গলসিতে অধীর। —নিজস্ব চিত্র।
ফসলে ক্ষতির জেরে আত্মহত্যার অভিযোগ ওঠার পরে বর্ধমানের মৃত দুই চাষির পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অধীর চৌধুরী। শনিবার সন্ধ্যায় গলসি ও ভাতারে ওই দুই গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার পরে ফসলে ক্ষতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের উপরে দায় চাপান তিনি।
অধীরবাবুর অভিযোগ, ‘‘এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। বারবার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে চাষিদের। জল নিয়ে ডিভিসি-র সঙ্গে আগেই রাজ্য সরকারের কথা বলা উচিত ছিল। তারা তা না করায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।’’ যদিও শনিবারই, বর্ধমান জেলা প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়, জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে জানা গিয়েছে, এই চাষিদের মৃত্যুর সঙ্গে ফসলে ক্ষতির কোনও সম্পর্ক নেই। স্বাস্থ্যজনিত ও পারিবারিক সমস্যার কারণেই এমন ঘটেছে।
এ দিন সন্ধ্যায় অধীরবাবু ও বর্ধমান জেলা (গ্রামীণ) কংগ্রেস সভাপতি আভাস ভট্টাচার্য প্রথমে পৌঁছান গলসির তারানগর গ্রামে, আত্মঘাতী চাষি প্রদীপ মাজির বাড়িতে। সেখানে ওই চাষির স্ত্রী ঝর্ণাদেবীর হাতে কিছু অর্থ সাহায্য তুলে দেওয়া হয়। ওই এলাকায় দাঁড়িয়েই অধীরবাবুর দাবি, ‘‘পরিবারটি হতদরিদ্র। চাষের দেনাতেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই চাষি।’’ এ দিন গলসি যাওয়ার পথে কিছু লোকজন অধীরবাবুর উদ্দেশ্যে ‘গো ব্যাক’ আওয়াজ তোলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, তাঁরা তৃণমূল কর্মী। গলসি থেকে অধীরবাবুরা ভাতারের ঝুজকোডাহা গ্রামের আত্মঘাতী চাষি কালীপদ মাজির বাড়িতে যান। সেখানেও কালীপদবাবুর পরিবারের হাতে কিছু নগদ টাকা তুলে দেওয়া হয়।
দু’টি গ্রামেই চাষিরা অধীরবাবুকে জানান, সেচের জল না মেলায় আমন ধানের চাষে ক্ষতি হচ্ছে। দাম মিলছে না ফসলেরও। স্থানীয় চালকলগুলি ৩০ বস্তার বেশি ধান কিনছে না। ধান কেনার তিন মাস পরেও দাম মিলছে না বলে অভিযোগ চাষিদের। গ্রামবাসীদের অভিযোগ শুনে গলসির তারানগর গ্রামে দাঁড়িয়েই অধীরবাবু ডিভিসি-র এক কর্তাকে ফোন করে গলসি-সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় জল সরবারহের পরিস্থিত নিয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা নবকুমার বাগ বলেন, ‘‘অধীরবাবু যদি সেচের জলের বিষয়ে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে কিছু করতে পারেন তাহলে আমরা উপকৃত হই।’’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির আশ্বাস, ডিভিসি যাতে বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আমন চাষের জন্য কিছুটা জল ছাড়ে, তার জন্য তিনি দিল্লিতে কথা বলবেন।