West Bengal Election 2026

১৪০ কোটির রাস্তায় দুর্নীতির গর্ত, হোঁচট খাবে কে

আবাস প্রাপক গরিব উপভোক্তারা বাইরে থেকে চড়া দামে বালি কেনায় ক্ষোভ বেড়েছে।

তন্ময় চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২০
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মুখ বদলেছে তৃণমূল। নতুন মুখ এনেছে বিজেপিও। রাইপুর বিধানসভায় দুই যুযুধান পক্ষের লড়াইয়ে কে বাজিমাত করে তার জোর চর্চা চলছে রাইপুরের সবুজবাজার থেকে মণ্ডলকুলি-শ্যামসুন্দরপুর, সারেঙ্গার পিড়রগাড়ি মোড় থেকে নেতুরপুর-চিলতোড় সর্বত্র।

পনেরো বছর তৃণমূল সরকারে থাকলেও জঙ্গলমহলে এখনও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের দাবি মেটেনি। কংসাবতী নদীর রাইপুরের সিমলিঘাটে ও সারেঙ্গার বামুনডিহাঘাটে স্থায়ী সেতু থেকে কজ়ওয়ে তৈরি হয়নি। কান পাতলে শোনা যায়, রাইপুর বিধানসভার যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে তা সিপিএমের সদ্য প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক উপেন কিস্কুর হাত ধরেই। তাঁর সময়েই হয়েছে একটি হিমঘর। কিন্তু কৃষকদের দাবি থাকলেও আর কোনও হিমঘর হয়নি। পুরনো হিমঘরের পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ ইউনিটও বাড়েনি। আদিবাসী ল্যাম্পস থেকে পড়ুয়াদের জন্য আদিবাসী হস্টেল, রাইপুর বাজারে পানীয় জলের সমস্যা সমাধান যা কিছু হয়েছিল সব বাম জমানাতেই। উপরন্তু বর্তমান সরকারের আমলে বন্ধ হয়েছে অনেক স্কুলের আদিবাসী হস্টেল। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক ১৪০ কোটি ব্যয়ে নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতিতে তপ্ত স্থানীয় রাজনীতি।

তবে শাসকদলের দাবি, এলাকায় ডিগ্রি কলেজ থেকে পথবাতি বসানো, হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন করেছে তাদের সরকার। যদিও বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ না পাওয়া, কংসাবতী নদীতে‌ বালিঘাট চালু করতে না পারার ব্যর্থতার তির প্রশাসনের দিকে ছুড়ছে বাসিন্দারা। আবাস প্রাপক গরিব উপভোক্তারা বাইরে থেকে চড়া দামে বালি কেনায় ক্ষোভ বেড়েছে।

রাজ্যে পালাবদলের সময়েও ২০১১ সালে এখানে জিতেছিলেন সিপিএমের উপেন কিস্কু। ২০১৬-তে জেতেন তৃণমূলের বীরেন্দ্রনাথ টুডু। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে এখানে পিছিয়ে যায় তৃণমূল। ফের ২০২১-এ গড় পুনরুদ্ধার করেন তৃণমূলের নতুন প্রার্থী মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠায় দল বিড়ম্বনায় পড়ে।

তবে তৃণমূলের এ বারের নতুন প্রার্থী ঠাকুরমণি সরণের দাবি, ‘‘এলাকায় প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। প্রত্যেক পরিবার সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। তাই আমাদের জয় নিশ্চিত।’’ বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূলের পর্যবেক্ষক রাজকুমার সিংহ বলেন, ‘পরিকল্পিত রণকৌশল নিয়েই আমাদের প্রার্থী জোরকদমে প্রচারে নেমেছেন। মানুষেরও সরকারে আস্থা রয়েছে।’’

তবে বিজেপির দাবি, এ বার সমীকরণ অন্য। বিধানসভায় রয়েছে বড় অংশের কুর্মি ভোট। আদিবাসী কুর্মি সমাজ এ বার বিজেপিকে সমর্থন করেছে। বিজেপির প্রার্থী ক্ষেত্রমোহন হাঁসদার দাবি, ‘‘পঞ্চায়েতের তিন স্তরে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা দুর্নীতিতে যুক্ত। এলাকায় বড় উন্নয়ন হয়নি। ভাতার ভাঁওতায় তৃণমূল আর জিতবে না।’’

একদা দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাইপুরে সিপিএম প্রার্থী করেছে তরুণ প্রজন্মের নেতা রাম মান্ডিকে। দুই সরকারের বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে প্রচারে নেমেছেন তাঁরা। রাম বলেন, ‘‘এলাকার মানুষ সব দেখছেন। সেতু থেকে হিমঘর, ল্যাম্পস, স্কুল, হস্টেল যা কিছু হয়েছে সব আমাদের সরকারের আমলে। তাই এ বার বামেদের প্রতি ভরসা রাখতে চলছেন এলাকার ভোটারেরা।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন