Bizarre

পিঠে সুড়সুড়ি দিলেই ঘণ্টায় মিলবে ৯০০০ টাকা! সমাজমাধ্যমের দৌলতে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’

এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা টাকার বিনিম পিঠ চুলকে দিতে পারেন, এটাই তাঁদের পেশা। এই পেশায় আয়ও কম হয় না। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৯ হাজার টাকার মতো রোজগার করা যায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৩১
Share:

পিঠ চুলকোনোই যখন পেশা। ছবি: সংগৃহীত।

পিঠে চুলকানি হলে যত ক্ষণ না হাতের কাছে কিছু দিয়ে মনের সুখে চুলকাচ্ছেন তত ক্ষণ শান্তি নেই। মাঝেমধ্যেই বাড়ির বড়দের মুখে শোনা যায়, ‘‘পিঠটা একটু চুলকে দিবি!’’ এই আবদার মেটাতে গিয়ে কখনও কখনও আবার ছোটরা বিরক্তও হয়। আর আশেপাশে কেউ যদি না থাকে তা হলে কাঠের ‘হাত’ কিংব চিরুনিই ভরসা।

Advertisement

যদি বলা হয়, মানুষের এই ভোগান্তিরও সমাধানও এখন সম্ভব হয়েছে। এমন অনেকেই আছেন যাঁরা টাকার বিনিময় পিঠ চুলকে দিতে পারেন, এটাই তাঁদের পেশা। এই পেশায় আয়ও কম হয় না। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৯ হাজার টাকার মতো রোজগার করা যায়।

মশকরা মনে হলেও, বিষয়টি কিন্তু সত্যি। বিদেশে অনেকেই এই পেশা বেছে নিচ্ছেন। বিদেশে এই পেশার নাম ‘স্ক্র্র্যাচ থেরাপিস্ট’। নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রশিক্ষিত পেশাদাররা স্টুডিয়ো এবং স্পা-তে ‘স্ক্র্যাচিং সেশন’ অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় ধরে পিঠ চুলকে দেওয়ার সেশন পরিচালনা করেন। প্রতি ঘণ্টার জন্য ১০০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯,০০০ টাকা) পারিশ্রমিক নেন তাঁরা। গ্রাহকেরা ঠিক সে ভাবেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেন, যে ভাবে তাঁরা মাসাজ বা ফেসিয়ালের জন্য করেন। তবে মালিশ করার পরিবর্তে এখানে মনোযোগ দেওয়া হয় নখের হালকা স্পর্শ বা সুড়সুড়ির দিকে, মাথার ত্বকে আলতো হাতে মালিশ করার উপর।

Advertisement

এর উদ্দেশ্য এলোমেলো ভাবে চুলকানো নয়। এই সেশনগুলিতে ধীর গতিতে দক্ষতার সঙ্গে শরীরের উপর নখ বোলানো হয়। এই পদ্ধতি স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করার জন্য ব্যবহার করা হয়। গবেষণা থেকে জানা যায়, ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’তে ত্বক ও মস্তিষ্কের যোগাযোগের প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানো হয়। ত্বকের উপর আলতো হাতে নখের আঁচড় মস্তিষ্কে আরামের বার্তা পাঠায়।। হালকা চুলকানি সংবেদী স্নায়ুগুলিকে সক্রিয় করে, যা মস্তিষ্কে আনন্দের সঙ্কেত পাঠায়। এর ফলে এন্ডরফিন ও সেরোটোনিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়। এই রাসায়নিকগুলি মেজাজ ভাল করে, মানসিক চাপ হ্রাস করে আর ভাল ঘুমের আমেজ আনতেও সাহায্য করে।

নিউ ইয়র্কে অনুশীলনকারীরা অফলাইন বা অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’ শিখছেন। কোর্সগুলির খরচ প্রায় ২০,০০০ থেকে ২১,০০০ টাকা হতে পারে। এই থেরাপিতে স্বাস্থ্যবিধিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়, যার মধ্যে পরিষ্কার নখ, জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম এবং ত্বকের সুরক্ষা সম্পর্কে নানা তথ্য সম্পর্কে অনুশীলনকারীদের ওয়াকিবহাল করানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার কারণে ‘স্ক্র্যাচ থেরাপির’ চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। স্ক্র্যাচ থেরাপি কখনও কখনও পুরো শরীরেও করা হয়। এই থেরাপিতে চুলকানি উপশমের পরিবর্তে মানসিক চাপ কমানোর উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement