পীযূষ মিশ্র। ছবি: সংগৃহীত।
তিনি বরাবরই স্পষ্টবাদী। পীযূষ মিশ্র একাধারে অভিনেতা, গায়ক, কবি, গীতিকার। নিজের জীবনদর্শন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ভাবনাচিন্তা, সব কিছু নিয়েই অকপট তিনি। কলকাতায় অনুষ্ঠানের আগে আনন্দবাজার ডট কম-এর মুখোমুখি।
প্রশ্ন: পীযূষ মিশ্র নাকি খুব খামখেয়ালি এবং রাগী?
পীযূষ: আরে, ধুর! ছাড়ুন, কোথায় আর রাগ এখন? সে সব দিন আর নেই। আগে ছিলাম বদমেজাজি। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে আমি মানুষটা খুব শান্ত হয়ে গিয়েছি।
প্রশ্ন: কলকাতায় আবার অনুষ্ঠান। দেশের অন্যান্য শহরের দর্শকের সঙ্গে এই শহরের দর্শকের কোনও পার্থক্য খুঁজে পান কি?
পীযূষ: অনেক পার্থক্য। কলকাতার মানুষজন খুব সভ্য। এ এমন এক শহর, যেখানে আশ্চর্য সব সিনেমা তৈরি হয়েছে, কবিদের জন্ম হয়েছে, বড় বড় রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছে। খুব উর্বর জায়গা। রাজনৈতিক ভাবে ঋদ্ধ এক শহর। তা ছাড়া দেখুন, বিবেকানন্দ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋত্বিক ঘটকদের মতো মানুষের জন্ম এখানে। তাই অনুষ্ঠান ভাল হলে যেমন দরাজ প্রশংসা হয়, তেমনই খারাপ হলে একচুল মাফ করবেন না কেউ। দর্শক তৎক্ষণাৎ ছুড়ে ফেলে দেবে। তাই খুব সাবধানী ও সচেতন হয়ে গাইতে হয়। তবে আমি প্রতি বার খুবই আনন্দে গাই। আসলে লেখাপড়া জানা লোকেরা থাকেন তো! উল্টোপাল্টা জিনিস এই শহরের দর্শকেরা পছন্দ করেন না।
প্রশ্ন: দেশে হোক বা বিদেশে, আপনার কোন গানটি গাওয়ার অনুরোধ সব থেকে বেশি পান?
পীযূষ: নিঃসন্দেহে ‘আরম্ভ হে প্রচণ্ড’। আর ‘ঘর’, ‘হুসনা’ গানটা গাওয়ারও খুব অনুরোধ পাই। তবে ‘হুসনা’ গাইতে ভাল লাগে না। কোনও অনুভূতি বেঁচে নেই আমার ওই গানটার প্রতি।
প্রশ্ন: আপনার নিজের ব্যান্ড রয়েছে, বাংলা ব্যান্ডের গান কি শোনা হয়?
পীযূষ: নাহ্, একেবারেই না। কখনও শুনিনি। এটা আমার দুর্ভাগ্য। যেহেতু সঙ্গীত পেশার সঙ্গে জড়িত, তাই শোনা উচিত। আসলে সঙ্গীতে আমার তেমন কোনও আগ্রহ নেই। আমি নিজেকে অভিনেতা বলতেই ভালবাসি। আসলে আমি তো সেই অর্থে মিউজ়িশিয়ান নই। যে দিন থেকে ব্যান্ড তৈরি হয়েছে সে দিন থেকে লোকে গায়ক ভাবতে শুরু করেছেন।
প্রশ্ন: কিন্তু একটা প্রজন্ম তো আপনার লেখা গান, কবিতা পড়ে আপনাকে সেই জায়গায় রাখে।
পীযূষ: হ্যাঁ, আপনি ভাল গীতিকার বলতে পারেন আমাকে। আমি ছোট থেকেই লেখালেখি করছি। গায়ক তাঁরাই, যাঁরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন, নিয়মিত রেওয়াজ করেন। আমি তো তেমন কিছু করি না নিয়ম করে। আমার কাছে অগ্রাধিকার হল অভিনয়। তার পরে চিত্রনাট্য লেখার কাজ থাকে। সময় পেলে গান নিয়ে চর্চা। তাই নিজেকে দারুণ গায়ক দাবি করব না। তবে হ্যাঁ, গীতিকার আমি অবশ্যই।
প্রশ্ন: আপনার কবিতাও তো সমান ভাবে সমাদৃত।
পীযূষ: হ্যাঁ, যে গান লিখতে পারে, সে ভাল কবিতা লিখতে পারে। ইতিহাস তো তা-ই বলছে। শাহির লুধিয়ানভি, গুলজ়ার সাব, জাভেদ আখতার — যত বড় গীতিকার, সবাই দারুণ কবি। কইফী আজ়মীকেই দেখুন না, কী সব গান লিখেছেন! আর যাঁরা ‘তু মেরি ম্যায় তেরা’ টাইপের গান লেখেন তাঁদের গীতিকার বলেই মানি না।
প্রশ্ন: তার মানে, আপনার মানদণ্ডে কবিতা বা গানে সমাজ ও রাজনীতির কথা থাকাটা বাঞ্ছনীয়? তাই তো?
