গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রোম্যান্টিসিজ়ম কি গত হয়েছে? জেন জ়ি অধ্যুষিত আধুনিক পৃথিবী কি শুধুমাত্রই ‘সিচুয়েশনশিপ’-এ গা ভাসাচ্ছে? সম্পর্কের অমন নব্য নাম শুনে কিছু মানুষ ঠোঁট বাঁকাতেই পারেন। কিন্তু প্রায় একশো বছর আগে তেমন সম্পর্কের মাধুর্য নিয়েই লিখে গিয়েছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসে ব্যারিস্টার অমিট্ রে আর গভর্নেস লাবণ্যের প্রেম তো এক রকম সিচুয়েশনশিপই!
গাড়ি দুর্ঘটনার দৌলতে শুরু হওয়া প্রেম ছোট গল্পের মতো শেষ হয়েও শেষ হয় না। বিয়ের পরিণতির বদলে বিচ্ছেদেই খুঁজে নয় পূর্ণতা। তা নিয়ে দু’পক্ষের হয়তো আফসোসও থাকে না। ঠিক যেমন এ কালের বহু প্রেমেই হয়ে থাকে। তাই 'শেষের কবিতা'র অমিত-লাবণ্য এ যুগেও বড় প্রাসঙ্গিক। হয়তো সে কথা ভেবেই বাংলা সাহিত্যের ওই রোম্যান্টিক উপন্যাস এক নতুন আঙ্গিকে ফিরছে মঞ্চে। তবে ভাষা বদলে। ইংরেজিতে।
রবীন্দ্রনাথের রোম্যান্টিক উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’র ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন রাধা চক্রবর্তী। সেই অনুবাদেরই এক শ্রুতিঋদ্ধ পুনর্নির্মাণকে পরিবেশনা করতে চলেছেন সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। যেখানে অভিনয় থাকবে, থাকবে কথন। আর থাকবে মঞ্চের আলো-আঁধারির নাটকীয়তা আর বেহালার সুর। সব মিলিয়ে ‘শেষের কবিতা’র ওই উপস্থাপনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য ফেয়ারওয়েল লেটার’।
‘শেষের কবিতা’র এই নতুন মঞ্চরূপ অমিত-লাবণ্য-কেতকীর সম্পর্কের আবেগ এবং ভাবনার জটিল দিকগুলোকে এক অন্য আলোয় দেখবে। সেই ভাবনার ব্যবচ্ছেদ করবে, যে প্রেমে সচেতন ভাবেই কাছে টানার বদলে বেছে নেয় দূরত্বকে। দখলের জেদ ভুলে উল্টো দিকের মানুষটির প্রয়োজন বুঝে সরে দাঁড়ায়। কারণ, প্রেমের সফল পরিণতি হিসাবে সংসারে বন্দি হওয়ার যে ভাবনা যুগ যুগ ধরে সমাজে চলে আসছে, তা সব সময় সত্যি হয় না। বরং পারস্পরিক ইচ্ছের কথা বুঝতে শেখার এই যুগে সে ভাবনার বিপরীতে হাঁটাই বেশি প্রাসঙ্গিক। হয়তো সে কারণেই প্রেমের উপন্যাসের উত্তর আধুনিক ভাবনাকে ভাষার বেড়া টপকে সর্বত্র পৌঁছে দিতে চাওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে সুজয় বলেছেন, ‘‘ভারত তো শুধু বাঙালিদের দেশ নয়। এই আখ্যানটির সর্বজনীনতা মাথায় রেখেই ইংরেজি ভাষায় কাজটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’
অভিনেত্রী এবং নাট্য পরিচালক সোহাগ সেনের নির্দেশনায় ২ মে জ্ঞানমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘দ্য ফেয়ারওয়েল লেটার’। দর্শক অমিত-লাবণ্য-কেতকীর ভূমিকায় দেখবেন শুভায়ন সেনগুপ্ত, সোলাঙ্কি রায়, অনুষ্কা বিশ্বনাথনকে। বিশেষ চরিত্রে থাকবেন দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়। অন্য চরিত্রে থাকবেন সোহাগ নিজেও। কথকের ভূমিকায় থাকবেন সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এবং পৌলোমী বসু। আর এই গোটা নাটকের নেপথ্যসঙ্গীতকে বেহালার ছড়ে বাঁধবেন সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায়। আলোক সঞ্চারে কৌশিক বসু।