Expensive Mango in West Bengal

জাপানের সূর্যের ডিম ‘মিয়াজ়াকি’ কি সত্যিই এসেছে কলকাতায়? ল্যাংড়া, ফজলির চেয়ে কত আলাদা সে আম

দামে লক্ষাধিক, গুণে নাকি ‘সরস্বতী’। সুমিষ্ট আম কি সত্যিই এখন জাপান ছেড়ে কলকাতায় হাজির হয়েছে? এখানে যে মিয়াজ়াকি পাওয়া যায়, তা কি সত্যিই জাপানের আমটির মতো?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৯
Share:

কলকাতার মিয়াজ়াকি কি জাপানের মতোই উৎকৃষ্ট? ছবি:শাটারস্টক।

এখন নাকি কলকাতাতেই দুনিয়ার ‘সেরা’ আম কিনতে পাওয়া যায়। শুধু পাওয়া যায় বললে ভুল হবে, তা নাকি ফলেও শহরের আশপাশের কয়েকটি বাগানে।

Advertisement

কিন্তু দামে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী সে সুমিষ্ট আম কি সত্যিই এখন জাপান ছেড়ে কলকাতায় হাজির হল?

নাম তার মিয়াজ়াকি। সেই আমের এক একটির দাম লক্ষাধিক টাকা হয়। কিন্তু কলকাতায় যে মিয়াজ়াকি পাওয়া যায়, তা কি সত্যিই জাপানের আমটির মতো?

Advertisement

‘তাইয়ো নো তামাগো’ বা সূর্যের ডিম

সোনার ডিম পাড়া হাঁসের গল্প শোনা যায় ঈশপের গল্পে। সেই ডিম সোনালি। তবে, জাপানে মেলে ‘তাইয়ো নো তামাগো’ বা ‘সূর্যের ডিম’। রঙেই যার পরিচয়। ডিম নয়, এ হল আম। লালরঙা আমের গড়ন অনেকটা ডিমের মতো বলেই এমন নামকরণ। বিশ্বদরবারে এই আম পরিচিত মিয়াজ়াকি নামে।

যাঁরা এর স্বাদ পেয়েছেন, তাঁরাই বলেন, জাপানের মিয়াজ়াকি রসে টইটম্বুর, তার সৌরভ মন মাতানো। গাঢ় লাল রঙের। দাগছোপহীন মসৃণ খোসা। দেখতে খানিক ডিমের মতোই। এর রং, আকার, স্বাদ তাকে বিশ্বের আর পাঁচটি আমের চেয়ে আলাদা করেছে।

উৎকৃষ্ট মানের সেরা আমটির গড়ন হয় ডিমের মতো। জাপানের মিয়াজ়াকি হয় এমনই। ছবি:সংগৃহীত।

বাজার-দোকানে নয়, জাপানে বাছাই করা সেরা মিয়াজ়াকি মেলে নিলামে। আয়তাকার কাগজের বাক্সে গোলাপি রঙের মোড়কে পরম যত্নে রাখা হয় সেই আম। ছয় ছয়টি গুণগত মানের পরীক্ষা পাশ করলে, তবেই মেলে সেরার স্বীকৃতি। বছর চারেক আগের একটি ভিডিয়োয় (আনন্দবাজার ডট কম সে ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি) প্রকাশ, দু’টি আমের দর উঠেছিল ৫ হাজার ইয়েন অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ছুঁইছুঁই। একটি আমের দাম দেড় লক্ষ? স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে, কী এর বিশেষত্ব?

জানা যায়, জাপানের সর্বত্র এই আমের চাষ হয় না। আম ফলানো হয়, নির্দিষ্ট পরিবেশে, অত্যন্ত সুচারু ভাবে। আমকে নিখুঁত ডিমের আকার দেওয়ার জন্য চেষ্টার অন্ত থাকে না। সব মিয়াজ়াকির দরও এত ওঠে না। যে আমের রং, আকার, মিষ্টত্ব, গুণগত মান কঠোর পরীক্ষায় পাশ করে, সেটি সেরা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। এত পরিশ্রম থাকে বলেই তার দর হয় এত।

মিয়াজ়াকির স্বাদে কি মজেছে জাপান?

জাপানেরই কয়েকজন তরুণ আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন, মিয়াজ়াকি সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা।

ইয়োকোহোমার নাওমি সাতো, এই স্বাদের অংশীদার। বিপণন সংস্থায় কর্মরত নাওমি বলছেন, ‘‘অসম্ভব মিষ্টি, আর তেমনই সুন্দর গন্ধ। আকারেও বেশ বড়। এই আম খাওয়ার সময় মনে হয়েছে স্বাদের বিস্ফোরণ। দারুণ তৃপ্তি পেয়েছি।’’ জাপানের প্রশাসনিক বিভাগে কাজ করেন ইউকি নাকামুরা। তাঁর অভিজ্ঞতাও একই রকম। এই আম মুখে দিলেই মিলেই যায়। মিয়াজ়াকি খুব মিষ্টি, সুস্বাদু। আঁটিও বেশ পাতলা। দামি তো বটেই, স্বাদও তেমন। আর পাঁচটা আমের সঙ্গে মেলে না, বলছেন আইটি কর্মী মিডোরিকো তানাকজ

জাপানের মিয়াজ়াকি কাটার পরে। ছবি:সংগৃহীত।

তবে জাপানের সকলেই যে এই আম চেখেছেন, এমন নয়। নাম শুনলেও ক্রয়ক্ষমতার বাইরে বলে আমটি চেখে দেখা হয়নি পেশায় শিক্ষক অ্যালান কোবায়আশির। এই দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের অনেকেই যে এই আমের নাম জানেন না, সে কথা জানাচ্ছেন রুইসেই ইয়ামামোতো। তিনি মিয়াজ়াকির কথা শুনলেও খেয়ে দেখেননি।

জাপানের মিয়াজ়াকি বঙ্গদেশেও!

উদীয়মান সূর্যের দেশের সেরা আম এখন মেলে বঙ্গেও! কোনওটি ৩ হাজারে, কোনওটির দাম ৫০০। বিক্রয়কারী সংস্থাভেদে তার দাম। অনলাইনে শুধু ক্লিক করলেই হল, দোরগোড়ার হাজির হবে লাল বা বেগনি আভার মিয়াজ়াকি।

মিয়াজ়াকির লাল রং এবং গন্ধই তার পরিচয়। ছবি: সংগৃহীত।

কিন্তু জাপানে সেরা আমটির দাম যেখানে লক্ষ টাকা ছুঁয়ে যায়, সেখানে বঙ্গে হাজারেও মিলতে পারে? তা কেমন করে সম্ভব? বিশ্ব-বাজারের অত্যন্ত মূল্যবান আমের কথা চাউর হওয়া মাত্রই, আম ফলানোয় চির অভিজ্ঞ দেশ ভারতেও শুরু হয়েছে চাষ। কর্নাটক, ওড়িশা শুধু নয়, মিয়াজ়াকির ফলন হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেও। মালদহ, পুরুলিয়া, দার্জিলিং-সহ বিভিন্ন জেলায় মিয়াজ়াকি গাছ লাগানো হচ্ছে।

ভারতে যে মিয়াজ়াকির স্বাদ মিলছে, তা কিন্তু জাপানের সেরা আমটি নয়। তা আসলে এই দেশেই চাষ করা আম।

ভারতীয় মিয়াজ়াকির স্বাদ কেমন?

বঙ্গের মিয়াজ়াকি খেয়েছেন নদিয়ার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ফল বিভাগের অধ্যাপক শুভাশিস কুণ্ডু।তিনি বলছেন, ‘‘এই আম সু্স্বাদু, মিষ্টি, রসালো, গন্ধে ভরপুর। আঁশ বা ফাইবার বেশ কম বা প্রায় নেই বলেই বেশ মোলায়েম। মুখে দিলেই মিলিয়ে যায়।’’

ডানকুনির বগানে ফলা মিয়াজ়াকি। ডান দিকের ছবিটি আম কাটার পরে। —নিজস্ব চিত্র।

মিয়াজ়াকি নিয়ে এত মাতামাতি কেন? তার স্বাদ পরখ করতে ডানকুনির জগদীশপুরে এক শখের বাগানি শমিত মান্নার কাছ থেকে গাছপাকা মিয়াজ়াকি আনা হয়েছিল। রং লাল। কাটতেই সুগন্ধ, এতটাই তার মৃদু মিষ্টি সুবাস যে, দূর থেকেই নাকে আসে। মিষ্টি, রসালো। মুখে দিলে সত্যি এই আম মিলিয়ে যায়। স্বাদে ভাল, তবে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি-সহ ভারতীয় আমকে যে এখনই এই আম টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তেমনটা বোধ হয় জোর দিয়ে বলা চলে না।

গুণমানে কত নম্বর পায় ভারতীয় মিয়াজ়াকি?

বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববদ্যালয়ের কয়েকজন পড়ুয়া এই নিয়ে গবেষণা করেছেন। বঙ্গের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন নার্সারির গাছ থেকেই কিছু মিয়াজ়াকি সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাতেই দেখা গিয়েছে, এখানে সর্বোচ্চ একটি আমের ওজন ২৭৬ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে। আঁটির ওজন ২০ গ্রাম। শাঁসের পরিমাণ ৮০ শতাংশ। টোটাল সলিউবল সলিড বা টিএসএস-এর পরিমাণ (মিষ্টত্বের পরীক্ষা) ২০ ডিগ্রি ব্রিকস (আমের মিষ্টত্বের পরিমাণ বা রসের ঘনত্ব মাপা হয় ব্রিকস এককে)। টিএসএস বা টোটাল সলিউবল ফাইবার যত বেশি হবে, সেই আম মিষ্টত্বে ততটাই এগিয়ে থাকবে। অ্যাসিডিটি পাওয়া গিয়েছে ০.১ শতাংশ। টিএসএস-অ্যাসিড অনুপাত ২০০-এর উপর। ১০০ মিলিগ্রাম মিয়াজ়াকির রসে ভিটামিন সি পাওয়া গিয়েছে ১৮ মিলিগ্রাম।

বঙ্গে ফলছে এমনই মিয়াজ়াকি আম। —নিজস্ব চিত্র।

অধ্যাপক শুভাশিস কুণ্ডু বলছেন, ‘‘যতটুকু পরীক্ষা হয়েছে, তার ফলাফলের ভিত্তিতে বলা যেতে পারে, এখানেও মিয়াজ়াকির মান নিঃসন্দেহে ভাল। কারণ, মিষ্টত্ব যথেষ্ট, রসালো, আঁটি ছোট, ফাইবার কম, গন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হল এর সুন্দর লাল রং। ভাল আমের যা যা গুণ থাকা দরকার, তার সবটাই রয়েছে।’’

জাপানের মিয়াজ়াকিই কি ফলছে বঙ্গে!

নদিয়া, মালদহ, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শখের বাগানি, উদ্যানপালক এবং কিছু কৃষিপণ্য বিপণনকারী সংস্থা পরীক্ষামূলক ভাবে মিয়াজ়াকি চাষ শুরু করেছেন। কলমের গাছ, চারা যে সরাসরি জাপান থেকে আসছে, এমন নয়। বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন হাত ঘুরে তা বঙ্গের উদ্যানপালকদের কাছে এসেছে।

