পোষ্য হিসেবে মাছ রাখার শখে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্লান্টেড অ্যাকোয়ারিয়াম। ঘরের শোভাবর্ধনের পাশাপাশি অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে তৈরি এই বাস্তুতন্ত্র মাছের বেড়ে ওঠার পক্ষেও উপযুক্ত। অ্যাকোয়ারিয়াম সয়েল, ওয়াটার প্লান্ট, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, এলইডি— সব ঠিক মতো প্রস্তুত করে তৈরি করতে হয় এই ধরনের সেট-আপ। জাপানে প্রথম শুরু হওয়া এই ধরনের প্লান্টেড অ্যাকোয়ারিয়াম এখন সারা বিশ্বে জনপ্রিয়।
যা যা লাগবে
প্রথমেই ঠিক মাপের একটি ট্যাঙ্ক বেছে নিতে হবে। যাঁরা প্রথম বার করছেন, তাঁরা বেছে নিতে পারেন ৪০-৬০ লিটারের ট্যাঙ্ক, যা আনুমানিক ২ ফুটের কাছাকাছি দীর্ঘ। ট্যাঙ্কের আয়তন একটু বড় হলে ভিতরের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখা খানিক সহজ হয়, জল ও মাছের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। অ্যাকোয়ারিয়াম সয়েল (সারমিশ্রিত), লাভা রক, ড্রিফ্ট উড, রুট ক্যাপসুল ইত্যাদি সরঞ্জাম প্রথমেই কিনে ফেলুন। এর সঙ্গে দরকার এলইডি আলোর ঠিক সেট-আপ এবং ভাল ফিলট্রেশন সিস্টেম। ওয়াটার প্লান্টের ঘনত্ব আর উপকারী ব্যাক্টিরিয়ার জোগানের জন্য এই ফিলট্রেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দরকার ঠিক মাপের কার্বন-ডাই-অক্সাইড সিলিন্ডারও।
সেট-আপের গোড়ার কথা
ট্যাঙ্ক ভাল করে পরিষ্কার করে নিয়ে তাতে সয়েল দিয়ে বেস তৈরি করে নিতে হবে প্রথমেই। রুট ক্যাপসুল দিয়ে দিন, এতে গাছের গ্রোথ ভাল হবে। এ বার ভিতরে লাভা রকগুলি কী ভাবে সাজাবেন, সেটা আপনার নিজস্বতার উপরে নির্ভর করবে। অ্যাকোয়াটিক অ্যাডেসিভ দিয়ে জোড়া দিয়ে দিয়ে ট্যাঙ্কের ভিতরে রক ওয়াল তৈরি করতে পারেন। বাকি অংশটা মাটি ও অ্যাকোয়ারিয়াম স্যান্ড দিয়ে কভার করে নিন।
গাছের নানা রকম
আনুবিস, জাভা ফার্ন, আমাজ়ন সোর্ডের মতো অ্যাকোয়াটিক প্লান্ট দিয়ে শুরু করতে পারেন। যত বেশি ধরনের গাছ লাগাবেন, অ্যাকোয়ারিয়ামের বাস্তুতন্ত্রের পক্ষে তা ততটাই ভাল। দেখতেও ভাল লাগবে। ট্যাঙ্কের সামনের দিকে ছোট মাপের ও পিছনের দিকে একটু বড় মাপের গাছ লাগাতে পারেন। এতে অ্যাকোয়ারিয়ামে একটা থ্রি-ডি এফেক্ট আসবে। গাছগুলো মাটিতে বসানোর পরে তার গায়ে হালকা জল স্প্রে করে একটা প্লাস্টিকের শিট দিয়ে অ্যাকোয়ারিয়ামের খোলা অংশটা এক সপ্তাহ মতো ঢেকে রেখে দিন।
আলোর ব্যবস্থা
অ্যাকোয়ারিয়ামের জন্য বিশেষ ভাবে ডিজ়াইন করা ফুল স্পেকট্রাম এলইডি আলো দরকার। তবে খুব জোরালো আলো নয়, অ্যালগির বৃদ্ধি রুখতে একটু ঢিমে আলো যথেষ্ট। দিনে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা যথেষ্ট আলো দরকার হয় গাছগুলির, যাতে তাদের সালোকসংশ্লেষ সম্পূর্ণ হয়। টাইমার সেট করে রাখতে পারেন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের পরে আলো নিজে থেকেই অফ হয়ে যায়। ট্রপিকাল ফিশ থাকলে কিংবা শ্রিম্প রাখলে অ্যাডজাস্টেবল হিটার রাখতে হবে। ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রাখাই বাঞ্ছনীয়।
কী ধরনের মাছ রাখবেন?
গাপ্পি, মলি, এঞ্জেলফিশ, নিওন টেট্রার মতো মাছ দিয়ে শুরু করতে পারেন। ট্যাঙ্কের আয়তন অনুযায়ী মাছের সংখ্যা নির্ধারণ করবেন। খুব বড় আকারের মাছ না রাখাই ভাল। যে মাছগুলি নিজে থেকেই ময়লা পরিষ্কার করে, সেই ধরনের মাছ বাছাই করুন। হিংস্র প্রকৃতির, ধ্বংসাত্মক ব্রিড রাখবেন না। অনেকেই এই ধরনের প্লান্টেড অ্যাকোয়ারিয়ামে শ্রিম্প বা চিংড়ি রাখেন। নীল-সবুজের প্রেক্ষাপটে লাল শ্রিম্পের ঝাঁক দেখতেও খুব সুন্দর লাগে।
কী ভাবে পরিষ্কার করবেন?
সপ্তাহে অন্তত এক দিন ট্যাঙ্কের ৫০ শতাংশ জল ফেলে দিয়ে ফ্রেশ জল ভরুন। জলের তাপমাত্রা যেন একই থাকে। কাচের ভিতরের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। অ্যালগির বাড়বৃদ্ধি যাতে না হয়, তার জন্য এই পরিচ্ছন্নতা জরুরি। বেড়ে ওঠা গাছের শাখাপ্রশাখার প্রুনিংও জরুরি। মাসে অন্তত একবার পুরো ট্যাঙ্কটি ভাল করে পরিষ্কার করা দরকার। এই সময়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড সিলিন্ডার, এলইডি আলো চেক করে নিন। ভিতরের ফিল্টারটিও পরিষ্কার করে নিন। পাথরগুলিতে শ্যাওলা পড়লে ব্রাশের সাহায্যে ঘষে পরিষ্কার করে নিন। খেয়াল রাখবেন, অতিরিক্ত ক্লোরিনের ব্যবহার কিন্তু উপকারী ব্যাক্টিরিয়াকে নষ্ট করে। সয়েল বেডে সার দিন মাসে একবার, এতে গাছের বৃদ্ধি ভাল হবে।
প্লান্টেড অ্যাকোয়ারিয়াম শৌখিন জিনিস। মাছের এমন সাজানো ঘর থাকলে আপনার ঘরের শোভাও বাড়বে বইকি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে