈরি করতে হবে। এ বার তার গায়ে যে ভাবে বাঁশ বা বেত জড়িয়ে ঝুড়ি বোনা হয় ঠিক সে ভাবে উল পেঁচিয়ে ভরাট করতে হবে। তারপরে সরু তারে উল জড়িয়ে বাস্কেটের হাতল। এমন উলের বাস্কেটে রাখতে পারেন গাছ-সহ টব। আবার ছোটদের পার্টিতে সাজিয়ে দিতে পারেন কাপকেক, ক্যান্ডি দিয়ে।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)