একতরফা প্রেম থেকে দূরে থাকতে চান? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
“আমি তোমার প্রেমাকাঙ্ক্ষিণী নহি। আমি যাহা দিবার তাহা দিয়াছি, তোমার নিকট প্রতিদান কিছু চাই না। আমার স্নেহ এমন বদ্ধমূল যে, তুমি স্নেহ না করিলেও আমি সুখী”— বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’তে এ চিঠি জগৎসিংহকে লিখেছে আয়েষা।
পাঠক কি ভুলে গিয়েছেন আয়েষাকে? আয়েষার গোপন, তীব্র ভালবাসাকে? পাঠকের মনে হয়তো রয়েছে কেবল তিলোত্তমা-জগৎসিংহের প্রেমের কথা। তারা ভালবেসেছে একে অপরকে। একে অপরের ভালবাসা পেয়েছে। কিন্তু আয়েষার প্রেমে দু’জন নেই। সেখানে কেবল ‘এক’-এর স্থান। চিরবিরহের স্থান। তা হলে তার ভালবাসার কেন ‘অমর প্রেম’-এর খেতাব জুটবে না? এই শিরোপা কি কেবলই রোমিয়ো-জুলিয়েট, অমিত-লাবণ্য, দেবদাস-পার্বতীর প্রেমই পাবে? আয়েষার মতোই চন্দ্রমুখীদের প্রেম বার বার কেন উপেক্ষিত হবে?
মানুষ কি তবে একতরফা প্রেম থেকে দূরে থাকতে চান? বিষাদে ভরা রোম্যান্টিকতাকে ভয় পান? নয়তো ‘এক ম্যায় অউর এক তু’ বা ‘কভি হাঁ কভি না’ ছবির নায়কদের একতরফা প্রেম নিয়ে আলোচনা হয় না কেন? পরিণতি না পেলেই তা কি প্রেম নয়? অথচ, রোম্যান্টিকতার মূলেই রয়েছে বিষাদ। বুদ্ধদেব বসু তাঁর ‘শার্ল বোদলেয়র ও তাঁর কবিতা’ গ্রন্থের ভূমিকায় ‘রোম্যান্টিকতা’-র সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে দেখিয়েছিলেন, তার শিকড়ে ছিল ‘আমি জানি না কী’— এই বাক্যখণ্ডটি। অর্থাৎ রোম্যান্টিক প্রেমের অন্যতম শর্তই হল এক না-জানা উৎসের বিষাদ। অজ্ঞেয়কে না পাওয়ার বিষণ্ণতা। যাকে বুদ্ধদেব চিহ্নিত করেছিলেন ‘অহেতুসম্ভব’ বিষাদ বলে। বাংলা কবিতায় সে দিনের বুদ্ধদেব থেকে সাম্প্রতিক অতীতের জয় গোস্বামী পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে এই বিষাদ। জয়ের ‘ঝাউপাতাকে রুগ্ন কবির চিঠি’ নামের কবিতার সর্বাঙ্গ জুড়ে রয়েছে একা প্রেমিকের বিষাদ। “ঝাউগাছের পাতা, আমি আসতে যেতে কুশল নিয়ে যাই/ ঝাউগাছের পাতা, আমার কথায় কিছু মনে করলে না তো” কি সেই অহেতুসম্ভব বা অসেতুসম্ভবের উচ্চারণ নয়? তত্ত্বতালাশ নিলে দেখা যাবে, এ মরপৃথিবীতে ‘একা’ প্রেমিকের সংখ্যা, একতরফা প্রেমের উদাহরণ তথাকথিত যুগলের প্রেমের চাইতে কিছু কম নয়।
কবি জয় গোস্বামী। ছবি: সংগৃহীত
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ওই অনুভূতি আর ফিরে পেতে চান না। তিনি বলছেন, ‘‘ভাল লাগে না। ওই অনুভূতিটা খুব কষ্টের। বিকেলগুলো মনখারাপের মনে হয়। আমি কাউকে ভালবাসি, সে আমায় বাসে না। এই অনুভূতি কাব্যিক হলেও ভিতর থেকে তা একটা মানুষকে বড্ড ক্ষইয়ে দেয়। কথায় বলে, পৃথিবীর সহচেয়ে সুন্দর কথা হল— কিন্তু, আমি তোমাকে ভালবাসি। আর সবেচেয়ে নিষ্ঠুর কথা হল— আমি তোমায় ভালবাসি, কিন্তু…।’’ আর এই একতরফা প্রেম অন্য এক দিক থেকে খুবই বিপজ্জনক বলে মনে করেন তিনি। এই ধরনের প্রেমই ধীরে ধীরে প্রতিশোধস্পৃহা বাড়িয়ে তোলে, যা স্টকিংয়ের মতো ঘটনা ঘটায়। হালফিলের কিছু ছবি অবশ্য সে সমস্ত ঘটনাকেই মহিমান্বিত করেছে। যেমন, ‘রাঞ্ঝনা’, ‘তেরে ইশক মেঁ’, খানিক পরিমাণে ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’-এর মতো ছবিতে একতরফা প্রেমিকদের রাগ, প্রতিশোধ, পৌরুষের দম্ভকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর সেই প্রেমকে ভয় পান রাহুল। সত্যিই তো, প্রেম আর অধিকারবোধকে সমতুল্য ভাবার ভুল করে বসছেন অনেকেই।
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু সেগুলি কি আদৌ প্রেম? উত্তর মিলতে পারে কবি জয় গোস্বামীর জীবনের ছোট্ট এক অভিজ্ঞতায়। জীবনে প্রথম যে মেয়েটির প্রেমে তিনি পড়েছিলেন, তিনি অন্য এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। সে তথ্য কবির কাছে ছিল না। কিন্তু জানতে পারার পর সে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন জয়। কিন্তু প্রেম থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি বহু কাল। একগলা জলে ডুবে গিয়েছিলেন প্রেমে। কিন্তু কবির কথায়, ‘‘শেষ যে দিন আমাদের দেখা হয়, আমি তাকে বাসে তুলে দিতে যাই। বাসটি যে পথে চলে যায়, তার ঠিক উল্টো দিকে ছিল আমার গন্তব্য। সে দিন আমি শিখি, প্রেমে থাকলেও কখনও কখনও সরে আসতে শিখতে হয়। অধিকারবোধকে ত্যাগ করতে শিখেছি।’’ তাই একতরফা প্রেমে রাগ, অধিকারবোধ, অহংয়ের জায়গা থাকে না। যে ভাবে আজ কবিতার সঙ্গে কবির একতরফা প্রেম, যে ভাবে নিজের কবিতাকে শিকল পরিয়ে রাখতে চান না, সে ভাবেই এই প্রেমকে এখন দেখেন জয়। কবিতা লেখার পর, প্রকাশকের কাছে জমা দিয়ে দেওয়ার পর তার থেকে সমস্ত অধিকার তুলে নেন তিনি। এই শিক্ষা তিনি তাঁর ওই প্রথম প্রেমিকার থেকে পেয়েছিলেন।
কবিতার সঙ্গে একতরফা প্রেম? কেন? জয় যে ভাবে কবিতাকে ভালবেসেছেন, কবিতা কি তাঁকে বাসেনি? কবি বলছেন, ‘‘কয়েক দিন আগে আটটি লাইনের কবিতা লিখতে বসেছিলাম। দেখলাম, ১০ ঘণ্টার থেকে ৬ মিনিট কম সময় লাগল। আটটা লাইন লিখতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে? তার মানে তো, আমি কবিতা লিখতেই শিখিনি! তার মানে তো কবিতা আমায় ভালই বাসেনি! আমিই বেসেছি কেবল। কিন্তু আমি প্রেমে আছি, থাকব।’’
‘‘প্রেমের প্রেমে আছি, থাকব। বিরহে আছি, থাকব।’’— অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত চিরবিরহের অধিকারী। তিনি মনে করেন, প্রেমে কেউ জেতে না, কেউ হারে না। দু’তরফা প্রেমে থাকতে থাকতে অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। একতরফায় আশা থেকে যায়। আর থেকে যায় এক রাশ ঝুঁকি। তাঁর কথায়, ‘‘নিজেকে নিজের সঙ্গে লড়াই করতে হবে প্রতিটি মুহূর্তে। একতরফা প্রেমে থাকতে শক্তির প্রয়োজন, সাহস প্রয়োজন। একটা সুতোর উপর দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সেখানে। এ দিকে নড়লেও মুখ থুবড়ে পড়বে, ও দিকে নড়লেও পড়বে।’’ এই একতরফা প্রেমে অন্য কেউ কষ্ট দেয় না, নিজেই নিজেকে কষ্ট দিতে থাকে মানুষ। কিন্তু বিরহই কি সুন্দর? ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’-এ শাহরুখ খানের সংলাপের মতো একতরফা প্রেমই কি সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য? সমস্ত ভাবনাচিন্তাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে স্বস্তিকা বললেন, ‘‘এইটা অনেকটা ওই শিয়ালের গল্পের মতো। আঙুর ফল টক। যা পেলাম না, পেলাম না। যা পেলাম, তাও ঠিক আছে, চলে যাবে-গোছের।’’
অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত। ছবি: সংগৃহীত
দু’তরফা প্রেমে সান্ত্বনার জায়গা থাকে। কিন্তু একতরফা প্রেম মানেই যে একলা প্রেম! তাই অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্যের দাঁড়িপাল্লায় একতরফা প্রেমের ওজনই বেশি। একতরফা প্রেম অনেক বেশি অনন্য, আলাদা, গভীর এবং মহান। অম্বরীশ বলছেন, ‘‘আমার কাছে বার বার জিতে যাবে একতরফা প্রেমই। কারণ, তা কোনও দিনও চুক্তিতে পরিণত হয় না। দু’টি মানুষের প্রেম দৈনন্দিনতার চাপে, কালের নিয়মে খুব তাড়াতাড়ি চুক্তির রূপ নেয়। তাতে প্রেমটা বরং পিছনের সারিতে চলে যায়। এ এমন এক অনুভূতি, যাতে আমি একা, আর কেউ নেই। আমার প্রিয় গায়ক অঞ্জন দত্তের প্রায় সব গানেই তো হেরে যাওয়া, প্রেম না পাওয়ার কথা রয়েছে।’’
অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত
যে স্বাদ একটি মানুষ জীবনে কখনও পায়নি, সেই স্বাদের প্রতি আকাঙ্ক্ষা অনেক দিন ধরে থাকে। বা অনেক ক্ষেত্রে দু’জন মানুষ প্রেম করেছে, তার পর এক জন প্রেম থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, অন্য জন থেকে গিয়েছে, সেখানেও তো অপূর্ণতা রয়েছে সেই স্বাদাস্বাদনে। তা পাওয়ার তাগিদ অনেক বেশি থাকে। সহজে মরচে পড়ে না অনুভূতিতে।
আর এই বিরহই যে কালজয়ী শিল্প তৈরি করেছে কত কত। নয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী ভাবে লিখে গিয়েছেন, “তুমি যাহা চাও তাই যেন পাও, আমি যত দুঃখ পাই গো”? স্কুলে পড়াকালীন ‘মায়ার খেলা’য় শান্তার অভিনয় করতে গিয়ে অবাক হয়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী সাহানা বাজপেয়ী। প্রশ্ন জেগেছিল, ‘‘প্রেম মানে তো দু’জনের সমান সমান, সেখানে একতরফা দুঃখ বিলি কেন!’’ কিন্তু বয়স বাড়তে বাড়তে বুঝলেন, এই পংক্তিগুলিতে লুকিয়ে আছে মহাশক্তি। কোনও প্রত্যাশা নেই, কোনও চুক্তিপত্র নেই, কোনও প্রত্যয় নিয়ে বলার দরকারই নেই “বনপাহাড়ি ঝর্ণা বৃষ্টি ফেলে, আমায় বাসল ভাল সেই ছেলে।” সাহানা বলছেন, ‘‘আমার নিজের জীবনে দু’একটি প্রেম হয়েছিল বা যেগুলি মনের ভ্রমে আমি প্রেম ভেবেছিলাম, কোনওটিই টেকেনি। মানে, তারা এল, দেখল, আমিও এলাম, দেখলাম, চেষ্টার ত্রুটি করলাম না কেউই। কিন্তু বিদায় দিলাম দু’জনেই দু’জনকে। তার পর ভাবলাম, থাক, ওই পথে আর না-ই বা গেলাম। পরে বুঝলাম, প্রেম হয়নি, পরিণতি হয়নি, বেশই হয়েছে! না হলে এত শান্তিতে শাহরুখ খানের সঙ্গে আমার একতরফা, নিরাপদ, দিব্যি-চলমান প্রেমটা চালাতাম কী করে? প্রেমের গান গেয়ে গেয়ে চালিয়ে যাচ্ছি জীবন। সেই গান শুনে অনেকের প্রেম হচ্ছে। আমার না-ই বা হল।’’
সঙ্গীতশিল্পী সাহানা বাজপেয়ী। ছবি: সংগৃহীত
ঠিক এই ভাবেই তিন জন মানুষের প্রতি একতরফা প্রেমে রয়েছেন কবি জয়। প্রতি দিন, প্রতি মুহূর্তে, প্রতি কবিতার ছত্রে ছত্রে তাঁদের কথা মনে পড়ে জয়ের। তাঁর চলার পথে অনুপ্রেরণা জাগান সেই তিন মানুষ। কিন্তু জীবনে কখনও সুযোগ হয়নি যে, তাঁদের সামনে গিয়ে এক বার এই ভালবাসার কথা, ভরসার কথা বলবেন। জয় বলছেন, ‘‘এ একতরফা প্রেম নয়তো কী?’’ এক জন হলেন, প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাওস্কর, অভিনেতা শম্ভু মিত্র, আর সরোদবাদক ওস্তাদ আলি আকবর খাঁ। জয়ের কথায়, ‘‘তাঁদের প্রত্যেকটি বিশ্বাস, প্রত্যেকটি কথা আমায় লিখতে সাহায্য করে। এঁরাই আমায় কবিতা লিখতে শিখিয়েছেন। সাহিত্যিকদের সঙ্গে মিশে তা আমি কোনও দিনও শিখতে পারিনি। জীবনের বহু বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকের সঙ্গে মিশেছি। তাঁদের মধ্যে কেবল কবি শঙ্খ ঘোষ ছাড়া আর কারও কাছে জীবনকে বা সাহিত্য বিষয়ে কিছুই শিখতে পারিনি।”
আজকের জয় বলছেন, ‘‘কবিতা লেখার জন্য আমি জীবনে মঞ্চে উঠে বহু পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু কবিতা লেখার সর্বোচ্চ পুরস্কার যদি কিছু থেকে থাকে, তা আমি পেয়েছি ২০২৬ সালে। যখন আমি রোগশয্যায় রয়েছি। যা জগতের কেউ জানে না। তা শুধু জানি আমি আর আমার অন্তরাত্মা। আমি মনে করি, অন্তরালবর্তী পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। অন্তরালবর্তী স্বীকৃতিই কবিতার জন্য শ্রেষ্ঠ প্রেম।’’ সেটিও যেন তাঁর কাছে অনুচ্চারিত এক প্রেম, যা একান্তে থেকে যাবে উজ্জ্বল কোনও রত্নের মতো।
এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে যেতেই পারে জয়ের উপন্যাস ‘সেই সব শিয়ালেরা’-র একটি চরিত্রের কথা। প্রৌঢ়া সেই নারী স্বামীর ভালবাসা পাননি কখনও। পেয়েছেন শুধু একতরফা শারীরিক চাহিদা মেটানোর যন্ত্রণা। তিনি অন্য এক জনকে ভালবাসেন। সুবিনয় রায়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর গানকে আঁকড়েই তাঁর বেঁচে থাকা। এই প্রেমের কোনও পরিণতি নেই। দরকারও পড়ে না। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় একটি কবিতায় লিখেছিলেন, “ভালোবাসাকেই ভালবাসা দিয়ে যাবো” এবং তার পরেই জানিয়েছিলেন, এর বেশি তাঁর কিছুই চাওয়ার নেই। একা প্রেমিকের ক্ষেত্রে এই উচ্চারণ যেন সবচেয়ে বেশি লাগসই। যে ছেলেটি আজ পাশের বাড়ির মেয়েটিকে কল্পনা করে চলেছে তার মানসী হিসেবে, সে তো তেমনটা না-ও হতে পারে! এখানে প্রেম এক শেষ না হওয়া সেতুর মতো দাঁড়িয়ে। তলায় নম্র নীল জল। সেখানে অবগাহন হয়তো সম্ভবই নয় কখনও। তবু চিরবিরহের অন্তরালে ক্রমাগত চলতে থাকে সেতু বাঁধার কাজ। তা যদি শেষ না হয়, কী এসে যায়! আর সব সময়েই যে তা দু’টি মানুষের মধ্যে হতে হবে, তারও তো কোনও মানে নেই। আবিশ্ব ছড়িয়ে থাকা শিল্প, সঙ্গীত, দুর্জয় পর্বতশৃঙ্গের প্রতি প্রেমও তো একতরফাই। তাকে সম্বল করে বেঁচে থাকা যায়। যেমন রয়েছেন জয় গোস্বামী, যেমন রয়েছেন তাঁর উপন্যাসের চরিত্র সেই প্রৌঢ়া মহিলা।