নৈহাটির নার্সারিতে ফলা মিয়াজ়াকি আম। ছবি: পরিমল ঘোষ।

দীর্ঘ দিন ধরে নানা রকম প্রজাতির গাছ, ফল, আম নিয়ে কাজ করছেন নৈহাটির সাগর নার্সারির পরিমল ঘোষ। মিয়াজ়াকির চারাও বিক্রি করছেন। বেশ কিছু গাছ হয়েছে তাঁর নার্সারিতেও। ছয় বছর ধরে মিয়াজ়াকির উপরে কাজ করে তাঁর অভিজ্ঞতা, মোটামুটি ২-৩ বছরের গাছেই ফলন শুরু হয়। হুগলি বা আশপাশের জেলাগুলিতে এই আম ফলে মে মাস নাগাদ। গাছে ফল থাকে জুনের প্রথম দুই সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে একই গাছে ফল ধরা এবং ফল পাড়ার সময় রাজ্যে ভেদে পাল্টেও যায়।

হুগলির ডানকুনির জগদীশপুরের শখের উদ্যানপালক শমিত মান্না। অল্প কিছুটা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির আম, লেবু, মাল্টার চাষ করেছেন। ফলিয়েছেন মিয়াজ়াকি। শোনালেন তাঁর অভিজ্ঞতা—‘‘চার বছরের গাছ, মিয়াজ়াকি ফলছে বছর দুই হল। গত বছর ১৭-১৮টি আম হলেও, এই বছর হয়েছে দ্বিগুণ। রং ভাল হয়েছে। সুন্দর গন্ধও রয়েছে আমটির। মিষ্টত্ব ভালই। যদি আমের মিষ্টি মাপার যন্ত্রে তা পরখ করে দেখিনি।’’

ডানকুনিতে শমিত মান্নার বাগানে ফলেছে মিয়াজ়াকি। —নিজস্ব চিত্র।

জাপানের মিয়াজ়াকি বঙ্গে ফলছে, তা-ও এত সহজে? কী ভাবে সম্ভব? নদিয়ার রানাঘাটের এক নার্সারির মালিক সাগরকুমার দাসের কাছেও মিয়াজ়াকি রয়েছে। তবে তাঁর সাফ কথা, জাপানে যে আম লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তার সঙ্গে এ আমে তফাত আছে। এই আম একটু লম্বাটে। রং-গন্ধ ভাল হলেও তেমন মিষ্টত্ব নেই।

জাপানি আর ভারতীয় মিয়াজ়াকি কি তবে এক নয়?

জাপানে মিয়াজ়াকির ফলন হয় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। পোকামাকড়ের হানা থেকে গাছ বাঁচাতে ঘেরাটোপের ব্যবস্থা থাকে। আমের আকার, রং নিয়ে অনুপুঙ্খ নজরদারি চলে সেই দেশে। কীটনাশকের প্রয়োগ হয় না সেভাবে।

আর পশ্চিমবঙ্গে খোলা আকাশের নীচে এত সহজেই মিয়াজ়াকির ফলন হচ্ছে? প্রশ্ন শুনে সাগর নার্সারির পরিমলের সরস যুক্তি, ‘‘এ অনেকটা উচ্চবিত্তের সন্তান পালনের মতো। জাপানে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বাড়তি যত্নে গাছ বড় করা হয়। আর আমাদের জল-হাওয়ায় আম গাছ এমনি হয়। এই গাছে পোকামাকড় সহজ আক্রমণ করে। ফলে একটু সতর্ক হতে হয়। সাধারণ কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখলেই হল। আম তো ফলছে।’’

জাপানে উৎকৃষ্ট মানের মিয়াজ়াকি এই ভাবেই বিক্রি হয়। ছবি: সংগৃহীত।

অধ্যাপক শুভাশিস কুণ্ডু জানাচ্ছেন, মিয়াজ়াকি আমের নিজস্বতা রয়েছে। অর্থাৎ যেখানেই ফলানো হোক না কেন, এই গাছের পাতা, ফল একইরকম থাকবে। তবে পরিবেশ ভেদে ফলের ওজন, গড়নে, স্বাদে একটু ঊনিশ-বিশ হতে পারে।

