ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
বর্ষশেষের পার্টি। মানে ফেলে আসা বছরের শেষ রাতের রঙিন উদযাপন। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকেই রঙের ফোয়ারা উপচে পড়তে শুরু করেছিল শহরে শহরে। সেই রং কোথায় কতটা চড়া হল আর কোথায় ফিকে, তার হিসাব দিল বাড়িতে বাড়িতে খাবার এবং পার্টির জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া অনলাইন সরবরাহ সংস্থাগুলি। দেখে নেওয়া যাক কয়েকটি পরিসংখ্যান।
বিরিয়ানির জয়
বর্ষশেষের পার্টিতেও বিরিয়ানি থেকে মুখ ফেরাতে পারেননি ভারতীয়েরা। ৩১ ডিসেম্বরের সন্ধে সাড়ে ৭টার মধ্যে ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৯৩ প্লেট বিরিয়ানি বিক্রি করেছে সুইগি। জ়োম্যাটোও জানিয়েছে, বর্ষবরণের উদযাপনে বিরিয়ানিকেই সঙ্গী করেছেন অধিকাংশ ভারতীয়। রাতের দিকে বিরিয়ানির অর্ডার হুড়মুড়িয়ে বেড়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কেক, তৃতীয় পিৎজ়া এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে বার্গার। অনলাইন সরবরাহ সংস্থা জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৭১১ কেক, ২ লক্ষ ২৪ হাজার ৫৯০টি পিৎজ়া এবং সন্ধে সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৯৯টি বার্গার বিক্রি হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচেতন
তবে খাবারের তালিকায় কিছু নাম দেখে অবাক হয়েছেন ওই সরবরাহ সংস্থার কর্মীরাও। কারণ, বর্ষবরণের রাতেও খিচুড়ি, উপমার মতো বাড়ির খাবারের চাহিদা বেড়েছে। ৯৪১০ জন খিচুড়ি অর্ডার করেছিলেন। উপমার অর্ডার এসেছে সাড়ে চার হাজারের কিছু কম। এমনকি বেঙ্গালুরুতে সে দিন সন্ধ্যায় স্যালাডের অর্ডারও এসেছে ১৯২৭টি।
মিষ্টিমুখ
মিষ্টির তালিকা থেকে যদি কেককে বাদ রাখা হয় তবে বাকি সব মিষ্টিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে গুলাব জামুন। বর্ষশেষের পার্টিতে প্রায় ৪৭ হাজার গুলাব জামুনের অর্ডার এসেছিল অনলাইনে। অতখানি জনপ্রিয় না হলেও বছর শুরুর আগে জমিয়ে গাজরের হালুয়াও খেয়েছেন অনেকে।
মুচমুচে
চিপস আর কুরকুরের বিক্রি সন্ধের দিকে আকাশ ছুঁয়েছিল। পঞ্জাবের এক তরুণ একাই ১০৮ প্যাকেট কুরকুরের অর্ডার দিয়েছিলেন সে দিন।
চায়ে প্রেম
বছর শেষের পার্টিতে আহার হবে অথচ পান হবে না, তা তো হতে পারে না। তবে মধ্যরাতের হুল্লোড়ে সারপ্রাইজ় এন্ট্রি নিয়েছে চা। দেখা গিয়েছে চা-প্রেমীরা বছর শেষে তাঁদের প্রিয় পানীয়কে ভুলতে পারেনি। অনলাইন সরবরাহ সংস্থা জানিয়েছে, নববর্ষের আগের রাতে প্রায় ৩০ হাজার কাপ চা সরবরাহ করেছে তারা।
কবাব-এ-কলকাতা
কলকাতার মানুষজন সম্ভবত সে দিন কবাব খেয়েছেন বেশি। কারণ অনলাইন সংস্থা জানিয়েছে, গোটা দেশে সবচেয়ে বেশি কয়লা এবং কবাব বানানোর কাঠির অর্ডার এসেছে কলকাতা থেকেই। রাত আটটা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মূল্যের অর্ডারও এসেছে কলকাতা থেকেই। এক ব্যক্তি প্রায় ৬৫ হাজার টাকার নানা রকমের খাবার জিনিসের অর্ডার দিয়েছিলেন।
রঙিন বেঙ্গালুরু
বেঙ্গালুরুর পার্টি সম্ভবত সবচেয়ে রঙিন ছিল। কারণ অনলাইন সরবরাহ সংস্থা জানিয়েছে, সেখানকার মানুষজন সবচেয়ে বেশি বকশিশ দিয়েছেন সরবরাহকারীদের। বর্ষশেষের পার্টি করে সবচেয়ে বেশি খুশি সম্ভবত তাঁরাই হয়েছেন। পাশাপাশি, ইনস্টামার্ট জানিয়েছে গোটা দেশে সবচেয়ে বেশি কন্ডোমের অর্ডারও এসেছে বেঙ্গালুরু থেকেই।