পানশালাতেই খুঁজে পাবেন মনের ডাক্তার। ছবি: সংগৃহীত।
সারা বিশ্ব যা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে, জাপান কিন্তু অনেক আগেই সেই কাজ এগিয়ে রাখে। ভাবুন তো, ঠিক চাকরি ছাড়ার আগের রাতে যখন মন চাইবে নিজের মধ্যে হারিয়ে যেতে, একটু মদ্যপান করতে, একটু লোকজনের থেকে পরামর্শ নিতে, তখনই কাছের বন্ধুটির খোঁজ পাওয়া মুশকিল। জাপানে এমনটা হলে, নিরাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। বসের তিক্ত ব্যবহার ভুলতে সাহায্য করবে জাপানের য়োকোহামায় অবস্থিত তেনসোকু সোদান নামের এক পানশালা। সেই রাতের জন্য বিনামূল্যে বিভিন্ন পানীয়ে চুমুক দিতে পারবেন গ্রাহকেরা।
জাপানের এই পানশালার ভাবনা সত্যিই অবাক করর মতো। চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই সহজ কাজ নয়। এই সিদ্ধান্তের পিছনে থাকে অনেকটা সাহস আর অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হওয়ার প্রস্তুতিও। মনের এই উথাল-পাথাল পরিস্থিতির মাঝেই গ্রাহকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়েছে তেনসোকু সোদান। এই ঠিকানায় রকমারি পানীয়ের সঙ্গে আগামী দিনে পেশাজীবন কেমন হতে পারে, সেই বিষয় নানা চর্চা, পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও মিলবে।
তেনসোকু সোদান পানশালার বিশেষত্ব লুকিয়ে সেখানকার পানীয় পরিবেশক বা ওয়েটারদের মধ্যেই। আর পাঁচটা সাধারণ পানশালার পরিবেশকদের থেকে তাঁদের দায়দায়িত্ব অনেকটাই বেশি। তাঁরা আগামী দিনের পথ দেখাতে সাহায্য করবেন। চাকরিতে কোনও রকম সঙ্কট দেখা দিলে অনেক কম মানুষই আছেন, যাঁরা তথাকথিত ‘জব কাউন্সিলার’দের কাছে যান। এর কারণ একটা গোটা বিষয়টি বড্ড বেশি বিধিবদ্ধ। আগে থেকে সময় নেওয়া, সেখানে গিয়ে বসে থাকা— সব কিছু অনেক বেশি সময়সাপেক্ষও বটে। তেনসোকু সোদানের বেয়ারারাই ‘জব কাউন্সিলার’-এর কাজ করবেন অথচ গোটা বিষয়টিতে থাকবে না বিশেষ কোনও বাগাড়ম্বর। পছন্দের পানীয়ে চুমুক দিতে দিতেই কর্মজীবনের সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা চলবে, ঠিক কোনও বন্ধুর সঙ্গে জীবনের ভাল-মন্দ ভাগ করে নেওয়ার মতো করে।
এই পানশালায় কাউন্সেলিং সেশন বুক করলেই গ্রাহকেরা পাবেন বিনামূল্যে রকমারি পানীয়। মদ্যপানে আগ্রহী নন, এমন গ্রাহকের জন্য রয়েছে অ্যালকোহল মুক্ত নানা পানীয়ের সম্ভারও। জাপানে কর্মসংস্কৃতি অনেক দীর্ঘ সময় ধরে কাজের কথা বলে, সে কারণে চাকরিজীবীদের মনে অনেক সময়েই চাকরি ছাড়ার ভাবনা আসে। সেই কর্মীদের মানসিক ভাবে সাহায্যের জন্যই এমন উদ্যোগ শুরু করেছে তেনসোকু সোদান পানশালা।