নীল ভট্টাচার্য। ছবি: জয়দীপ মণ্ডল।
নতুন বছর মানেই বাঙালির আবেগের উদ্যাপন। একরাশ শুভেচ্ছায় ভেসে শুরু হয় বছরের প্রথম দিনটি। নববর্ষের সঙ্গে নতুন পোশাকের সম্পর্কটাও বড়ই আদরের।
মধুরিমা বসাক। ছবি: জয়দীপ মণ্ডল।
লাল পাড়ের সাদা গরদ বা সুতির পাটভাঙা শাড়ি, ছোট টিপ, হালকা লিপস্টিক আর খোঁপায় জুঁইয়ের সুবাস— নববর্ষে নারীর সাজগোজের এমন রেওয়াজ দীর্ঘ দিন ধরেই চলে আসছে। ছেলেদের পরনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাবেকিয়ানায় যুক্ত হয়েছে আধুনিকতা। উৎসববিশেষে সাজগোজের ‘ট্রেন্ড’ তৈরি হয়। নববর্ষে তেমন কোনও ‘ট্রেন্ড’ আছে? যে উৎসবের প্রতিটি ছন্দে বাঙালিয়ানার সুর বাজে, সাবেক সাজগোজই সেই উৎসবের চিরকালীন ধারা বলে মনে করেন ‘শূন্য’ ব্র্যান্ডের কর্ণধার রেশমী বাগচি। তিনি বললেন, “নববর্ষের সাজ হিসাবে ধুতি-পাঞ্জাবি এখন সকলের প্রথম পছন্দ। ধুতি পরা এবং সামলানো ঝক্কির বলে ধুতির সঙ্গে আড়ি করেছিলেন কলেজপড়ুয়া থেকে মধ্যবয়স্ক। সেই ছবিটা অনেকটাই বদলেছে। তবে ধুতি-পাঞ্জাবির সাজে কিছুটা বদল আনা যায়। টকটকে লাল পাড় ধুতির বদলে লালচে ঘেঁষা কোনও রং বা টোন অন টোনড সাদা রংও বেছে নেওয়া যেতে পারে। কোঁচা দেওয়া ধুতির বদলে দক্ষিণ ভারতীয় কায়দাতেও ধুতি পরা যায়। প্রিন্টেড পাঞ্জাবির বদলে সুতোর কাজের এমব্রয়ডারি, আড়ি, কাশ্মীরি, চিকনকারি পাঞ্জাবি পরা যেতে পারে। সঙ্গে সোনার লেয়ারড চেন, রিস্টলেট পরার চল হয়েছে। ফিউশনও হল আবার সাজগোজে বাঙালিয়ানাও বজায় থাকল।”
নীল ভট্টাচার্য। ছবি: জয়দীপ মণ্ডল।
বর্ষবরণে কী ভাবে আলাদা হয়ে ওঠা যায় অভিনেতা নীল ভট্টাচার্যের পোশাক যেন সে কথাই বলছে। অভিনেতার পরনের গরদ আচকানে সুতোর কাজে বাংলার ছোঁয়া। সঙ্গে লালচে রঙের ধুতি। আবার সাবেকিয়ানার সঙ্গে আধুনিকতার সুন্দর সন্ধি স্থাপন করেছে নীলের কো-অর্ডস সেট। উনিশ শতকের কলকাতার চালচিত্র সুতোর ফোঁড়ে উঠে এসেছে পাঞ্জাবির জমিতে। সঙ্গে পাতিয়ালা। আবার হলুদ পাঞ্জাবি জুড়ে কাঁথার এমব্রয়ডারি। সঙ্গে সাদা পাজামা। বৈশাখী আড্ডার দহন দিনে এ রকম পোশাক দারুণ সঙ্গত করে।
নীল ভট্টাচার্য ও মধুরিমা বসাক। ছবি: জয়দীপ মণ্ডল।
সময়ের সঙ্গে শাড়ির প্রিন্ট, ডিজ়াইনের পাশাপাশি বুননে এসেছে অভিনবত্ব। সাদা লাল শাড়ির নকশাতেও এসেছে আধুনিকতা। পোশাকশিল্পীরা পুরো লাল-সাদা না রেখে তার মধ্যে একটু সোনালি বা রুপোলি কারুকাজ যোগ করে এনেছেন ভিন্নতা। অভিনেত্রী মধুরিমা বসাকের লাল পাড়ের গরদ আলাদা হয়েছে রেশম সুতোর আড়ি কাজের ফুল-লতাপাতা, পশু-পাখির মোটিফে। সাদা-লালের চিরন্তন রং ছাড়াও গাঢ় নীল, হলুদ, কমলা, ম্যাজেন্টা, সবুজ এমনকি প্যাস্টেল শেডেরও বেশ চাহিদা রয়েছে বৈশাখী সাজে। মধুমিতার নীল সিল্কের শাড়িতে সমসাময়িক ডিজ়াইনের ছোঁয়া। আড়ির নকশায় অ্যান্টিক জরির মিশেল।
শাড়ির আধিপত্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাঁথা-জামদানি বা বালুচরির ড্রেস নতুন বছরের দিনটির জন্য বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। সকালের সাজে মধুমিতার পরনে সূক্ষ্ম কাঁথা কাজের কলিদার লং ড্রেস।
মধুরিমা বসাক। ছবি: জয়দীপ মণ্ডল।
রূপটানশিল্পী সোহরাব আলি বলছেন, “বৈশাখের সাজে থাকুক স্নিগ্ধতা ও স্বস্তির ছোঁয়া। চোখে গাঢ় কাজল ও হালকা লিপস্টিক মেকআপের টানে থাকবে। তবে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে হালকা গয়না ও খোঁপায় টাটকা জুঁই বা বেল ফুল ব্যবহার করতে পারেন। না হলে রুপোর কাঁটা ও সরু চেনের রতনচূড় দিয়েই বৈশাখী সাজে আনতে পারেন বৈচিত্র।”
এ বার বর্ষবরণে কী আয়োজন? নীল বলছেন, “ছোট থেকেই বছরের প্রথম দিনটি শুরু হয় হালখাতা আর পঞ্চব্যঞ্জনে ভূরিভোজ দিয়ে। সময়ের সঙ্গে হালখাতার আঙ্গিক কিছুটা বদলে গেলেও আমাদের পরিবারের কাছে এ দিনের তাৎপর্য এখনও রয়েছে।” মধুরিমার কথায়, “রবি ঠাকুরের গান, হালখাতা, ভূরিভোজ আর সাজে পুরোপুরি বাঙালি হয়ে ওঠার দিন পয়লা বৈশাখ।”
প্রাণের স্পর্শে এই ভাবেই শুরু হোক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ছবি: জয়দীপ মণ্ডল,
মেকআপ: সোহরাব আলি,
হেয়ার: সঙ্গীতা কর্মকার,
স্টাইলিং: প্রলয় দাশগুপ্ত,
পোশাক: শূন্য (সল্টলেক ),
লাল ব্লাউজ়: চান্দ্রি মুখোপাধ্যায় ডিজ়াইনস,
গয়না: স্টাইল অ্যাডিট বাই উসমা ফিরোজ় ও সুরজিৎ বারিক,
লোকেশন ও হসপিটালিটি: স্টোরি বাই আইটিসি হোটেলস দেবাসম রিসর্ট অ্যান্ড স্পা
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে