Interior Design for Mental Health

মনের মেঘ কাটবে অন্দরসজ্জায়, সুন্দর করে ঘর সাজালেও দূর হয় বিষণ্ণতা

মনখারাপ। মাথায় হাবিজাবি চিন্তার পাহাড়। একরাশ বিষণ্ণতা ঘিরে ধরেছে। মন ভাল করার ওষুধ খাবেন কি না ভাবছেন। প্রয়োজন নেই। সুন্দর করে ঘরটা সাজিয়েই দেখুন না। নিমেষে কেটে যাবে বিষাদের মেঘ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৪:৪৪
Share:

ঘর সাজান যত্ন করে, ভাল থাকবে মন। ফাইল চিত্র।

মনখারাপ হলে কী করেন? কেউ মোবাইলে স্ক্রল করতে বসে যান, কেউ ইন্টারনেটে খুঁজে দেখেন মন ভাল করার উপায়। মন কিসে ভাল হবে, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কেউ বলেন, রান্না করলে মনের চাপ কমে যায়। কারও মতে, বই পড়লে মন ভাল হতে পারে। যদি কোনও কিছুতেই মন না বসে, তা হলে ঘর সাজিয়ে দেখতে পারেন। অগোছালো ঘর সুন্দর করে সাজিয়ে ফেলুন। তাতেই যত উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা কেটে যাবে। ফুরফুরে হবে মেজাজ।

Advertisement

এ কেবল কথার কথা নয়। পরীক্ষিত সত্য বলেই দাবি গবেষকদেরও। পাবমেড থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রেও তেমনই লেখা হয়েছে। দেওয়ালের রং, আসবাবের সাজসজ্জা, সুন্দর করে সাজানো ঘরের কোন অথবা বারান্দায় সবুজ গাছগাছালি— সবেরই প্রভাব পড়ে মনে। খেয়াল করে দেখবেন, অপরিষ্কার ও অগোছালো ঘরে থাকলে মন এমনিতেই খারাপ হবে। বিরক্তি ভাব বাড়বে। পরিপাটি, সাজানো গোছানো ঘর মন ভাল করে দেনে নিমেষে। ইতিবাচক ভাবনাও আসবে।

ঘর সজালেও ভাল থাকে মন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বিষণ্ণতা কাটাতে সবচেয়ে আগে অদরকারি ও অপ্রয়োজনীয় আসবাবগুলিকে সরিয়ে ফেলুন। ফাঁকা জায়গা বা 'নেগেটিভ স্পেস' মনকে স্বস্তি দেয় এবং চিন্তার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে। তার পর নজর দিনে ঘরের কোণে। ঘরের কোনা যদি সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা যায়, তা হলে গোটা ঘরের সাজেই নান্দনিকতার ছাপ পড়ে। ঘরের কোন আসবাব দিয়ে সাজাতে পারেন, অথবা রাখতে পারেন বড় লম্বা ফুলদানি বা ফ্লোর ল্যাম্প। কর্নার টেবিল থাকলে সেটার উপর মানানসই শো-পিস দিয়েও সাজাতে পারেন।

Advertisement

‘ডোপামিন ডেকর’ নিয়ে এখন খুব আলোচনা হয়। এই সাজসজ্জার উদ্দেশ্য হল এমন রং বা জিনিস ব্যবহার করা, যা মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' বা সুখের হরমোন নিঃসরণ ঘটায়। উজ্জ্বল রং, যেমন হলুদ, গোলাপি বা আকাশি মন ভাল রাখে। এমন রঙে দেওয়াল রাঙাতে পারেন। অথবা এই রঙের শো-পিস রাখতে পারেন ঘরে।

মানসিক চাপ কমানোর সহজ পাঠ। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সবুজ গাছ মন ভাল রাখতে পারে। এখন ‘বায়োফিলিক ডিজ়াইন’ নিয়েও ভাবনাচিন্তা হচ্ছে। অন্দরসজ্জার এটিও এক নতুন ধারা। প্রাকৃতিক যা কিছু আছে, তা দিয়ে ঘর সাজানোর পদ্ধতিই হল বায়োফিলিক। তা গাছ হতে পারে, প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি কোনও শো-পিস হতে পারে। গাছ যদি বেশি পছন্দ হয়, তা হলে বেছে নিন কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট। তবে এখানেও নিয়ম আছে। গবেষণা বলছে, ঘরের ৬০ শতাংশের বেশি যদি আসবাব ও গাছ দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়, তা হলে বিষণ্ণতা কাটার বদলে আরও বাড়বে। তাই কোথায় কোথায় গাছ রাখবেন, সে জায়গা আগে বেছে নিতে হবে। ঘরের জানলায়, বারান্দা বা খাটের পাশে অথবা পড়ার টেবিলের উপরে গাছ রাখা যেতে পারে। কী গাছ রাখবেন? মন ভাল রাখবে পিস লিলি, এরিকা পাম বা স্নেক প্ল্যান্টের মতো কিছু গাছ। এগুলি কম যত্নেও দিব্যি বেঁচে থাকে।

একটু সৃজনশীল হলে পুরনো জিনিসপত্র দিয়েই ঘর সাজিয়ে নেওয়া যেতে পারে নতুন রূপে। পুরনো কাচের বোতল, খবরের কাগজও সৃজনশীলতার গুণে হয়ে উঠতে পারে চমকপ্রদ ঘর সাজানোর জিনিস। পুরনো প্লাস্টিক বোতল দিয়ে বানিয়ে নিন ঝুলন্ত টব, কাচের বোতল অর্ধেক করে নিয়ে ছাদ বা ব্যালকনির জন্য ঝুলন্ত বাতিও বানাতে পারেন। দামি জিনিস না কিনে, সাধারণ উপকরণেই ভোল বদলে দিন ঘরের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement