IPL 2026

শট নিতে গিয়ে দেখি না বোলারকে, বলছেন নায়ক

৪ ম‌্যাচে ২০০ রান করে চলতি আইপিএলে কমলা টুপির মালিক এখন বৈভব। ম‌্যাচের সেরা হয়ে বৈভব বলেছে, “আমি অতিরিক্ত কিছু চেষ্টা করি না। অনুশীলনে যেমন ভাবে বড় শট খেলি, ম‌্যাচেও আমার মনোভাব সেই রকমই থাকে। অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করি না। নিজের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চেষ্টা করি।”

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:১৭
Share:

বৈভব সূর্যবংশী। —ফাইল চিত্র।

যশপ্রীত বুমরা থেকে জশ হেজ়লউড, ভুবনেশ্বর কুমার— বিশ্বের তাবড় বোলারদের নির্দ্বিধায় ওড়াচ্ছে ১৫ বছরের কিশোর বৈভব সূর্যবংশী। সমাজমাধ‌্যমে ভক্তরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছেন, বৈভব কি আদৌ মানুষ? শনিবার ২৬ বলে ৭৮ রান করে রাজস্থান রয়‌্যালসকে টানা চতুর্থ জয় এনে দিল বিহারের ক্রিকেটার। ম‌্যাচের পরে বৈভব স্পষ্ট জানিয়েছে বোলার নয়, বলের মান অনুযায়ী খেলেই সাফল‌্য পেয়েছে।

৪ ম‌্যাচে ২০০ রান করে চলতি আইপিএলে কমলা টুপির মালিক এখন বৈভব। ম‌্যাচের সেরা হয়ে বৈভব বলেছে, “আমি অতিরিক্ত কিছু চেষ্টা করি না। অনুশীলনে যেমন ভাবে বড় শট খেলি, ম‌্যাচেও আমার মনোভাব সেই রকমই থাকে। অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করি না। নিজের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চেষ্টা করি।”

এর পরেই ধারাভাষ‌্যকার তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন বিপক্ষে বুমরা, হেজ়লউডদের মতো বিশ্বামনের বোলারদের বিরুদ্ধে কি ভয় কাজ করে না? নির্দ্বিধায় বৈভব বলে দেয়, “মনের ভিতরে তো প্রতিপক্ষ বোলারদের নাম ভাসতেই থাকে। কিন্তু ক্রিজ়ে থাকলে আমি সবসময় বলের মান অনুযায়ী শট খেলার চেষ্টা করি।”

৭৮ রান করে ক্রুণাল পা‌ণ্ড‌্যর বলে লং অনে বিরাট কোহলির হাতে ক‌্যাচ দিয়ে ফেরে বৈভব। যদিও তখন রাজস্থানের জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত ছিল, তবুও বৈভবের হতাশা নজর এড়ায়নি দর্শকদের। সেই প্রসঙ্গে বৈভবের বক্তব‌্য, “যদি আমি উইকেটে থাকতাম তবে ১০-২০ রান অতিরিক্ত যোগ করতে পারতাম। দুর্বল শট খেলার পরেই নিজের ভুল বুঝতে পারি। বেশি সময় ক্রিজ়ে থাকলে দলের হয়ে আরও অবদান রাখতে পারতাম।”

এ দিকে বৈভব বিক্রমের পরে তাঁকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন অনেকেই। ১৫ বছর বয়সি যে ভাবে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মন্ত্রমুগ্ধ করে দিয়েছে সবাইকে তাতে এই দাবি ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তবে প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক অনিল কুম্বলে কিন্তু এই দলে পড়ছেন না। বৈভবকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া নিয়ে তাড়াহুড়ো চান না তিনি।

মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানে কুম্বলে বলেছেন, ‘‘এই অবস্থায় একটা তরুণ ক্রিকেটারকে যদি বলা হয়, ‘আমি চাই দু’মাসে তুমি ভারতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য তৈরি হয়ে যাও।’ তা হলে সেটা সেই ক্রিকেটারের উপরে চাপ তৈরি করবে।’’ বয়স সঙ্গে থাকার সুবিধে কী সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কুম্বলে বলেছেন, ‘‘১০ বছর পরেও ওর বয়স হবে ২৫।’’ ক্রিকেটে সাফল্যের কোনও নির্দিষ্ট পথ হয় না, জানিয়ে কুম্বলে মনে করেন এক জন খেলোয়াড় তাঁর ক্রিকেট জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে উঠে এসে অবদান রাখতে পারেন। তিনি আত্মবিশ্বাসী বৈভব নির্বাচকদের নজরে থাকবে। ‘‘বৈভবের জন্য জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা এ বছর, পরের বছর বা কয়েক বছর পরেও আসতে পারে। তবে ও যে ভাবে ব্যাটিং করছে নিশ্চিত ভাবে নির্বাচকরা ওর উপরে নজর রাখছে। আশা করি ওকে বেশি দিন জাতীয় দলের বাইরে রাখা যাবে না,’’ বলেছেন কুম্বলে।

শুধু বৈভবই নয়, ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন কুম্বলে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মনে করেন প্রতিটি খেলায় এক জন ‘আইকন’-এর উঠে আসাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বলেছেন, ‘‘প্রতিটা খেলায় যতদিন না আমরা আইকন তুলে আনতে পারব, তরুণ খেলোয়াড়দের তুলে আনা কঠিন।’’ অলিম্পিক্স যদি আয়োজন করার সুযোগ পায় ভারত তা হলে ক্রিকেটের বাইরেও অন্য খেলায় সেই লক্ষ্য পূরণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন