‘মৃত্যু উৎসব’-এ কী কী অপেক্ষা করছে সাধারণের জন্য? ছবি: সংগৃহীত।
মরণের আগেই মৃত্যুকে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি। তবে এই অনুভূতি ভয়ের কারণ হবে না, বরং কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়াতে সাহায্য করবে। মৃত্যুর উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে তাইল্যান্ডবাসীদের জন্য। তার নাম ‘ডেথ ফেস্ট’।
সকলের জীবনে মৃত্যু আসবেই। তবে এই বাস্তবটা অনেকেই মেনে নিতে ভয় পান। মৃত্যুর নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন। মৃত্যু যে চিরন্তন সত্য, তার সঙ্গে সকলের পরিচয় করিয়ে দিতেই এই উৎসবের সূত্রপাত। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক জকংক্লোদ ব্যাংইখান বলেন, ‘‘সকলের জীবনেই মৃত্যু আসবে। মৃত্যুর নামেই অনেকে ভয় পেয়ে যান। কিন্তু এ কথা ভাবা উচিত যে, আমাদের চলে যাওয়ার পর যাঁরা থেকে যাবেন, তাঁদের বাকি জীবনটা যেন মসৃণ হয়, তাঁদের যেন জীবনে কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন হতে না হয়।’’ এই লক্ষ্য থেকেই ‘ডেথ ফেস্ট’-এর শুরু। এ বছরে এই উৎসব পা রেখেছে দ্বিতীয় বর্ষে। ব্যাংককের কাছে ননথাবুরি প্রদেশে তিন দিন ধরে চলবে ‘ডেথ ফেস্ট’ অনুষ্ঠান। পরিবার বা পরিচিতের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে কী ভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করতে হবে, কেমন খরচ হতে পারে সেই আয়োজনে, সেই সব বিষয় খোলাখুলি আলোচনা করার সুযোগ থাকছে এই মেলায়। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যুর পরে প্রিয়জনের যাতে কোনও রকম আর্থিক কষ্ট না হয়, তার জন্য কী কী ব্যবস্থা করে রাখতে হবে, সেই বিষয়েও সঠিক পরামর্শ পাওয়া যাবে এই ‘ডেথ ফেস্ট’ থেকে।
উৎসবে ‘টেস্ট ডাই’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে পাওয়া যাবে মৃত্যুকে একেবারে কাছ থেকে দেখার সুযোগ। কোনও ব্যক্তি চাইলে বিভিন্ন আকার ও নকশার কফিনের ভিতর শুয়ে দেখতে পারেন। সেই কফিনের ভিতরে লাগানো থাকে আয়নাও। বন্ধ কফিনে মৃত্যুকে অনুভব করা যাবে ক্ষণিকের জন্য হলেও। প্রাকৃতিক ভাবে শরীরকে পচিয়ে দেয়, এমন তন্তুর তৈরি জৈবিক কফিনও রয়েছে মেলায়। কেউ চাইলে মৃত্যুর আগেই নিজের পছন্দের কফিনও কিনে রাখতে পারেন। শুধু মৃত্যুর প্রস্তুতি নয়, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কী ভাবে সুস্থ থাকা যায়, সেই বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে এই উৎসব। অসুস্থ হলে কী ভাবে নিজের আর্থিক অবস্থা সামলাবেন, সেই পরিকল্পনার তৈরির জন্য বিশেষজ্ঞেরাও রয়েছেন এই বিশেষ উৎসবে।