পোষ্যের যত্নে কোন ধরনের ভুল এড়ানো দরকার? ছবি: সংগৃহীত।
বাড়িতে এসেছে ‘আদরিনী’। ২ মাসের ল্যাব্রাডর ছ’মাসেই হয়ে উঠেছে নাদুসনুদুস। এমন কুকুরছানাকে নিয়ে বাড়িতে আহ্লাদের বন্যা। কিন্তু আদরিনীকে টিকা দেওয়ার সময়ে পশুরোগ চিকিৎসক জানালেন, তার ওজন অত্যন্ত বেশি। অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে সে অসুস্থ হয়ে পড়ার আগেই মেদ ঝরানো দরকার।
বাড়িতে পোষ্য আনলেই হল না, তার সঠিক দেখভালও জরুরি। পোষ্যের ভাষা বুঝতে না পারলে তার আদরযত্নে ভুলও হতে পারে। আর তাতেই ক্ষতি হবে পোষ্যের স্বাস্থ্যের। প্রথমবার পোষ্য বাড়িতে আনলে, অনেকেই খুব সাধারণ কিছু ভুল করে বসেন। তারই প্রভাব পড়তে পারে কুকুর বা বিড়ালের শরীরের উপর। কোন ধরনের ভুল এড়ানো দরকার?
ডায়েট এবং পরিমাণে ভ্রান্তি: ছোট্ট কুকুরছানাকে যদি এক ঘণ্টা অন্তর দু’বার খাবার দেওয়া হয় সে খেয়ে নেবে। বাটি ভর্তি করে দিলেও নিমেষে সে সব সাবাড় করে দেবে। তা দেখে মনে হতেই পারে তার বুঝি খিদে বেশি পায়। আসলে কুকুরছানা বুঝতেই পারে না কতটা খাওয়া দরকার। তাই পোষ্যের বয়স এবং ওজন অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করতে হবে। কোন বয়সে কী খাবার, কতটা খাওয়ানো উচিত সে ব্যাপারে পশুরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দাঁত: পোষ্যের দাঁত এবং মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ। না হলে মুখ থেকেই সংক্রমণ হতে পারে। সেই সংক্রমণ পেট পর্যন্ত গেলে অসুস্থ হয়ে পড়বে পোষ্য। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পোষ্যের মাজন দিয়ে তাদের দাঁত মাজানো যেতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা: পোষ্যেরও নখ কাটার দরকার হয়। তাদের লোম বড় হয়ে গেলে সেগুলি ছাঁটা, নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী শ্যাম্পু করার দরকার হয়। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে পোষ্যকে শুধু দেখতে ভাল লাগবে না, তার রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
আচমকা আচরণ বদল: পোষ্যের আচরণে যদি আচমকা বদল হয়, খিদে কমে যায় বা সে হাঁকডাক বেশি করে বা ঘুম না হয়, তা হলে সতর্ক হওয়া দরকার। পোষ্যের শরীরে কোনও সমস্যা হলে সে বোঝানোর চেষ্টা করলেও, বোঝা মুশকিল হতে পারে। সে কারণে, তার আচরণগুলি খেয়াল করা দরকার।
শারীরচর্চা: বেশ কিছু প্রজাতির সারমেয়র খুব দ্রুত ওজন বাড়ে। বিশেষত বাড়ির চার দেওয়ালে আটকে থাকে বলে তাদের সেই ভাবে হাঁটাচলা বা দৌড়ঝাঁপের সুযোগ থাকে না। খোলা হাওয়ায় খেলাধুলো করলে বা হাঁটলে তাদের শারীরচর্চা হবে। নিয়ম করে সারমেয়কে হাঁটানো সম্ভব না হলে, বাড়িতেই শারীরচর্চা করানো দরকার।
পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পোষ্যকে পশুরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ে যাতে তাদের টিকা দেওয়া হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখা দরকার।