ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
বড় শোক বা মানসিক ধাক্কা সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দিতে পারে। আচমকা কোনও দুঃসংবাদ হলে নিজের বা কাছের মানুষটির এমন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে অনেক সময় ‘ইমোশনাল নাম্বনেস’ বলা হয়। এমন অবস্থায় নিজেকে দ্রুত সামলে নিতে কী কী করতে পারেন?
১. শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দিন
যখন কথা আটকে যায়, তখন শরীর অক্সিজেনের অভাব বোধ করে। এমন হলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। ৪ সেকেন্ড নাক দিয়ে শ্বাস নিন, ৭ সেকেন্ড ধরে রাখুন, এবং ৮ সেকেন্ড মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস ছেড়ে দিন। এটি নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করবে।
২. শারীরিক জড়তা কাটান
বাকশক্তিরহিত অবস্থায় শরীর জমে যায়। শরীরকে সচল করা জরুরি। এক গ্লাস ঠান্ডা জল খান। জলের স্পর্শ এবং গলার নিচে নামার অনুভূতি আপনাকে বাস্তবে ফেরাতে সাহায্য করবে। জোর করেই নড়াচড়া করুন। হাতের তালু ঘষুন বা একটু হাঁটার চেষ্টা করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং মস্তিষ্কে সংকেত যাবে যে আপনি নিরাপদ।
৩. নিজেকে সময় দিন
নিজের উপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবেন না। তৎক্ষণাৎ কথা বলতেই হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। ইশারায় কাউকে জানান যে আপনার সময় প্রয়োজন। কান্না পেলে চেপে রাখবেন না। কান্না শরীরের জমে থাকা মানসিক চাপ বের করে দেওয়ার একটি প্রাকৃতিক উপায়।
৪. নিরাপদ পরিবেশ খুঁজুন
যদি আশেপাশে অনেক ভিড় বা আওয়াজ থাকে, তবে দ্রুত কোনও নির্জন বা শান্ত জায়গায় চলে যান। বিশ্বস্ত কাউকে পাশে রাখুন যে আপনার অবস্থা বুঝতে পারবে, কিন্তু আপনাকে কথা বলার জন্য চাপ দেবে না।
মনে রাখবেন: বড় কোনো শোকের পর কয়েক ঘণ্টা বা দিন পর্যন্ত কথা বলতে না পারা বা ঘোরের মধ্যে থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে এই অবস্থা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই কোনো পেশাদার কাউন্সিলর বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।