নৈহাটি থেকে মেদিনীপুর, মালদহ, নদিয়া— এই রাজ্যের একাধিক নার্সারিতেই মিয়াজ়াকি আম গাছ চাষ করা হচ্ছে চারা তৈরির জন্য। তেমনই কিছু চারা সংগ্রহ করে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে বিঘাখানেক জমিতে মিয়াজ়াকি আম ফলিয়েছে একটি কৃষি সংস্থা। সংস্থার জেনারেল ম্যানেজ়ার অভিষেক সিংহ জানালেন, বছর দুই হল মিয়াজ়াকি হয়েছে। গত বছর সংখ্যায় কম ছিল। তবে এই বছর দিল্লি-সহ ভারতের নানা প্রান্তে মিয়াজ়াকি রফতানি করেছেন। মোটমুটি ২-৪ হাজার টাকা কেজির মতো দর উঠেছে।

ফজলি, আম্রপালি, হিমসাগরের পাশাপাশি মিয়াজ়াকিও কি এই দেশের ভবিষ্যৎ আম?

ফজলি আকারে বেশ বড় এবং লম্বাটে। খুব বেশি আঁশ থাকে না, ফলে মুখে দিলে গলে যায়। পাকা ভাল জাতের আম বেশ মিষ্টিও হয়।

আম্রপালিরও নিজস্বতা রয়েছে। মিষ্টত্ব এবং সুগন্ধের জন্য বঙ্গে সমাদৃত।

এই আমগুলির সঙ্গে কি পাল্লা দিতে পারবে মিয়াজ়াকি? অধ্যাপকের যুক্তি, আমটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। গন্ধটিও ভাল। মিষ্টত্বও রয়েছে, রসালো। একটি ভাল আমের যা যা গুণ থাকা প্রয়োজন, তার সবটাই আছে মিয়াজ়াকিতে। এমন লাল রংই এর আকর্ষণের প্রধান কারণ। ভারতে যে পুষা অরুণিমা মেলে, লাল রঙের হলেও, মিয়াজ়াকি স্বাদ-গন্ধে তার চেয়েও উৎকৃষ্ট।

ভারতে মিয়াজ়াকির ভবিষ্যৎ নিয়ে শুভাশিস কুণ্ডুর মন্তব্য, ‘‘তার জন্য আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। সুসংহত ভাবে চাষের দরকার। রাজ্যের নানা প্রান্তে আম ফলিয়ে দেখতে হবে, তার গুণগত মান কেমন থাকছে, কোথায় কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছে? চাষের সঙ্গে কোনও স্থানের জল-হাওয়া, মাটির গুণগত মান ইত্যাদি অনেক কিছুই নির্ভর করে। জাপানে যে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চাষ হয়, এখানে সেই পরিবেশ বা পরিসর নেই। তা ছাড়া, জাপানের আবহাওয়ায়, যে গাছ ভাল বাড়ে, ফলন ভাল হয়, তা গাঙ্গেয় বঙ্গে কতটা ভাল হবে, তা জানার জন্য সময় দরকার।’’

লক্ষাধিক টাকা জাপানের সমস্ত মিয়াজ়াকির দাম হয় না। যেটা হয় সেরার সেরা, তারই দর ওঠে। তাই, মিয়াজ়াকি বাগানে বসালেই হল না, রোগ-পোকার আক্রমণ থেকে এই গাছকে দূরে রাখতে হবে। সেরার সেরা আম পেতে গেলে কীটনাশকের প্রয়োগ যথাসম্ভব কমাতে হবে। আমে এক ফোঁটা দাগ আসা চলবে না। খোসার রং, গন্ধ, আকার, মিষ্টত্ব, এই সব পরীক্ষায় জাপানের মিয়াজ়াকিকে ছুঁতে পারলে তবেই এই দেশ থেকে বিদেশেও চড়া দামে আম রফতানি সম্ভব। না হলে যে মিয়াজ়াকি ফলবে, তা ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালির মতোই বিক্রি হবে। সেটাও ব্যবসায়িক ক্ষেত্র, মানছেন অধ্যাপক। তবে তাঁর স্পষ্ট কথা, জাপানের মিয়াজ়াকির মতো দর পেতে হলে বিদেশে রফতানিতেই নজর দিতে হবে, গুণমানেও হতে হবে সেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement