Wedding Shoes

বিয়ের দিনে পাদুকাবিলাস

নয়নাভিরাম রাজকীয় সৌন্দর্য, আবার পরেও আরাম— এমন জুতোই এখন বর-কনেদের বেশি পছন্দ।

চিরশ্রী মজুমদার 

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:৫৯
Share:

ছবি সৌজন্য: রোহন অরোরা।

এক সময়ে বিয়ের জুতো বলতে হবু কনেরা বুঝতেন জরি আর পাথরবসানো হাই-হিল স্যান্ডাল, রং হয় সোনালি নয়তো লাল। তাঁরা মেনে নিতেন, স্টাইলিশ জুতো মানে সেটি কষ্টকরই হবে। পায়ে চেপে বসে লাল দাগ করে দেবে, ফোস্কা পড়বে, বেশি হাঁটাচলা করা যাবে না। এখন এই কাহিনিটা বদলে গিয়েছে। আধুনিক কনেরা চান, বিয়ের জুতো যতই শৌখিন হোক না কেন, আরামপ্রদও হতে হবে। তাই এখন বিয়ের জুতো হয় নরম চামড়ার, স্ট্র্যাপ ও সোলগুলোও নরম উপাদানেই তৈরি, ভিতরে থাকে ফোম। নকশাতেও বৈচিত্র এসেছে। কাচের কাজ বা জরদৌসি এখনও জনপ্রিয়, হ্যান্ডমেড মোটিফ বসানো আর এমব্রয়ডারি করা জুতির চল বেড়েছে। শুধু পোশাকের সঙ্গে ‘ম্যাচিং’ বিয়ের জুতোতেই তৃপ্ত নয় নতুন প্রজন্ম। তারা চাইছে, শাড়ি, লেহঙ্গা, শেরওয়ানি বা সুট— যা-ই পরুন, জুতো জোড়াকে যেন সেই পোশাকেরই অংশ বলে মনে হয়।

ছবি সৌজন্য: রোহন অরোরা।

কনের মন বুঝে

নকশাশিল্পীরা বলছেন ব্লক হিল, ওয়েজ হিলের কদর বেশি। সবচেয়ে লক্ষণীয় হল, ফ্ল্যাট মোজরিও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জুতোয় লেস স্ট্র্যাপ, নানা রকম চার্ম থাকছে, ডিট্যাচেবল হিল তো খুবই কাজের। আসলে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলিতে অনেকক্ষণ পরা যায় এমন জুতোর খোঁজই বেশি করছেন নতুন প্রজন্মের মেয়েরা। শু-ডিজ়াইনার রোহন অরোরা বললেন, “ভাস্কর্যের মতো কারুকাজ করা ব্লক হিল স্যান্ডাল, সূক্ষ্ম নকশা করা জুতোগুলি এক নজরেই পছন্দ হয়ে যাবে। শীতের বিয়েতে ভেলভেট, রেশম, গাঢ় রঙের জুতো চলে বেশি। কিন্তু গরম পড়ছে। এমন জুতো বাছুন যা চেপে বসে থাকবে না, হাওয়া চলাচলে অসুবিধা হবে না। আর এখন রংও বাছুন হালকা।” গরমের বিয়েতে শ্যাম্পেন বা নুড রঙের ব্লক হিল জুতো ভাল লাগবে। জরদৌসি নকশা করা মোজরি বা স্লিপ-অন সব ঋতুতেই চলে। বর্ষাকালে বিয়ে হলে এমন জুতো কিনুন, যা সহজে পিছলে যাবে না।

সকালবেলার হালকা সাজের সঙ্গে রঙিন ফুলের নকশা করা ফ্ল্যাট চপ্পল, সন্ধেবেলায় ভারী পাড়ের লেহঙ্গার সঙ্গে ব্লক হিলের স্যান্ডাল পরুন, বেনারসির সঙ্গে আইভরি রঙের জুতো পরতে পারেন, বিয়ের শাড়ি বা অন্য পরিধেয়র সুতোর বুননটি বিয়ের জুতোয় ‘রিপিট’ করারও ট্রেন্ড রয়েছে।

এখন অনেক বিয়েই হয় খোলা মাঠের মধ্যে মণ্ডপে। ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের শখ অনেকের। এ সব ক্ষেত্রে ভেনু বুঝে জুতোর হিল বাছুন। আর বাড়তি জুতো সঙ্গে রাখবেন। বিয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য একাধিক জুতোজোড়া কেনার যেমন রীতি, তেমনই বিয়ের জুতো পরে নানা পার্টি-অনুষ্ঠানে যাওয়াও কিন্তু তরুণদের ভারী পছন্দের। গায়ে হলুদের জন্য কমলা ঘেঁষা রঙের নকশাকাটা চপ্পল আর বিয়ের জন্য মানিকের মতো উজ্জ্বল লাল রঙের জুতো খুব সুন্দর দেখাবে।

ছবি সৌজন্য: রোহন অরোরা।

তাকলাগানো বরের জুতো

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের হিরে বসানো জুতোজোড়ার গল্প বাঙালিরা কখনওই ভুলতে পারবে না। এই একুশ শতকে সেই স্বপ্নের জুতোই মিলছে বাস্তবে। আসলে ঠিক ওই রকম স্টাইলেই তাক লাগানো কোনও মোটিফ বসানো হচ্ছে এখন ছেলেদের জুতোয়। এই ট্রেন্ডের সন্ধান দিয়ে রোহন বললেন, “ছেলেরা অক্সব্লাড মেরুন, অ্যান্টিক ব্রাউন, বার্নিশড ব্ল্যাক রঙের হ্যান্ড ফিনিশড লেদারের জুতোগুলি দেখতে পারেন। এতে অল্প এমব্রয়ডারি, শুঁড়ের মতো অংশ বা ছোট্ট কোনও ধাতব অলঙ্করণ যেমন সিংহের মুখ বা কোনও লোগো ইত্যাদি থাকলে রাজকীয় দেখাবে। বিয়ের অনুষ্ঠানে এমব্রয়ডারি করা মোজরি আর সান্ধ্য অনুষ্ঠানগুলিতে সুতোর নকশা করা লোফার্স আদর্শ।” স্পোর্টস শু-তেও এমব্রয়ডারি থাকছে বা দামি মোটিফ বসানো হচ্ছে। এগুলিও নিমেষে নজর কাড়ে।

ছবি সৌজন্য: রোহন অরোরা।

শাড়ি ও স্নিকার্সের যুগলবন্দি

বিয়ের অনুষ্ঠানে জুড়ে গিয়েছে সঙ্গীত, ব্যাচেলরস আর স্পিনস্টারস পার্টি, গভীর রাতের আফটারপার্টি ইত্যাদি। তাই নাচার সময় যাতে জুতো খুলে রাখতে না হয়, তার জন্য কনের সাজেও ঢুকে পড়েছে স্নিকার্স। রিসেপশনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গেও কেতাদুরস্ত লাগে এই ড্রেস স্নিকার্স। ওজনে হালকা, ফোমের পরত বেশি থাকে আর স্নিকার্সের গায়ে নানা সূচিশিল্পের কারিগরি, তসরের মোটিফ বা জরিপাড় বুনে দেওয়া হয়। শুনতে আশ্চর্য, দেখতে অনবদ্য। ছেলেরাও শেরওয়ানির সঙ্গে হাতে তৈরি চপ্পলের বদলে ফিউশন ড্রেস স্নিকার্স পরছেন। এর চমক আর আভিজাত্যই আলাদা। বর-কনের শেরওয়ানি ও লেহঙ্গার সঙ্গে মানানসই কাপল ড্রেস স্নিকার্স আগে থেকে অর্ডার দিয়ে তৈরি করিয়ে নেওয়া যায়।

রোহন বললেন, “এর সঙ্গে জুতোয় দম্পতির নামের আদ্যক্ষর, বিয়ের তারিখ বা কোনও বিশেষ চিহ্ন বুনে দেওয়ার আবদার প্রায়ই করেন নবদম্পতিরা।” দু’জনের পোশাকের কোনও নির্দিষ্ট মোটিফ বা টোন জুতোয় রাখা হয়, লেস আর স্ট্র্যাপ জুড়ে দেওয়া হয়, একই রকম ছবি প্রিন্ট করে দেওয়া হয়, মেয়েদের নূপুরের নকশার শু চার্মও লাগিয়ে নেন অনেকে।

বিয়ের জুতো কেবল বিশেষ কয়েকটি দিনের সাজ-সঙ্গীই নয়, স্বয়ংসম্পূর্ণ অলঙ্কার, আজীবনের স্মৃতি ও সম্পদ। এ বার কেউ বলুক তো দেখি— ‘জুতে লিয়ে হ্যায়, নেহি চুরায়া কোই জ়েবর।’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন