মজবুত সম্পর্কের রসায়ন কী? ছবি:সংগৃহীত।
কারও কারও ধারণা, সম্পর্ক মানেই সমস্যা! কেউ বলতেই পারেন, চারদিকে যা সব ঘটতে দেখা যাচ্ছে তাতে আর সম্পর্কে বিশ্বাস রাখা যায় না। আসলে, সম্পর্কে যেমন ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা লাল সংকেত থাকে, তেমনই থাকে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ বা সবুজ সংকেত-ও। সম্পর্ক পোক্ত করতে হলে শুধু নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা নয়, খুঁজে বার করা দরকার ইতিবাচক বিষয়গুলিও। সম্পর্ককে সুন্দর করে তোলার জন্য জরুরি মানসিক নিরাপত্তা, দ্বিপাক্ষিক চেষ্টা ও সততা। চার দিকে যখন অল্পেই সম্পর্কে ভাঙনের কথা শোনা যায়, তখন সঙ্গীর কোন গুণে বুঝবেন এই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে? সম্পর্ক কী ভাবে মজবুত করা যায়, সেই ব্যাপারে এক সাক্ষাৎকারে পরামর্শ দিলেন দিল্লির মনোবিদ দামিনী গ্রোভার।
মানসিক দায়বদ্ধতা: সম্পর্কে ওঠাপড়া, মতবিরোধ থাকবেই। পরিস্থিতি যেমনই হোক, মানসিক ভাবে সঙ্গীর পাশে থাকা জরুরি। যে সম্পর্কে সেটা রয়েছে, সেই সম্পর্কের ভিত মজবুত। ভুল করেও অন্যকে দোষারোপ করার মানসিকতা যেমন ক্ষতিকর, তেমনই ভুল করলে সেই ভুল স্বীকার করা, সম্পর্ককে আগলে রাখার ভাবনা ইতিবাচক।
মতবিরোধে কার কী ভূমিকা: যুগলের মধ্যে বহু বিষয়েই দ্বিমত থাকতে পারে। দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধ কে, কী ভাবে সামলাচ্ছেন তা দেখা জরুরি। ঝগড়ার সময়ে অপমানজনক কথা, ব্যক্তিগত স্তরে কুরুচিকর আক্রমণ থাকছে না কি আত্মনিয়ন্ত্রণ করে পরে আবার সম্মান নিয়ে অন্য পক্ষ কথা বলতে আসছেন, তা দেখা জরুরি। সম্পর্ক মজবুত করার জন্য বিরোধের সময়েও পারস্পরিক সম্মান এবং শ্রদ্ধা থাকা জরুরি।
ধারাবাহিকতা: সম্পর্কের শুরুতে যে উন্মাদনা থাকে, লম্বা সময়ের পরে তা থিতিয়ে যায়। তবে মানসিক সংযোগ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকাটাই কাম্য। একে অপরকে দেওয়া কথা রাখা, বিশ্বাস রাখা কিংবা পাশে থাকার মানসিকতাই সুসম্পর্কের ভিত্তি।
পরিণতমনস্কতা: একজন যখন খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, সেই সময়ে সঙ্গীর ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন পরিস্থিতিতে সঙ্গী কী ভাবে পাশে থাকছেন, অন্য পক্ষকে সামলাচ্ছেন তার উপরে সম্পর্কের বাঁধন কতটা মজবুত হবে তা নির্ভর করে। সঙ্গীর সমস্যায় সমব্যথী হওয়ার মানসিকতা সম্পর্ককে পোক্ত করে তোলে।
মানসিক নিরাপত্তা: যাই হয়ে যাক না কেন, পাশের মানুষটি কখনও ছেড়ে যাবেন না, সবসময়ে পাশে থাকবেন- এই অনুভূতি মানসিক নিরাপত্তা জোগায়। সম্পর্কে নিরাপত্তা থাকলে উদ্বেগ, অবসাদের পরিস্থিতি সামলানো অপেক্ষাকৃত সহজ হয়।
মনোবিদের কথায়, সম্পর্কের স্থায়িত্ব শুধু ভালবাসা বা দু’জন মানুষ কতটা নিখুঁত তার উপরে নয়, বরং নির্ভর করে পারস্পরিক বিশ্বাস, ভরসা এবং তাঁদের আন্তরিক চেষ্টার উপরে।