চন্দ্রমল্লিকা গাছ থেকে নতুন চারা তৈরির পদ্ধতি। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
বাগান জুড়ে চন্দ্রমল্লিকা ফুল হয়েছে। সেই গাছ থেকে নতুন চারা তৈরি করতে চান? তার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে শীতের শেষেই। সঠিক কাটছাঁটের দ্বারাই এই কাজ সম্ভব। তার পর নতুন শাখা গজালে, তা থেকে তৈরি করতে হবে চারা।
শীতকাল চন্দ্রমল্লিকা ফোটার সময়। ফুল ফুটে শুকিয়ে গেলে কাঁচির সাহায্যে সেগুলি ডাঁটি-সহ কেটে ফেলতে হবে। শুকনো ফুল এক ইঞ্চি ডাঁটি-সহ কেটে পরিষ্কার করে নিলে সেখান থেকে ধীরে ধীরে নতুন শাখা গজাবে।
চন্দ্রমল্লিকার চারা তৈরির উপযুক্ত সময় হল বর্ষাকালের শেষ দিক বা শরতের শুরু। এতে শীত আসার আগেই গাছটি বেশ বড় হয়ে ওঠে এবং প্রচুর ফুল দেয়।
ডাল নির্বাচন
পুরনো বা সুস্থ গাছের ডগা থেকে ৩-৪ ইঞ্চি লম্বা কচি ডাল কেটে নিন। খেয়াল রাখবেন ডালটি যেন খুব বেশি শক্ত বা একদম নরম না হয়। কাটার জন্য ধারালো কাঁচি বা ব্লেড ব্যবহার করতে হবে যাতে ডালটি সহজে কাটা যায়।
চারা তৈরির প্রস্তুতি
ডালের নীচের অংশের পাতাগুলো সাবধানে ছিঁড়ে ফেলুন।উপরে মাত্র ২-৩টি পাতা থাকলেই হবে। ডালের নিচের অংশটি ৪৫ ডিগ্রি কোণে তেরছা করে কাটুন। এতে শিকড় দ্রুত গজায়। এর পর ডালের কাটা অংশটি হলুদ জলে ১০-১৫ মিনিট চুবিয়ে রাখুন। ৫০০ মিলিলিটার জলে ১ চামচ গুঁড়ো হলুদ দিলেই হবে।
মাটির প্রস্তুতি
৩০ শতাংশ বাগানের মাটির সঙ্গে ৩০ শতাংশ বালি যোগ করতে হবে। এতে মাটিতে জল জমতে পারবে না। থাকবে ২০ শতাংশ ভার্মি কম্পোস্ট বা গোবর সার এবং ২০ শতাংশ কোকোপিট। মাটি তৈরির পরে সেগুলি ছোট টবে বা কফির কাপে ভরে নিন। কাপে ভরলে নীচে ছিদ্র করা জরুরি, যাতে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যেতে পারে।
চারা রোপণ ও যত্ন
মাটিতে গর্ত করে ডালটি ১-১.৫ ইঞ্চি গভীরে পুঁতে দিতে হবে। অল্প জল দিয়ে
পাত্রটি ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে যাতে সরাসরি রোদ না লাগে। ১০-১৫ দিনের মধ্যে নতুন শিকড় গজাতে শুরু করবে। শিকড় ভালমতো গজিয়ে গেলে ছোট টব থেকে চারাটি বড় টবে বা মূল জমিতে বসিয়ে দিন।