পীযূষ: হ্যাঁ। কারণ, আমি মনে করি, কবিতায় রাজনীতি থাকবে, সমাজনীতি থাকবে, ইতিহাস থাকবে, আবেগও থাকবে। তবেই তো কবিতার জন্ম হবে। যে কেউ কবি হতে পারেন না। কী বলুন তো, লেখা অন্যায় নয়। কিন্তু কোনও কারণ ছাড়া লেখাটা অর্থহীন।
প্রশ্ন: জানতে ইচ্ছে করে, আপনি আদ্যন্ত রূঢ় রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কী ভাবে প্রেমের গানের কথার ভিতরে জারিত করেন? যেমন ‘এক বগল মে চাঁদ হোগা...’
পীযূষ: পলিটিক্স ছাড়া আবার লেখা হয় নাকি? তবে এগুলো রাজনীতি নয়। আমি মনে করি ‘ইউটোপীয়’ ভাবনা, মানে আমি স্বপ্ন দেখি এমন একটা জায়গার, যেখানে কোনও দুশ্চিন্তা থাকবে না। এই গানটা আসলে একটা দর্শনের গান, বড় মাপের কোনও রাজনীতি জড়িয়ে নেই। আপনি ঋত্বিক ঘটকের ছবি ‘অযান্ত্রিক’ দেখুন, বা ‘সুবর্ণরেখা’, কিংবা সত্যজিৎ রায়ের ছবি দেখুন। সব কাজের নিজস্ব একটা রাজনীতি আছে। রাজনীতি বাদ দিয়ে কাজ করতে পারবেন না। বলা ভাল, কোনও ধরনের সৃষ্টি সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: ‘আরম্ভ হে’ কিংবা ‘বান্দে’— এই দুটো গানের অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেয়েছিলেন?
পীযূষ: আসলে উল্টোপাল্টা গান লিখতে আমি পারি না। ‘বান্দে’ গানটা অনুরাগ কাশ্যপ ওর ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ ছবিতে ব্যবহার করে। যেখানে বিস্ফোরণের গল্প, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ইতিহাস রয়েছে। তখনকার সমাজের যে অবস্থা দেখেছি, সে ভাবে নিজেদের দর্শনটা লিখতে চেষ্টা করেছি। আর ‘আরম্ভ হে’ গানটা লেখার অনুরোধ করেছিল অনুরাগই। ও ছাত্র রাজনীতির উপর একটা গান চেয়েছিল। জানি না, পরে কী এমন হল, যে কোনও পার্টির লোকজন এটা গাইছে। জাতীয় সঙ্গীতের মতো হয়ে গিয়েছে এখন।
প্রশ্ন: আপনি যে সব গীতিকার, কবিদের কথা বললেন, তাঁরা সিনেমার গান, প্রেমের গান লিখেছেন। আর আপনি তো গানে-কবিতায় বিপ্লবের পথ বেছে নিলেন, কেন?
পীযূষ: কী জানেন, আমি ওই ন্যাকা প্রেমের গান লিখতে পারব না কখনও। আবার ‘হায় চকা চক হ্যায়’-এর মতো গানও লিখতে পারব না। মানে আমি লিখতে চাইলেও পারব না, এই বিষয়ে প্রতিবন্ধী আমি। যাঁরা লিখছেন, তাঁরা ভালই লিখছেন।
প্রশ্ন: বর্তমানে যা রাজনৈতিক অবস্থা তাতে বিপ্লবী গান লেখা কি আদৌ নিরাপদ?
পীযূষ: একেবারে নিরাপদ। যত খুশি লিখুন প্রাণভরে লিখুন, তবে একটু বুঝেসুঝে। অনুরাগ কাশ্যপের মতো কথা বললে হবে না। ও আমার বন্ধু। কিন্তু বড্ড বেশি বলে ফেলে। রাজনৈতিক গানই তো লিখবেন? লিখুন, লোককে তো আর মারছেন না! সত্যটা হল, কলমের জোর নেই। ভাল লিখতে গেলে দম লাগে, সেটা নেই। এখন সবাই সহজ রাস্তায় হাঁটতে পছন্দ করেন।
প্রশ্ন: সম্প্রতি অনুরাগ কাশ্যপ বলেছেন, মুম্বইয়ে ভাল কাজ হচ্ছে না। উনি হতাশ এই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে। সত্যিই কি ভাল কাজ হচ্ছে না?
পীযূষ: ধুর, ছাড়ুন তো! প্রচুর ভাল কাজ হচ্ছে। ও মাঝেমধ্যেই ভুলভাল কথা বলে। এত প্রাণের বন্ধু আমার, কিন্তু ওর বাজে বকার জন্য কাজের ক্ষতি হচ্ছে। ওর অনেক কাজ যেগুলি দর্শকের কাছে কত আগে পৌঁছে যাওয়ার কথা, কিন্তু হচ্ছে কই? অকারণ বিপ্লবীয়ানা দেখানোর জন্যই সমস্যা। কার জন্য প্রতিবাদ করতে হবে, কেন প্রতিবাদ করতে হবে এবং আদৌ প্রতিবাদ করতে হবে কি না, সেটাও বুঝতে হবে। অনুরাগের অধিকাংশ কথার সঙ্গে একমত হতে পারি না। কিন্তু ও আমার বন্ধু, তাই আমারও কিছু করার নেই।
প্রশ্ন: অভিনেতা পীযূষ মিশ্র তো সেই কোন নব্বইয়ের দশক থেকে কাজ করছেন। দর্শকের ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’ অবধি সময় লাগল আপনাকে চিনতে?
পীযূষ: আসলে আমি মূলত থিয়েটার করতাম। আর ভারতে থিয়েটার তো ততটা জনপ্রিয় মাধ্যম নয়, যতটা ব্রিটেন কিংবা আমেরিকায়। আর লোকে এখানে পেশা হিসেবে থিয়েটার করেন না। আসলে পেশাদার ভঙ্গিতে থিয়েটারটা করা হয় না, তাই প্রচারের আলোও পায় না। আর লোকে দেরিতে জেনেছে, জানুক। অন্তত জানতে পেরেছে এই অনেক। জীবনের থেকে খুব একটা উচ্চাশা কখনওই ছিল না আমার। যেটা পেয়েছি, অনেক। জীবনে অনেক কাজ বাকি আছে।
প্রশ্ন: কলকাতায় বহু মানুষ থিয়েটার করেন। এই পেশাটার সঙ্গে ভালবেসেই জড়িত। এটার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলবেন?
পীযূষ: তেমন আহামরি কোনও আশা রাখি না। চল্লিশ বছর আগে যেমন ছিল, তেমনই আছে, তেমনই থাকবে। যতক্ষণ না সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে, এ ভাবেই চলবে। থিয়েটার যতক্ষণ না ইন্ডাস্ট্রি হবে, ততক্ষণ কোনও উন্নতি হবে না। তবে থিয়েটার কখনও মরবে না, এটা বলতে পারি।
প্রশ্ন: অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে কাজ করার সময় মতবিরোধ হয়?
পীযূষ: না, বিন্দুমাত্র হয় না। আমি গান নিয়ে যাই, ও সঙ্গে সঙ্গে হ্যাঁ করে দেয়। আজ পর্যন্ত কোনও গানে কলম ছোঁয়ায়নি। আমরা যখন কাজ করি, কোনও চাপ হয় না। লোকে অবশ্য বিশ্বাস করতে চান না। সত্যি বলতে আমাদের তেমন কথা হয় না। কাজের জন্যই কথা হয়।
প্রশ্ন: আপনার লেখায় গানে বার বার ‘ইনকিলাব’ উঠে এসেছে, আপনি বাম রাজনীতি করেছেন। এ দেশে বামপন্থার ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল?
পীযূষ: লেফটিস্ট হওয়াটা দরকার, ‘রেবেল’ হওয়াটা দরকার। সরকারের বিরোধিতা করাটা দরকার। জানি না, আজকাল কত জন সেটায় বিশ্বাস করেন। কুড়ি পেরোলেই মানুষের মধ্যে লাল ঝান্ডা হাতে নেওয়ার ছটফটানি কাজ করে। লাল ঝান্ডা একটা সময়ে ছিল। আজ কমিউনিজ়ম সব জায়গা থেকেই বিদায় নিয়েছে। ষাটের দশকে, সত্তরের দশকে, এমনকি নব্বইয়ের দশকেও বামপন্থীদের ভাল প্রভাব ছিল। এই শতাব্দী থেকেই এদের প্রভাব কমতে থাকে। বড্ড গোঁড়া এরা। নিজেদের নমনীয় করতে হয়, উদার হতে হয়। সেটা ওরা করেনি। আপনাদের রাজ্যেই দেখুন না, কী হল। বাংলায় কত বছর ধরে বাম সরকার ছিল। কিন্তু তার পর যা হল সবাই জানে। নিশ্চয়ই দোষ আছে এদের, কিন্তু মানতে চাইবে না এরা। কমিউনিস্টদের সমস্যা এটাই। নিজেদের দোষ দেখবে না, বাকি পৃথিবীর ভুল ধরবে।
প্রশ্ন: কলেজ থেকে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পার্টির সদস্যপদ ছিল?
পীযূষ: না, কখনওই না। আমি বামমনস্ক ছিলাম, বাড়িতে সকলেই তেমন চিন্তাভাবনাই করতেন। আমার লেখায় বাম রাজনীতির প্রভাব ছিল। ভাল সময় ছিল।
প্রশ্ন: ‘লেফটিস্ট’ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলেন তা হলে?
পীযূষ: নিজের পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করা কি অন্যায়? আমার অনেক আগেই সে পথে হাঁটা উচিত ছিল। বিয়ে, সংসার করে যদি সে অর্থ উপার্জন না করে, তা হলেই সে অন্যায় করবে। তবে বামপন্থা ছেড়ে দক্ষিণপন্থার রাজনীতিতে যাওয়াটা অবশ্যই খারাপ। আমি সেই পথে হাঁটিনি।
প্রশ্ন: আজকাল কথায় কথায় ‘নিষিদ্ধ’ করা হচ্ছে, ‘বয়কট’ করা হচ্ছে। কী বলবেন?
পীযূষ: মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে যাচ্ছে। একটা পর্যায় চলছে এখন। কী আর করা যাবে! কিন্তু আমাদের ব্যান্ডের প্রচুর রাজনৈতিক গান, সামাজিক গান রয়েছে। কেউ কখনও মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়নি। কারণ, আমরা অযৌক্তিক কথা বলি না। আপনি ফালতু কথা বলবেন, লোকে তো চটে যাবেই। মনোজ বাজপেয়ীর অভিনীত ছবির নাম ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’। এটা কেমন নাম সিনেমার? এটা তো কোনও সিনেমার নাম হতে পারে না। ছবিটা আমার বন্ধুদের বানানো। কিন্তু নামটা এখন ওরা বদল করছে ঠিকই। আমার মনে হয়, আপত্তি না তুললেও এই নামটা বদলে দেওয়াই উচিত। জোরজবরদস্তি কিছু করলে মানুষ তো রেগে যাবেই।
প্রশ্ন: ভারতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন প্রকট হচ্ছে? কী মনে হয়?
পীযূষ: ১৯৪৭-এর সময় থেকেই এটা চলছে। আগেও ছিল। তবে ‘জিন’টাকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল এখন সেই ‘ভূত’টা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। পার্থক্যটা হল, আগে আড়ালে হত, এখন সব খুল্লমখুল্লা হচ্ছে।
প্রশ্ন: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কী মত?
পীযূষ: ২০১৮ সালে কলকাতায় কুড়ি দিন মতো ছিলাম। একটা শুটিংয়ের জন্য। ওঁর সঙ্গে দেখা হয়নি কখনও। আর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে দেখা করার কোনও ইচ্ছা আমার নেই।
প্রশ্ন: সম্প্রতি অরিজিৎ সিংহ প্লেব্যাক থেকে অবসর নিয়েছেন। ভাল গানবাজনা করতে গেলে কি সিনেমা থেকে সরে আসা দরকার?
পীযূষ: ওর সঙ্গে একবার কথা হয়েছিল আমার। আমার মনে হয়, ওই এক মন ভাঙার গান গাইতে গাইতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে। কতদিন ওই এক মন ভাঙার গান গাইবে! আমার মনে হয়, সিনেমা থেকে বিরতি নিয়ে নতুন গান লেখা উচিত ওর। ‘আরম্ভ হে প্রচণ্ড’-র মতো গান লিখুক না। তবেই না গাইতে ভাল লাগবে। অবসর নেওয়ার দরকার নেই। বরং নতুন কিছু করুক। তা হলে তো কনসার্টও করা উচিত নয়। কারণ, সেখানে তো সিনেমার গানই গাইতে হয়। টাকা পাচ্ছেন বলেই কি সেখানে গান গাইছেন?
প্রশ্ন: পীযূষ মিশ্রের কি সত্যিই পাকিস্তানে কোনও প্রেমিকা ছিলেন?
পীযূষ: একেবারেই না। বহু আগে আমি একটা নাটকের জন্য ‘হুসনা’ গানটা লিখেছিলাম। তখন বন্ধুবান্ধবই জানত। পরে তো কোক স্টুডিয়োর দৌলতে এতটা জনপ্রিয় হয়। আমি নিজেই জানতাম না, আমি এমন দারুণ গান লিখেছি। তবে পাকিস্তানে কোনও প্রেমিকা নেই, যদিও পাকিস্তানে গিয়েছিলাম এক বার। ইসলামাবাদ দারুণ সুন্দর শহর।
প্রশ্ন: আপনার তো রঙিন জীবন ছিল একসময়, স্বামী হিসেবে কত নম্বর দেবেন নিজেকে?
পীযূষ: এখন তো নম্বরই নম্বর! এখন তো শুধু স্বামী হয়ে গিয়েছি, এই বয়সে আর কী-ই বা করব? কার কাছে যাব? আমার স্ত্রী খুব ভাল, দুই পুত্রসন্তান। সুন্দর একটা সংসার।
প্রশ্ন: কলকাতায় এলে স্ত্রীর জন্য কী নিয়ে যান?
পীযূষ: আমি রসগোল্লা নিয়ে যাই। আর নিজে মাছভাত খেতে খুব ভালবাসি।
প্রশ্ন: আজকাল তো মাছমাংস খাওয়া নিয়েও ঝামেলা চলছে।
পীযূষ: এ দেশে ঝামেলা চলতেই থাকে। এটা নতুন কিছু নয়। যে কোনও ঝামেলা তিন-চার দিন চলবে। তার পরে এমনিই থেমে যাবে। তাই এগুলোকে পাত্তা দিই না।
প্রশ্ন: জীবনে কোনও আক্ষেপ রয়েছে?
পীযূষ: আগে ছিল। এখন আর নেই। আমরা যা কিছু করছি, সবটাই ঈশ্বরের ইচ্ছেয়। আমি জীবনে যা পেয়েছি, যে সময়ে পেয়েছি, সেই সময়ে পাওয়ার কথা ছিল। তাই আর আক্ষেপ নেই।