ছবি: সংগৃহীত।
ঘড়ি ধরে পড়াশোনা করার পরেও অনেক সময় পড়ুয়ারা পরীক্ষার হলে গিয়ে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। কারও আবার কিছুতেই অঙ্কের ফর্মুলা মনে থাকে না। যতই পড়া হোক না কেন, তালগোল পাকিয়ে যায় ইতিহাসের সন-তারিখ।
কোন পন্থায় পড়লে সাফল্য মিলবে, তা নিয়ে নানা মত। তবে জাপানি কৌশল পরখ করে দেখতে পারেন। ৬ ধাপে পড়াশোনা করলে, বিষয়বস্তু বুঝে নেওয়া এবং তা মনে রাখা সহজ হতে পারে।
কাইদান হোশিকি: জাপানতে ‘কাইদান’ হল সিঁড়ি। এই পন্থা বলে ধাপে ধাপে পড়াশোনার কথা। উপরে উঠতে হলে যেমন এক লাফে ওঠা যায় না, সিঁড়ির প্রয়োজন পড়ে, এ-ও খানিক তেমনই। যে কোনও বিষয়েই গোটা একটি অধ্যায় ২-৩ দিনে পড়ে শেষ করার চেষ্টা করলে সমস্যা হতে পারে। বিশেষত মনে রাখার ক্ষেত্রে। কারণ, বিষয়বস্ত নতুন হলে সেটি বুঝতে সময় লাগে। জাপানি এই পন্থা বলছে, বড় একটি অধ্যায় ছোট ছোট অংশে ভেঙে নিয়ে, তার পর পড়তে। একটি অংশ পড়ার পর তা যদি ভাল ভাবে বোধগম্য হয়, তার পরেই পরের অংশটি পড়া ভাল। তা ছাড়া একসঙ্গে অনেকটা পড়তে হবে, এই ভাবনাই ভীতিপ্রদ। এইটুকু পড়ে নিলেই হবে, সেই ভাবনা তুলনামূলক ভাবে স্বস্তিদায়ক। অনেক সময় মনোবিদেরাও এই ভাবে পড়তে বলেন।
শিকাকু-কা: শব্দের চেয়েও ছবি অনেক বেশি সহজে মস্তিষ্কে গেঁথে যায়। যে বিষয়টি পড়া হচ্ছে, সেটি যদি চোখের সামনে ভেসে ওঠা স্বাভাবিক ভাবেই তা বোঝা এবং মনে রাখা সহজ হবে। ঠিক সেই কারণে, ছবি বা মডেলের ব্যবহার পড়াশোনার ক্ষেত্রে খুব জরুরি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিডিং পড়ে যাওয়ার চেয়ে বিষয়টি যদি ছবি এঁকে বা মডেল তৈরি করে বা ভিডিয়ো দেখিয়ে কেউ বুঝিয়ে দেন, বোঝা সহজ হয়।
অনদুকু: মা-ঠাকুরমারা বলেন, জোরে জোরে পড়তে। এতে পড়ার বিষয় কানে পৌঁছোয়। সেটাই বলছে অনদুকু। জাপানি এই পন্থা অনুযায়ী, জোরে পড়লে পড়াশোনার বিষয়বস্তু যে হেতু কানে শোনা যায়, তাই মনে রাখতে সুবিধা হয়। তবে অমনোযোগী হয়ে শুধু জোরে জোরে পড়লেই হবে না। কী পড়া হচ্ছে, সেটি বুঝে পড়া খুব জরুরি। এটি মনে গেঁথে যাওয়ার কারণ, চোখ লেখা পড়ছে, মুখ সেটি বলছে এবং কান শুনছে।
জিকো-সেতসুমেই: জাপানি এই পন্থা বলছে, পড়ার বিষয়টি নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করা। যেন পড়াটা নিজেই নিজেকে বোঝানো হচ্ছে। নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে পড়াটা বোঝালে, সেটা খুব ভাল ভাবে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। ঠিক সেই কারণে, বিষয়বস্তু অনেক দিন পর্যন্ত স্মৃতিতে থেকে যায়। আসলে যখন কেউ কোনও বিষয় কাউকে বোঝাতে যান, তাঁকে নিজেকে আগে সেটি ভাল করে বুঝতে হয়। মস্তিষ্ক তথ্যগুলিকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে নেয়।
সুতরাং পড়ার সময় ৫ ধাপ অনুসরণ করতে হবে। বিষয়বস্তু ছোট অংশে ভাগ করে পড়া। বুঝে পড়া। ছবি বা মডেলের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা। জোরে পড়ে সেটি মনে রাখা। এবং সব শেষে নিজেকে বোঝানো।