গ্রাফিক: এআই সহায়তায় প্রণীত।
১৪ বছরের এক বালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করেছিলেন। নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন সিবিআইয়ের সাব-ইনস্পেক্টর বলে। মাস চারেক পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঠাকুরপুকুর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করল পুলিশ। গ্রেফতার অভিযুক্তও।
পুলিশ সূত্রে খবর, কিছু দিন আগে বারুইপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল। কিন্তু অপহৃত মেয়েটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষমেশ সূত্রমাফিক পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বারুইপুর থানার এসআই সুকুমার রুইদাসের নেতৃত্বে ঠাকুরপুকুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়ে। সেখানকার একটি বাড়ি থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধরা পড়েন অভিযুক্তও।
জানা গিয়েছে, ধৃতের বাড়ি কলকাতার বালিগঞ্জে। তিনি নিজেকে সিবিআই অফিসার বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়েছিলেন। অভিযুক্তের কাছ থেকে নকল আইডেন্টিটি কার্ড, ভোটার কার্ড ইত্যাদি পাওয়া গিয়েছে।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় চার মাস আগে ওই নাবালিকাকে অপহরণ করেন বালিগঞ্জের যুবক। ঠাকুরপুকুরে একটি ভাড়াবা়ড়িতে মেয়েটিকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। অনেক দিন ধরে মেয়ের খোঁজ না পেয়ে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি নাবালিকার পরিবার অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে থানায়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সিবিআই অফিসার হিসাবে পরিচয় দিয়ে এ ভাবে অল্পবয়সি মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন অভিযুক্ত। যে এলাকায় তিনি ভাড়া থাকতেন, তার আশপাশ এলাকার নাবালিকাদেরই মূলত ‘টার্গেট’ করতেন যুবক। ছয় মাস আগে বারুইপুরের মল্লিকপুর এলাকায় ওই নাবালিকার বাড়ির কাছে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন অভিযুক্ত। নানা প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন তিনি। তার পর সুযোগ বুঝে নাবালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যান।
এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, এ ভাবে কত নাবালিকাকে ফাঁসিয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপহরণের সঙ্গে সঙ্গে যৌন নির্যাতনের মামলা করেছে মেয়েটির পরিবার।