উপকারী মশলায় ভাল রাখুন সন্তানকে! ছবি : সংগৃহীত।
শীতে এবং শীত ছেড়ে যাওয়ার সময়ে ছোটদের নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে। জ্বর-সর্দি-কাশি তো আছেই, তার পাশাপাশি ভাইরাস এবং ব্যাক্টেরিয়াবাহিত অসুখে নাজেহাল হয় খুদেরা। আদরের সন্তানের সেই ভোগান্তি বাবা-মায়েদের উপরেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কর্মরত বাবা-মায়েরা আরও বেশি করে আতান্তরে পরেন। কারণ, অসুস্থ সন্তানকে ফেলে রেখে তাঁদের কর্মক্ষেত্রে যেতে হয়। নিজে হাতে সন্তানের যত্ন নেওয়ার সুযোগ পান না তাঁরা। তাই সুখে পড়ার আগেই সতর্ক হওয়া ভাল।
ক্যালেন্ডারে এখন মাঘ মাস। আর কিছু দিন পর থেকেই ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। তার সঙ্গে শুরু হবে রোগের প্রকোপ। তাই এখন থেকেই সন্তানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিন। কাজটা খুব একটা কঠিন নয়। পঞ্জাবের মোহালি নিবাসী চিকিৎসক মাধবী ভরদ্বাজ জানাচ্ছেন, খুব বাড়তি কিছু করতে হবে না। শুধু খেয়াল রাখুন, সন্তান সারা দিনে যা থাচ্ছে, তাতে যেন কয়েকটি উপকারি মশলাপাতি ব্যবহার করা হয়।
১। রসুন
রসুনে ঝাল তো নেই-ই, বরং বিশেষ এক গন্ধ আছে, যা খাবারে ভাল স্বাদ এনে দেয়। তাই শিশুদেরও খেতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আর স্বাদ বৃদ্ধির সঙ্গে রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও অদ্বিতীয়। 'জার্নাল অফ ইমিউনোলজি রিসার্চ'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রও তেমনই বলছে। তাতে বলা হচ্ছে, ‘‘রসুন জীবাণুর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, জীবাণুকে শরীরে প্রবেশ করতেই বাধা দেয়।’’
কী ভাবে খাওয়াবেন: স্যুপে বা দৈনন্দিন যে মাছের বা মাংসের ঝোল খাওয়াচ্ছেন, তাতে ফোড়ন হিসাবে দিতে পারেন ২-৩ কোয়া রসুনকুচি। অথবা রসুনকে ঘিয়ে নেড়ে তা দিয়ে ভাত মেখেও খাওয়ানো যেতে পারে।
২। আদা
আদায় রয়েছে নানা ধরনের জোরালো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। আবার আদা শরীরে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই প্রদাহকে যথাযথ মাত্রায় বেঁধে রাখা জরুরি। আদা সেই কাজটি ভাল ভাবে করতে পারে।
কী ভাবে খাওয়াবেন: নুড্ল, ভাত, স্যুপ রান্নার সময় তাতে আদাকুচি দিয়ে দিন। এতে স্বাদ যেমন বাড়বে, তেমনই শিশুর শরীরে আদার পুষ্টিও যাবে। এ ছাড়া তরকারিতে, শরবতেও আদার কুচি দিতে পারেন।
৩। ছোট এলাচ
এলাচে রয়ছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। রয়েছে রক্ত পরিস্রুত করার ক্ষমতাও। এ ছাড়া এই মশলাটিও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তাই রোগ দূর করার জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে নিতে এলাচ নানা ভাবে উপকার করে।
কী ভাবে খাওয়াবেন: এলাচ থেঁতো করে বা গুঁড়িয়ে নিয়ে গরম দুধে মিশিয়ে নিন। দরকার হলে এতে ভাল মধুও মিশিয়ে দিতে পারেন এক চামচ। এটি খেতে যেমন ভাল লাগবে, তেমনই সন্তানের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও সাহায্য করবে। এ ছাড়া তরকারিতেও এলাচ ব্যবহার করা যেতে পারে।