রেস্তরাঁয় জলের দাম বেশি নিলে কী বলবেন? ছবি : সংগৃহীত।
রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছেন। আপনাকে প্রশ্ন করা হল, খাওয়ার জল হিসাবে মিনারেল ওয়াটার নেবেন, না কি সাধারণ কলের জল। আপনি মিনারেল ওয়াটার বললেন। কিন্তু বিল দেওয়ার সময় দেখলেন সাধারণ ১ লিটার জলের বোতলের দাম নেওয়া হয়েছে মূদ্রিত দামের প্রায় তিন গুণ! প্রতিবাদ করবেন কি? না কি মেনে নেবেন?
ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনের একটি সাম্প্রতিক রায় বলছে, এমন ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করাই উচিত। ঘটনাটি প্রথম ঘটেছিল ২০২৩ সালে চণ্ডীগড়ের এক রেস্তরাঁয়। এক মহিলা সেই রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়ার পর বিল দিতে গিয়ে দেখেন বিল হয়েছে ১৯২২ টাকার। তাতে রাজ্যের এবং কেন্দ্রের পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি রয়েছে। তার সঙ্গে ২০ টাকার সাধারণ মিনারেল ওয়াটারের দাম ধরা হয়েছে ৫৫ টাকা। অর্থাৎ মূদ্রিত দামের প্রায় তিন গুণ।
বিষয়টি নিয়ে ওই মহিলা প্রথমে জেলা ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে অভিযোগ করেন। কিন্তু সেই অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়। এর পরে তিনি যান রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনে। শুনানিতে অভিযোগকারিণী নিজেই নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দেন। প্রশ্ন তোলেন, কেন রাজ্য এবং কেন্দ্রকে পরিষেবা কর দেওয়া সত্ত্বেও রেস্তরাঁ থেকে কেনা একটি ২০ টাকার জলের বোতলের জন্য বাড়তি আরও ৩৫ টাকা দিতে হবে তাঁকে। বিশেষ করে ওই জল যখন রেস্তরাঁ নিজে থেকে তৈরি করছে না। সেখানে বাড়তি দাম নিচ্ছে কিসের যু্ক্তিতে। রেস্তরাঁর আইনজীবীর পাল্টা যুক্তি ছিল, একটি রেস্তরাঁয় বসে খাওয়ার সুবিধা, সেখানকার পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য, বাতানুকূল ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিষেবার জন্য সেখানে পরিবেশন করা যে কোনও জিনিসেই বাড়তি দাম নেওয়া নায্য। কিন্তু রেস্তরাঁর যুক্তি শোনামাত্রই খারিজ করে দেয় চণ্ডীগড়ের ক্রেতা সুরক্ষা কমিশনও।
কমিশন জানিয়ে দেয়, রেস্তরাঁ যে পরিষেবা দিচ্ছে, তার জন্য তাঁদের তৈরি খাবারের মেনুতে ইচ্ছেমতো দাম ধার্য করতে পারে। সে ব্যাপারে তাদের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু বোতলবন্দি মিনারেল ওয়াটার যা আগে থেকেই প্যাকেজিং করা রয়েছে, তার উপর তারা বাড়তি দাম বসাতে পারে না। বিশেষ করে সেই বোতলে, যেগুলি বাইরে একটি নির্দিষ্ট দামে পাওয়া যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ২০১১ সালে প্রণীত ভারতীয় লিগাল মেট্রোলজি (প্যাকটজাত জিনিস সংক্রান্ত) আইনের উল্লেখ করে কমিশন বলেছে, যে পণ্যে আগেই এমআরপি বা ম্যাক্সিমাম রিটেল প্রাইস অর্থাৎ সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য মূদ্রিত রয়েছে, তাতে আগেই সমস্ত রকম ট্যাক্স এবং প্যাকেজিংয়ের খরচ ধরা থাকে। ধরা থাকে বিক্রেতার নিজস্ব লাভের অংশও। সেই দামের থেকে বাড়তি দাম নিয়ে ওই পণ্য বিক্রি করা আদতে আইন ভাঙার সমান। বিক্রি কে করছে বা কোথায় হচ্ছে, তা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়।